বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:১৫ এম
মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য হলো মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যু একটি সমাপ্তি নয়; বরং এটি হচ্ছে এক নতুন জীবনের সূচনা।
দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী যে জীবন, তাকে বলা হয় আলমে বরজখ। এখানেই শুরু হবে মানুষের প্রথম হিসাব। কবর হবে জান্নাতের বাগান অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
অতঃপর তোমাদেরকে আমাদের কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৫৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবর হতে পারে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬০)
কবরের প্রশ্ন, কবরের নেয়ামত ও শাস্তি—সবই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত। তবে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহের কারণে কবরে কয়েক শ্রেণীর সৌভাগ্যবান মানুষের প্রশ্ন করা হবে না।
তারা হলেন:
১. সীমান্ত পাহারাদার (মুরাবিত)
রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তিনি মৃত্যুর পরও তার নেক আমলের সওয়াব পেতে থাকেন এবং কবরের পরীক্ষার সম্মুখীন হন না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে যে আমল করছিল তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য অব্যাহত থাকবে। তার রিজিকও জারি থাকবে, সে কবরের পরীক্ষার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং কিয়ামতের ভয় থেকেও নিরাপদ অবস্থায় উঠবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৭৬৭)
২. শহিদ
শহিদের মর্যাদা ইসলামে অতুলনীয়।
তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর বিশেষ রহমতের অন্তর্ভুক্ত হন। কবরের প্রশ্ন ও আজাব থেকেও তিনি নিরাপদ থাকবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘শহিদের মাথার উপর তরবারির ঝলকই তার জন্য কবরের ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২০৫৩)
৩. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী
যারা দীর্ঘদিন পেটের কঠিন রোগে ধৈর্যসহকারে কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুবরণ করেন, তাদের জন্যও সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেটের রোগে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে কবরে আজাব দেওয়া হবে না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৬৪)
এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ছাড়াও আরও সাত ধরনের শহিদ রয়েছে—মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, পার্শ্বব্যাধিতে মৃত ব্যক্তি, পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারী।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১১)
এটি আল্লাহর অসীম দয়ারই প্রকাশ যে, কঠিন রোগে ধৈর্যধারণকারীদের তিনি বিশেষ প্রতিদান দান করেন।
৪. নিয়মিত সুরা মুলক তিলাওয়াতকারী
সুরা মুলককে হাদিসে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী সূরা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো 'তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক'।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১)
তাই প্রতিদিন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আল-মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
৫. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণকারী
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বরকতময় দিন। এই বিশেষ দিনে মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারেও বিশেষ সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান জুমার দিন অথবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)
তবে মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের সুসংবাদ। কারও জন্য গুনাহ করার অবকাশ বা নিশ্চিন্ত থাকার কারণ নয়। একজন মুমিনের উচিত সর্বদা তাকওয়া ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা।
এছাড়াও যাদের সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়—আলেমদের আলোচনা ও বিভিন্ন বর্ণনায় নবী-রাসুলগণ, সিদ্দীকগণ, নাবালেগ শিশু এবং শরিয়তের দায়িত্বমুক্ত (যেমন মানসিক ভারসাম্যহীন) ব্যক্তিদের ব্যাপারে কবরের আজাব বা প্রশ্ন থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সব বর্ণনার মান সমান নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সহিহ বর্ণনাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলা উচিত।
আমাদের করণীয়
কবরের প্রশ্ন থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা লাভের জন্য একজন মুসলমানের উচিত—
১. বিশুদ্ধ আকিদা ধারণ করা।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা।
৩. কোরআন তিলাওয়াত ও আমল করা।
৪. নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার করা।
৫. সুরা মুলক পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৬. মানুষের হক আদায় করা।
৭. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমলে অবিচল থাকা।
কবরের জীবন আখিরাতের প্রথম ধাপ। সেখানে সফলতা অর্জন করতে পারলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হবে, আর সেখানে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুতরাং একজন মুমিনের প্রকৃত প্রস্তুতি হওয়া উচিত—দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন নয়, বরং কবর ও আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ঈমানের ওপর অটল রাখেন, কবরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার তাওফিক দান করেন, কবরের শাস্তি থেকে হেফাজত করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং যান্ত্রিক বিপ্লবে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
গতকাল বুধবার রাতের অনুষ্ঠানটি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
ডেপুটি স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জনগণ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটি টিকিয়ে রাখতে ধানের ফলন বাড়ানোর বিকল্প কিছু নেই।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষিত যুবসমাজ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক প্যান্ট-শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হলে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যন্ত্রের মাধ্যমে ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ হচ্ছে, তাও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো করবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি নয়, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।
কৃষক কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে এই কার্ডগুলো ইস্যু করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ও নজিরবিহীন শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২০২৮ সাল থেকে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে প্রথম ধাপে ১০০ শতাংশ এবং পরে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। আশা করা হচ্ছে যে, তিনি এই ঘোষণা করেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে।
ট্রাম্প নিজের পোস্টে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু করে পরবর্তী দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আনা সব ধরনের জেনেরিক ওষুধে শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। তবে, এই দুই বছরের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে কঠোর শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য এই শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৮ সালে প্রথম ধাপে ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা বলেছেন ট্রাম্প।
এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ ওষুধ মূল্যনীতির মাধ্যমে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চ আয়ের অন্যান্য দেশে মানুষ যেভাবে ওষুধ খুঁজে পায়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও যেন একই দামে বা তারও কম দামে ওষুধ কিনতে পারে। যদিও জেনেরিক ওষুধের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপ হলেও ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে পেটেন্ট করা, ব্র্যান্ডেড অথবা নতুন উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধের ৯০ শতাংশেরও বেশি জেনেরিক ওষুধ। তাই, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে, গত এপ্রিলে এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড ওষুধ প্রস্তুতকারকরা যদি সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে রাজি না হন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনে ব্যর্থ হন, তবে তাদের ওপরও ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হঠাৎ করে রাজধানীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার বেড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দিনের একটি বড় সময় কাটছে গ্যাস সংগ্রহ করতে। সাধারণ চালক থেকে শুরু করে গণপরিবহন খাতের কর্মীরা চরম ভোগান্তিতে আছেন। নগরবাসী জীবিকার সংকটে পড়েছেন।
সিএনজি চালিত গাড়ির কয়েকজন চালক জানাচ্ছেন, পাম্পগুলোতে রাতভর গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা গ্যাস পাচ্ছেন না।
গ্যাসের এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকদের ওপর পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকেরা।
তারা জানাচ্ছেন, গ্যাস নিতে না পারার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সারাদিন কাটছে পাম্পের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে।
চালকদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পর্দার আড়ালে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। তারা বলছেন, এর আগে জ্বালানি তেলের সময়েও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার গ্যাসের দামও বাড়াতে এমন নাটক হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন পাম্প মালিকরাও। তারা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাইছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিজের মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৫৩) ১০৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যে তাওয়াউ সেশনস আদালত।
আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাত দফায় ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করার পর বিচারক আহমাদ ফাইজাধ ইয়াহইয়া তাৎক্ষণিকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্তকে কারাভোগের পুরো সময় কাউন্সেলিং গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি কারামুক্তির পর তাকে তিন বছর পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
আদালতের নথি অনুসারে, বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কন্যাকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে তাওয়াউয়ের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে সাতবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৬(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রত্যেকটি অভিযোগের সাজা পৃথকভাবে কার্যকর হওয়ায় এই কারাদণ্ড ১০৫ বছর হয়েছে।
এ সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তিনি পরিবারের খরচ এবং মেয়ের লেখাপড়ার জন্য নিজের ত্যাগের কথা বারবার মনে করিয়ে দিতেন এবং তাকে হোটেল বুক করতে বাধ্য করতেন। পরে নিজেই সেখানে গিয়ে মেয়েকে ধর্ষण করতেন।
ভুক্তভোগী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বাবার মানসিক চাপ ও প্রভাবের কারণে তিনি তার নির্দেশ অমান্য করতে পারেননি। এছাড়া তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বেই মেয়ের কর্মস্থলের ছুটির সময়সূচি সংগ্রহ করে রাখতেন। এরপর ছুটির দিনগুলোতে হোটেল বুক করতে নির্দেশ দিতেন এবং লাহাদ দাতু থেকে তাওয়াউয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটাতেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি প্রদান করে যে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ হাইকাল এমডি ইয়াতিন ও উইলদান ফিরদাউস আহমাদ ফাজলি আদালতকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান। তারা বলেন, নিজের সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন করা একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে, কোন আইনজীবী ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থন করা অভিযুক্ত আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করে জানান, তিনি লজ্জিত এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ চান। তাই তিনি শাস্তি কমানোর আবেদন জানান।
এটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা নয়। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লাহাদ দাতু সেশনস আদালত নিজ দুই মেয়েকে ধর্ষণের ১১টি অভিযোগে তাকে ১৬৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১০ বেত্রাঘাতের দণ্ড প্রদান করেছিলেন। ওই মামলায় প্রমাণিত হয় যে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লাহাদ দাতুর বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ২৫ ও ২২ বছর বয়সী তার দুই মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ