ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজারবাগ ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন


রাজারবাগ ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স এবং কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার রাতে এই পৃথক ঘটনাগুলো ঘটে। তবে এসব ঘটনায় হতাহত হওয়ার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সমাজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা শনাক্তের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ১ নম্বর গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। বিস্ফোরণের সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ট্রাকটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ এম


অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাখার পর পুলিশ তার উদ্ধার করেছে। তবে, অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতেও সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের অফিসে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন, তাদের একজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অধ্যক্ষকে নিয়ে যাওয়ার পরও রাত সাড়ে ১২টার পরে শতাধিক শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশ ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদ জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী সমকালকে বলেন, “আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু শিক্ষকরা পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন। আমাদের দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন।”

যেভাবে বিরোধের শুরু

মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। পূজার ছুটির আগে কলেজের তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য রাত ১০টার মধ্যে নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। তবে, অনুষ্ঠান শেষ হয় ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের পর অনুষ্ঠান চলায় সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। ক্ষমা চাইতে গেলে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এই দাবিকে অযৌক্তিক বলে প্রতিবাদ শুরু করেন তারা।

কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, জরিমানা মওকুফের অনুরোধ জানাতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা ধরেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তাবাসসুমের ভাষ্য, “দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলনটা। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের সরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ একের পর এক অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছেন। আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকলেও মাসিক ফি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। আগামী বছর আরও ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বাংলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের সাবলেট দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। বদরুন্নেসা কলেজে দায়িত্ব পালনের সময় দুই হলের ফ্রিজ ও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও শিক্ষার্থীরা করেছেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এসব বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনি তাদের বক্তব্য না শুনে ধমক দেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান শুরু করেন।

কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য

কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য হলো, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে রাত ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন বলেন, ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ চলায় অনেক বহিরাগত শ্রমিক কাজ করছেন। এ অবস্থায় রাতে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হওয়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ জানান, প্রাথমিকভাবে শুধু ভয় দেখানোর জন্য এ কথা বলা হয়েছিল। পরে পূজার ছুটির পর গত রোববার সিদ্ধান্ত হয়, ফাইনাল ইয়ারের ওই দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হবে না।

১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানার অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা হলো, ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে এসি ও ফ্যান চলায় ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ অর্থ হোস্টেলের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।

অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা সম্পর্কে উপাধ্যক্ষ বলেন, সকালে তিনি ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যক্ষের কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী কথা বলার কথা বলে তাদের বাইরে ডেকে নেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা বন্ধ করে তালা দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন।

উপাধ্যক্ষ জানান, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকেরা কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। বিকেল পাঁচটার পর অধ্যক্ষকে আর ক্যাম্পাসে দেখতে চান না বলেও আলটিমেটাম দেন তারা। তবে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে হওয়ায় এভাবে সাদা কাগজে পদত্যাগ নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিবকে জানানো হয়েছে বলেও জানান উপাধ্যক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজারবাগ-কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ এম


রাজারবাগ-কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহত সংবাদ পাওয়া যায়নি। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সমাজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ট্রাকটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ, আহত দুই শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ এম


ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ, আহত দুই শিক্ষার্থী

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

অধ্যক্ষকে উদ্ধার করার পর কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। রাত ১২টার পরও শতাধিক শিক্ষার্থীকে সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আহত দুই শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া, পুলিশের ধড়পাকড়ের সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

রাত সোয়া ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো সরকারি পরীক্ষা নেওয়া যাবে না; ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে; অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে হবে এবং হামলাকে বৈধতা দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছে এবং তাদেরকে কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজটির শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম জানান, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষার্থীদের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

তাবাসসুমের অভিযোগ, ওই দুই শিক্ষার্থীর কাছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন প্রাধ্যক্ষ। টাকার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে আসন বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী তার পা পর্যন্ত ধরেন। এরপরও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তাবাসসুম আরও বলেন, হলে প্রবেশে কিছুটা দেরি হলেও শিক্ষার্থীদের জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও হয়রানির প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে চাঁদা দাবির সংঘর্ষে আহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ এম


ভৈরবে চাঁদা দাবির সংঘর্ষে আহত ১৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী রাহাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ী ইউএস ইকবালের কাছে তার ভবনের ভেতরে সাবেক সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া শাহরিয়ারের জমি রয়েছে, এমন দাবিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনার পর দুই পক্ষ সালিশে বসে। সেখানে শাহরিয়ারের পক্ষে মিরবাড়ীর রাজন এবং ইউএস ইকবালের পক্ষে রায়হানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে উভয় পক্ষকে মুরুব্বিরা ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর মিরবাড়ীর লোকজন ইউএস ইকবালের ভবনে হামলা চালালে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সময় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ, এসআরবি এবং প্রশাসনের সদস্যরা রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তারা চলে যাওয়ার পর আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, এসআরবি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%