রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫০ পি.এম
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পিত নগরায়নের পাশাপাশি সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রত্যয়ে রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গায় এক ঘণ্টায় ৬০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী সাইফি রহমানের উদ্যোগে রোববার বিকেলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) প্রান্তিক আবাসিক এলাকায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া কর্মসূচিতে আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা প্রজাতির ৬০০টি চারা রোপণ করা হয়। এতে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সাইফি রহমান বলেন, পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। নগরায়নের কারণে দিন দিন সবুজের পরিমাণ কমে আসছে। এ অবস্থায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শুধু ভবন ও সড়ক নির্মাণ করে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সবুজায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর গড়তে আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
কর্মসূচিতে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত সবুজায়ন নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশও তৈরি হবে।
রোপণ করা চারাগুলো শুধু লাগানোর মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কর্মসূচিতে সাইফি রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সারওয়ার জাহান শিবলী, মাহফুজ আলী মানিক, আতিকুল ইসলাম জনি, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, আ.স.ম. আশরাফুল হুদা সিয়াম ও আব্দুস সাত্তার রানা।
এ ছাড়া শামীম, লাল্টু, বাঁধন, আনারুল, মোহন ও রাতুলসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় সবুজায়ন বাড়ানো ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামীকাল সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম আজ রোববার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিরোধীদলটি গত ৬ মাসে একদিনও আন্দোলন থেকে বিরত ছিল না এবং তারা হুংকারও দেননি। তিনি উল্লেখ করেন, "এক দফার হুংকার দেবেন না, বিএনপি রাজপথ থেকে উঠে আসা দল।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির র্যালি পূর্ব সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি, যা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, এনিসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি উল্লেখ করেন, "লং মার্চে তাদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ফ্যাসিস্টের বক্তব্যের পার্থক্য নেই। সবাই চাচ্ছে সুন্দর বাংলাদেশ।"
মন্ত্রী আরো বলেন, "কিন্তু আমরা নির্বাচন করে পারলাম, উনারা আন্দোলন শুরু করলেন এবং এ আন্দোলন নিয়ে যাবেন ১ দফার আন্দোলনে। ১ দফার হুংকার দেবেন না, বিএনপি রাজপথ থেকে উঠে আসা দল, ১৭ বছর রাজপথ থেকে লড়াই করে উঠে আসা দল।"
তিনি আরও বলেন, ৬ মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয় এবং দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য কষ্ট করছে।
মন্ত্রী বলেন, "যদি অন্তর্বর্তী সরকার কাজে হাত দিত তাহলে আমরা এ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারতাম। কিন্তু আজকে যারা গ্যাস নেই, বিদুৎ নেই স্লোগান দিয়ে লংমার্চ করছেন- এটা এ সময়ে যুক্তিযুক্ত নয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের ভাড়া যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের নয়
গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, মিটার ভাড়া এবং অন্যান্য অভিযোগের কারণে, যা প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার রিচার্জের সময় দেখা দিয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি) জরুরি ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
সম্প্রতি ডিপিডিসি জানায়, গ্রাহকদের ভোগান্তি ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রিপেইড মিটার, বিলিং, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, মিটার ভাড়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
মিটার ভাড়া কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
যেসব গ্রাহক নিজ খরচে প্রিপেইড মিটার কিনে স্থাপন করেছেন, তাদের জন্য কোনো মিটার ভাড়া প্রযোজ্য নয়। তবে, ডিপিডিসি কর্তৃক সরবরাহিত মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া কাটা হবে।
যদি মিটার নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রাহক নিজে নতুন মিটার কিনে স্থাপন করেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে মিটার ভাড়া প্রযোজ্য হবে না।
অভিযোগ কোথায় করবেন
ডিপিডিসি জানায়, অস্বাভাবিক বিল, বিলিং-সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবাকেন্দ্র, অভিযোগকেন্দ্র বা ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬-এ যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযোগ করার সময় গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর প্রদান করলে বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ