বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ এম
গাজীপুরে আবাসিক হোটেল থেকে একজন নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের সঙ্গে হোটেলে যে ব্যক্তিটি অবস্থান করছিল, তাকে খুঁজছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে মহানগরীর বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় ‘ই ভ্যালি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শান্তা বেগম (৩৩) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি কিছুদিন আগে লিখন মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে ওঠেন। তবে ঘটনার সাথে সাথে ওই ব্যক্তি পলাতক হয়ে গেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় লিখন মিয়া একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যথাযথভাবে যাচাই বা সংরক্ষণ না করেই হোটেল কর্তৃপক্ষ কক্ষ ভাড়া দিয়েছে।
বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুপক জানান যে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আসার পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলা দায়ের করা হবে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য এবং পলাতক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় দ্রত উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের হতাশা কাটিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই সফরে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। দেশে ফেরার ফ্লাইটে ওঠার ঠিক মুহূর্তে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্ল Claudio তাপিয়া এবং তোভিগিনোর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে ও ক্লারিন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটির কারণে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিনিধিদল বহনকারী চার্টার ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে উড্ডয়ন করে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, আর্জেন্টাইন দলটি যখন তাদের ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ফেডারেল এজেন্টরা একটি বাসের ভেতরে তাপিয়া ও তোভিগিনো উভয়কে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে প্রশ্ন করেছেন।
জানা গেছে, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পর্কিত চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই তাপিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাপিয়াকে তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘ মেয়াদে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পনসরশিপ, প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং সম্প্রচার স্বত্বের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় দলের স্পনসরদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলার ওই প্রতিষ্ঠানের মিয়ামিভিত্তিক ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে, কিন্তু সেইসব তথ্য আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আর্থিক বিবরণীতে প্রতিফলিত হয়নি।
এ ছাড়া তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত হয়েছে আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির দায়ের করা প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলার মাধ্যমে। তার অভিযোগ, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ক্ল তাপিয়াও গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেননি।
এখন পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন। কোনও আদালত ক্ল তাপিয়া, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
সূত্র : গোল ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাব্য সংকট, ভাঙা ঘাট, নিরাপদ জেটির অভাব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতায় খুলনা অঞ্চলের নদীবন্দরগুলো কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে দিন দিন। খুলনা ও নওয়াপাড়া নদীবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের আগমন কমে গেছে, পণ্য খালাস প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব ঘাটশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে পড়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা দ্রুত ড্রেজিং, ঘাট সংস্কার ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নদীপথ। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ভৈরব নদী হয়ে সার, কয়লা, পাথর, চালসহ বিভিন্ন পণ্য লাইটারেজ জাহাজে খুলনা ও নওয়াপাড়া নদীবন্দরে আনা হয়। এরপর এসব পণ্য খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু খুলনা নদীবন্দর এলাকায় বিভিন্ন ঘাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কোথাও ঘাট ধসে পড়েছে, কোথাও জাহাজ ভেড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে রয়েছে পর্যাপ্ত জেটির অভাব, ওপেন ইয়ার্ডের সংকট এবং নদীর নাব্য কমে যাওয়ার সমস্যা। ফলে বড় পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে ভিড়তে পারছে না। একই চিত্র নওয়াপাড়া নদীবন্দরেও দেখা যাচ্ছে। সেখানে অনেক জাহাজকে ঘাটের অপেক্ষায় ১০ থেকে ১৫ দিন নদীতে অবস্থান করতে হচ্ছে। ভাটার সময় পানির উচ্চতা কমে গেলে অনেক জাহাজ নদীর তলদেশে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে।
খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির পরিচালক আসিফ আহমেদ বলেন, ‘শুধু অবকাঠামোগত সংকটই নয়, মোংলা বন্দরে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছে খুলনা অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে। গত দুই বছরে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাস প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগায় আর্থিক ঝুঁকিও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজ কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ঘাটশ্রমিকদের জীবনে। এক সময় খুলনা ও নওয়াপাড়ার বিভিন্ন ঘাটে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৫০০ এর নিচে নেমে এসেছে। যাদের কাজ আছে, তাদেরও মাসের অর্ধেক সময় কাটছে কর্মহীন অবস্থায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।’
খুলনা নদীবন্দরের শ্রমিক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় এখানে এখন আগের মতো জাহাজ আসে না। গত দুই বছর ধরে এই অবস্থা চলছে। আগে প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ আসত। এখন সপ্তাহ পার হয়ে যায়, কাজ মেলে না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
আরেক শ্রমিক মো. রুবেল শেখ বলেন, ‘আগে যে আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। অনেক সহকর্মী কাজ না পেয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। আমরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।’
খুলনা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, ‘নদীপথে পণ্য পরিবহনের ওপর রাজস্ব বেড়েছে। অন্যদিকে ঘাট ও নদীর সক্ষমতা কমেছে। দ্রুত ড্রেজিং, নিরাপদ জেটি নির্মাণ, ঘাট সংস্কার এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তবে খুলনা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘নদীর নাব্য উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বন্দরের আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনা নদীবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা এবং নওয়াপাড়া নদীবন্দর থেকে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান না হলে নদীবন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সংকুচিত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির অভিযোগ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে।
একই সময়ে ভারত স্পষ্ট করে বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন: শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে হওয়া এই বৈঠককে পাকিস্তান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, আলোচনার মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলেছে।
পর্বতনেনি হরিশ বলেন, এই বৈঠকে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা ভারতের ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান আলোচনার সুযোগ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরায় ভারতকে তার জবাব দিতে হয়েছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এটি ভারতের সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতেও একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা।
তবে পাকিস্থান ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো, ভারতের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তান ওই অঞ্চলের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই ভূখণ্ড খালি করাই এখন প্রধান বিষয় হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ও তুলে ধরেন। এ সময় পাকিস্তানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে কোনো চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, যদি একটি দেশ একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা ব্যবহার করে।
তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ থাকবে। বক্তব্যের শেষ দিকে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিবিদ। তার ভাষায়, ভারতের সমালোচনা করার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজেদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেয়, তাহলে সেটিই দেশটির জনগণের জন্য বেশি উপকারী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য হলো মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যু একটি সমাপ্তি নয়; বরং এটি হচ্ছে এক নতুন জীবনের সূচনা।
দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী যে জীবন, তাকে বলা হয় আলমে বরজখ। এখানেই শুরু হবে মানুষের প্রথম হিসাব। কবর হবে জান্নাতের বাগান অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
অতঃপর তোমাদেরকে আমাদের কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৫৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবর হতে পারে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬০)
কবরের প্রশ্ন, কবরের নেয়ামত ও শাস্তি—সবই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত। তবে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহের কারণে কবরে কয়েক শ্রেণীর সৌভাগ্যবান মানুষের প্রশ্ন করা হবে না।
তারা হলেন:
১. সীমান্ত পাহারাদার (মুরাবিত)
রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তিনি মৃত্যুর পরও তার নেক আমলের সওয়াব পেতে থাকেন এবং কবরের পরীক্ষার সম্মুখীন হন না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে যে আমল করছিল তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য অব্যাহত থাকবে। তার রিজিকও জারি থাকবে, সে কবরের পরীক্ষার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং কিয়ামতের ভয় থেকেও নিরাপদ অবস্থায় উঠবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৭৬৭)
২. শহিদ
শহিদের মর্যাদা ইসলামে অতুলনীয়।
তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর বিশেষ রহমতের অন্তর্ভুক্ত হন। কবরের প্রশ্ন ও আজাব থেকেও তিনি নিরাপদ থাকবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘শহিদের মাথার উপর তরবারির ঝলকই তার জন্য কবরের ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২০৫৩)
৩. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী
যারা দীর্ঘদিন পেটের কঠিন রোগে ধৈর্যসহকারে কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুবরণ করেন, তাদের জন্যও সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেটের রোগে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে কবরে আজাব দেওয়া হবে না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৬৪)
এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ছাড়াও আরও সাত ধরনের শহিদ রয়েছে—মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, পার্শ্বব্যাধিতে মৃত ব্যক্তি, পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারী।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১১)
এটি আল্লাহর অসীম দয়ারই প্রকাশ যে, কঠিন রোগে ধৈর্যধারণকারীদের তিনি বিশেষ প্রতিদান দান করেন।
৪. নিয়মিত সুরা মুলক তিলাওয়াতকারী
সুরা মুলককে হাদিসে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী সূরা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো 'তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক'।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১)
তাই প্রতিদিন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আল-মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
৫. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারী
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বরকতময় দিন। এই বিশেষ দিনে মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারেও বিশেষ সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান জুমার দিন অথবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)
তবে মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের সুসংবাদ। কারও জন্য গুনাহ করার অবকাশ বা নিশ্চিন্ত থাকার কারণ নয়। একজন মুমিনের উচিত সর্বদা তাকওয়া ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা।
এছাড়াও যাদের সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়—আলেমদের আলোচনা ও বিভিন্ন বর্ণনায় নবী-রাসুলগণ, সিদ্দীকগণ, নাবালেগ শিশু এবং শরিয়তের দায়িত্বমুক্ত (যেমন মানসিক ভারসাম্যহীন) ব্যক্তিদের ব্যাপারে কবরের আজাব বা প্রশ্ন থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সব বর্ণনার মান সমান নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সহিহ বর্ণনাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলা উচিত।
আমাদের করণীয়
কবরের প্রশ্ন থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা লাভের জন্য একজন মুসলমানের উচিত—
১. বিশুদ্ধ আকিদা ধারণ করা।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা।
৩. কোরআন তিলাওয়াত ও আমল করা।
৪. নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার করা।
৫. সুরা মুলক পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৬. মানুষের হক আদায় করা।
৭. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমলে অবিচল থাকা।
কবরের জীবন আখিরাতের প্রথম ধাপ। সেখানে সফলতা অর্জন করতে পারলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হবে, আর সেখানে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুতরাং একজন মুমিনের প্রকৃত প্রস্তুতি হওয়া উচিত—দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন নয়, বরং কবর ও আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ঈমানের ওপর অটল রাখেন, কবরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার তাওফিক দান করেন, কবরের শাস্তি থেকে হেফাজত করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ