বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৮ পি.এম
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমানোর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিলটি। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যেমন ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘ভাইভা কোটার ঠিকানা, বাংলাদেশে হবে না’ এবং ‘ভাইভা-কোটা সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি।
সমাবেশে গণিত ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছিল ছাত্রদের হাত ধরে কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন।" তিনি আরও বলেন, "মেধার মূল্যায়নে কোনো ধরনের কারচুপি বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না এবং রাজপথেই এর ফয়সালা করবে। ইতিহাস থেকে বর্তমান নীতি নির্ধারকদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ মন্তব্য করেন, "ভাইভা বোর্ডে অতিরিক্ত নম্বর বরাদ্দ রাখার অর্থই হলো স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করার প্রত্যক্ষ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।" তিনি সতর্ক করেন যে, "এতে করে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত হবেন এবং দুর্নীতির নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।"
এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১১ ও ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ৫০ এবং মৌখিক ৫০ নম্বর; ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ নম্বর; এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে লিখিত ২৫ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আফরোজা আব্বাস, যিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদে যোগদান করেন। গত ১৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আফরোজা আব্বাস বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের (মির্জা আব্বাস) সহধর্মিণী।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারার ক্ষমতাবলে আফরোজা আব্বাসকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে ১৬ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর আফরোজা আব্বাস জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকার প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করার অধিকার রাখে। একইভাবে, আফরোজা আব্বাসও সরকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এ নিয়োগ অবৈতনিক।
জাতীয় মহিলা সংস্থা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থা নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার ক্ষেত্রে জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
আফরোজা আব্বাসকে চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি গত জুনে প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের ভিত্তি হিসেবে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসের দুই বছরের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফরের সময় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা শরণার্থী ভেবে দলের অবস্থান করা হোটেলের সামনে জড়ো হন। তবে, কিছু সময় পর তারা ভুল বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে যান।
এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে ঘটে। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল শহরের একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোটেলটির সামনে একটি কোচ ও কয়েকজন এশীয় তরুণের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে শরণার্থীদের থাকার দাবি ওঠে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হোটেলের সামনে জড়ো হন।
হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের রিফর্ম ইউকে কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডগউইক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান দলের কোচের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা শরণার্থী নন, বরং পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট সদস্য।
ম্যাডগউইক বিক্ষোভকারীদের জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভুল বুঝেছেন, এটা ক্রিকেট দল।’ এরপর বিক্ষোভকারীরা ভুল বুঝতে পেরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখান থেকে চলে যান।
পরে ম্যাডগউইক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে হোটেলে শরণার্থী থাকার খবরকে ভুল বলে নিশ্চিত করেন।
ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভুল ধারণা পরিষ্কার করেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কোনো অপরাধ শনাক্ত হয়নি।
পোর্টসমাউথে সম্প্রতি অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে আসা শরণার্থীদের নিয়ে কয়েক দিন আগে শহরটিতে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান দলের কোচের হোটেলে পৌঁছানোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ঘটনার পর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পাকিস্তান যুব দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিয়েছে। সফরের বাকি অংশে দলটির নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দুটি মিষ্টির দোকানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
অভিযানের সময় সুইট হ্যাভেন ও মদিনা মিষ্টির দোকানের কারখানায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। একবার ব্যবহার করা তেল পুনরায় ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খালি গায়ে মিষ্টি তৈরি এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে অনিয়মের বিষয়গুলোও ধরা পড়ে।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, মিষ্টি তৈরির সরঞ্জামের সঙ্গে একই ফ্রিজে মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য রাখা হচ্ছিল, যা খাদ্যদূষণের ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া মিষ্টি তৈরির স্থানেও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল না।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, "খাদ্যপণ্য তৈরিতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি আরও জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের কারণে সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার ও মদিনা মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে সংশ্লিষ্টদের খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ