বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:০১ পি.এম
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল মন্তব্য করেছেন যে, হিমালয়ের পরিবেশগত সংকট শুধুমাত্র নেপালের জন্য নয়, বরং ভারত, চীন এবং ভুটানের জন্যও একটি সাধারণ হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন, হিমালয়ে বরফ গলানোর ফলে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়, তা শেষ পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায়।
কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড আনভিক্ষা সামিটে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ভারত-নেপাল সম্পর্ককে শুধুমাত্র ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে নয়, বরং পরিবেশগত সহযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে খানাল জানান, এই বন্যার পানি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চীন, নেপাল, ভারত এবং ভুটান হিমালয়ের একই পরিবেশব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও চারটি দেশকে হিমালয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে একত্রে কাজ করতে হবে।
খানাল সতর্ক করে বলেন, হিমালয়ের পরিবেশগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে, যা এই অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি এটিকে একটি ‘সভ্যতাগত হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গোলচত্বর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের রাতুল (১৭) এবং নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ফুকুরহাটি গ্রামের খোকন মাতুব্বরের ছেলে রাজু (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাতুল ও রাজু একটি মোটরসাইকেলে করে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকা থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে দুজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই দুজনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খাঁন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। ঘাতক বাসটি পালিয়ে গেছে। এঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৬২ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন, যাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের অধিকাংশই ভারতীয়। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ফলে নেপালের রাসুয়া অঞ্চলের ভোতেকোশি নদীর আশপাশের বাড়িঘর, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলায় এবং ২৬ জনের মরদেহ নওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
এদিকে, বন্যার পানি বাড়তে থাকায় চিতওয়ানসহ কয়েকটি পৌরসভায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা জঙ্গল সাফারির জন্য জনপ্রিয়। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় আট টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আকস্মিক এই বন্যার কারণ নিয়ে শুরুতে ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও পরে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত থেকেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
আকস্মিক বন্যার কারণ কী
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে এই আকস্মিক বন্যার উৎস কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে শুরুতে নানা ধরনের ধারণা সামনে আসে। তবে বর্তমানে নেপালের কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধস ও বরফ ধসের বিষয়টিই প্রাধান্য পাচ্ছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গের আরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূকম্পন শক্তি আসলে ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল।
নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ধসে পড়ার সঙ্গে পাথর ও অন্যান্য পলিও নিচে নেমে আসতে পারে। এর ফলে নদীর প্রবাহে বাধা তৈরি হয়ে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে এসে এই বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলছে। তবে এবারের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
হিমবাহের কোনো হ্রদ হঠাৎ পানি ছেড়ে দিয়েছিল কি না, নদীর প্রবাহে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হয়েছিল কি না এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের তথ্যও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সীমান্তের তিব্বত অংশেও বিপর্যয়
নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতেও কাদাধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গিয়িরং সীমান্ত চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। বুধবার দুই দেশের সীমান্তে কাদাধস শুরু হওয়ার পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বড় ধরনের হতাহতের খবর জানিয়েছিল।
নিখোঁজের তালিকায় বিদেশিরা
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয়, ইউক্রেনীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই এলাকায় অল্পসংখ্যক নিউজিল্যান্ডের নাগরিক থাকার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া ৫৩ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নেপালের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ইউক্রেনীয়দের কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি ট্যুর কোম্পানির ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, নেপাল তিব্বত সীমান্তে তাঁদের একটি ভ্রমণ দলের সঙ্গে থাকা এক ডজন ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারের কাছ থেকে তিনি হাজার হাজার মিসড কল পাচ্ছেন।
ওই ট্যুর অপারেটর জানিয়েছে, উদ্ধারকাজের জন্য তারা একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি উড়তে পারেনি। কোম্পানিটির চারজন নেপালি ট্যুর গাইডও নিখোঁজ রয়েছেন।
ব্যবস্থাপক কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গাইডদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ওই সময় তাঁদের তিব্বতের অভিবাসন দপ্তরে থাকার কথা ছিল। এরপর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এত পর্যটক সেখানে কেন
যে এলাকায় এই ভয়াবহ বন্যা ঘটেছে, সেটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ধর্মীয় কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। বন্যাকবলিত এলাকার কাছে হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদ রয়েছে।
এর একটি তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর। অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ।
প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরে যান। বছরের এই সময়টিতে বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকেরা মানস সরোবর ভ্রমণ এবং গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নানের জন্য আসেন।
আলপাইন কৈলাস ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পাণ্ডিত জানিয়েছেন, এই পথটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। পূর্ণিমার সময়কে শুভ মনে করা হয়। এ কারণে সাধারণত এই সময়েই পর্যটকেরা এখানে আসেন।
ফলে ধর্মীয় ভ্রমণ ও জনপ্রিয় পর্যটন রুটের কারণে দুর্যোগের সময় এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি ছিল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিয়ে করার আশ্বাসে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বৈষ্ণবদাস গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। মামলায় সালেহীন আকন্দ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে তিনি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ টাকা দেন। চেয়ারম্যান বিয়ের বিষয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়।
শিক্ষিকার অভিযোগ, তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
গাইবান্ধা জজ কোর্টের বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজওয়ান সরকার বলেন, ভুক্তভোগী নারীর নারীর স্বামীকেও তালাক দিতে বাধ্য করেছেন চেয়ারম্যান। আমরা আশাবাদী ন্যায়বিচার পাব।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা হচ্ছে।
বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একইসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারেন।
দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই পটুয়াখালী ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে।
১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল শুরুতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল।
প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইপিজেডটিতে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে।
এ ছাড়া ইপিজেডটিতে সরাসরি প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষের।
ইপিজেডের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে।
বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ১১ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।
পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ।
প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন এবং তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একটি সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের ভেতরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে।
এদিকে প্রস্তুত প্লটের খবর বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহী করে তুলছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীনের আরও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বেপজা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত শিল্প প্লট ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার মাধ্যমে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ