ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও সাংবাদিক-যুবদল কর্মীসহ আসামি ২৩ জন


ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও সাংবাদিক-যুবদল কর্মীসহ আসামি ২৩ জন

 

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অন্তত ২৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে, যাদের মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, স্কুলশিক্ষক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী এবং পবিত্র ওমরাহ পালনে মক্কায় অবস্থানরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

অভিযুক্তদের দাবি, তারা মিছিলের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধুপুরে আকাশী গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান ক্লাবের বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার ও চারা বিতরণ

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। এর পর সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পুলিশ পরে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে শওকত হাসান সৈকত, যিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ডিজিটাল প্রতিনিধি। এছাড়া কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে রাসেল আহমদ, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কাদের পাশা, বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের জাবের আহমদ জাবেদ এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের রাজন চন্দের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া বাদাঘাট ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের আজহারুল ইসলাম সোহাগ, হাসান মিয়া, ইকবাল, ফারুক, বিপ্লব হাসান ইমন, জুয়েল আখুঞ্জি, শাহিন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, সাজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, মিয়া হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, শাকিল আহমদ লিজান এবং লিক্সন মিয়া সহ অন্তত ২৩ জন ঘটনার সময় মিছিলস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।

মামলার আসামি সাজ্জাদ, যিনি তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি, বলেন, "আমি মাদক ব্যবসায়ীদের ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার। মাদকের বিরুদ্ধে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কারণে কিছু অসৎ লোক আমাকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। তবে যতদিন বাঁচব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। এতে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না।"

আরও পড়ুন: টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কার্যক্রম বন্ধের দাবি, দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার আহ্বান

বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ মন্তব্য করেন, "আমি ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের সক্রিয় কর্মী। মামলায় আমার নাম কীভাবে এলো, আমি বুঝতে পারছি না। কারও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এমনটি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।"

সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, "ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমাকে আসামি করার কোনো কারণ আমি বুঝে উঠতে পারছি না।" তিনি আরও জানান, "উপজেলায় সক্রিয়ভাবে সাংবাদিকতা করার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আমাকে নিয়মিত সংবাদ করতে হয়। এ কারণে হয়তো উপজেলা বিএনপির কিছু নেতার কাছে আমি বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে পারি। একটি মিথ্যা মামলার কারণে গত সাত দিন ধরে আমাকে ফেরারি জীবনযাপন করতে হচ্ছে।"

সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, "সৈকত আপাদমস্তক একজন সাংবাদিক। ঘটনার দিন তিনি তাহিরপুরেই ছিলেন। আর তাহিরপুরে থেকে একজন কীভাবে মধ্যনগরের মিছিলের মামলার আসামি হয়, সেটি বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং সৈকতসহ নির্দোষ ব্যক্তিদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়, সে দাবি জানাচ্ছি।"

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঝুঁকি জেনেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তবে মামলায় এমন কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের কেউ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছিলেন কিংবা মিছিলের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৪

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, "যারা মিছিল করেছে, তাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাদের রেখে নিরপরাধদের মামলার আসামি করা হয়েছে, এটা দুঃখজনক। মূলত ব্যক্তি আক্রোশ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য এমনটা করা হয়েছে।"

তবে মামলার বাদী শাহাজাহান মিয়া আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানান, "তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে আসামিদের তালিকা থানায় দিয়েছেন। এতে আমি বাদী হয়েছি।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা যথাযথভাবে যাচাই না করে কিংবা ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে মামলা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত জড়িতদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, "মামলার বাদী পুলিশ নয়, অন্য একজন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ অঞ্চলে পাঁচ সাংবাদিক হত্যা, বিচার না পেয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবিকতায় উজ্জ্বল গোমস্তাপুর: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


মানবিকতায় উজ্জ্বল গোমস্তাপুর: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান

টাকার অভাবে ছেলের পড়ালেখা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অনিশ্চয়তা আর হতাশা নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য যে মা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তাঁর পাশে আশার আলো হয়ে দাঁড়ালেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও কার্যালয়ে ওই অসহায় মায়ের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা।

জানা গেছে, পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটে পড়ে ওই নারী তাঁর ছেলের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি গোমস্তাপুরের ইউএনও জিল্লুর রহমানের নজরে আসামাত্রই তিনি আর দেরি করেননি; পরম মমতায় বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

সহায়তা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। দিনে-রাতে কেবল একটাই চিন্তা তাড়া করে বেড়াত। ইউএনও স্যারের এই সহযোগিতা আমার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমি সারা জীবন তাঁর এই অবদান মনে রাখব।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মো. জিল্লুর রহমান গোমস্তাপুরের অসহায় ও মেহনতি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, এমন একের পর এক মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ইউএনওর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপদে এভাবে এগিয়ে আসা সত্যিই অনুকরণীয়। এমন অফিসারদের হাত ধরেই সমাজ বদলে যায়।

নিজের এই মানবিক পদক্ষেপ নিয়ে ইউএনও জিল্লুর রহমান অত্যন্ত বিনীতভাবে বলেন, "অসহায় ও আর্তপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল কাজ নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। নিজের সামান্য সামর্থ্য দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর পড়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। মানুষের কল্যাণে আমাদের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে চৌকিদারদের দিকনির্দেশনা দিলেন ওসি আনোয়ার হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


কাউখালীতে চৌকিদারদের দিকনির্দেশনা দিলেন ওসি আনোয়ার হোসেন

পিরোজপুরের কাউখালীতে সপ্তাহব্যাপী মাদক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্ট তামিল বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রাম পুলিশদের (চৌকিদার) নিয়ে এক ব্রিফিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউখালী থানার উদ্যোগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় থানা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন উপস্থিত চৌকিদারদের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ও বিশেষ অভিযান সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি এলাকার প্রতিটি গ্রামে মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও অস্ত্রধারীদের বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং যেকোনো সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।
ব্রিফিং শেষে কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
আমাদের প্রধান লক্ষ্য কাউখালী উপজেলাকে শতভাগ মাদক ও অপরাধমুক্ত করা। সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে আমরা গ্রাম পর্যায়ের তথ্যদাতাদের সক্রিয় করেছি। চৌকিদাররা হলেন তৃণমূল পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল চোখ ও কান। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে তাদের দেওয়া সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কাউখালীতে কোনো অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী বা অস্ত্রধারীর স্থান হবে না। অপরাধ দমনে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাউনসেন্ডকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শেষ আটে সাবালেঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


টাউনসেন্ডকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শেষ আটে সাবালেঙ্কা

 

টেলর টাউনসেন্ডকে সরাসরি দুই সেটে পরাজিত করে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। শেষ ষোলোর ম্যাচে, বেলারুশের এই তারকা টাউনসেন্ডকে ৬-৪, ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন।

 

যদিও স্কোরলাইন দেখে ম্যাচটি সহজ মনে হচ্ছে, তবে লড়াইটি ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ৭৫ মিনিটের ম্যাচে দুই খেলোয়াড় মিলে ১০টি সার্ভিস ব্রেক করেন। দ্বিতীয় সেটে একসময় ৩-১ গেমে পিছিয়ে পড়লেও, সাবালেঙ্কা শেষ পর্যন্ত টানা পাঁচ গেম জিতে জয় নিশ্চিত করেন।

ইউএস ওপেনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুটি শিরোপা জিতেছিলেন সাবালেঙ্কা। সেই ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কে তার অপরাজিত থাকার সংখ্যা বর্তমানে ১৮ ম্যাচ। টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, এবারও তিনি শিরোপার অন্যতম দাবিদার।

 

এই জয়ের মাধ্যমে ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা একটি নতুন কীর্তি গড়েছেন। ২০১৬ সালে সেরেনা উইলিয়ামসের পর, প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা ছয় আসরে সিঙ্গেলসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

তবে সাবালেঙ্কা শুধুমাত্র রেকর্ডে থামতে চান না। নিউইয়র্কে টানা তৃতীয় শিরোপা জিততে পারলে, তিনি সেরেনা উইলিয়ামসের পাশে বসবেন। সেরেনার পর ইউএস ওপেনে টানা তিনবার নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি আর কারও নেই। সেই রেকর্ড ছুঁতে সাবালেঙ্কার প্রয়োজন মাত্র তিনটি জয়।

সাবালেঙ্কার সামনে শেষ আটে এবার একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তার প্রতিপক্ষ হলেন উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন লিন্ডা নোসকোভা। শেষ ষোলোতে, নোসকোভা ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউককে ৭-৫, ৫-৭, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন।

সাবালেঙ্কা-নোসকোভা লড়াইয়ে একদিকে থাকবে টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে থাকবে নতুন চ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস। নিউইয়র্কে রেকর্ডের পথে সাবালেঙ্কা এখন মাত্র তিন ধাপ দূরে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

. কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাত, জামিন দিলেন না আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


. কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাত, জামিন দিলেন না আদালত

 

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে কটূক্তি করার কারণে সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।

শুনানির পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি জানান, তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য বা গালিগালাজের কারণে মামলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, কিন্তু তা মামলার এজাহারে উল্লেখ নেই। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও এই বিষয়ে শুনানিতে কিছু উল্লেখ করেননি।

আইনজীবী রবি আরও জানান, ৪ জুনের একটি মামলায় সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকির রহমান মন্তব্য করেন, সিফাত আব্দুল্লাহ “ফ্যাসিবাদের দোসর”। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছে।

তিনি আরও বলেন, সিফাত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করেছেন এবং ৫ আগস্টের আগে থেকেই ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কাজ করে আসছেন।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলীর নাছের খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি দাবি করেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সিফাত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং তার আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

আলীর নাছের খান আরও বলেন, সিফাতকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা নতুন ফ্যাসিজমের একটি অংশ বলেও মন্তব্য করেন।

পুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো একটি মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%