বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ পি.এম
শ্রম আদালতের মামলাসংক্রান্ত কার্যক্রমে শ্রমিকদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৩ জন শ্রমিক প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে উন্নত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সনদ বিতরণ করা হয়।
এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগকে আরো শক্তিশালী করা এবং শ্রমসংক্রান্ত মামলায় তাদের সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সলিডারিটি সেন্টার (এসসি) বাংলাদেশের উদ্যোগে ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২২০ ধারা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই ধারার অধীনে, সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলে, কোনো ব্যক্তি শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিজে, লিখিতভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন, হাজিরা বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন—আইনে নির্ধারিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অভিযোগ তৈরি ও দাখিল, মামলা করার সময়সীমা, প্লিডিং বা লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত, সাক্ষীদের জেরা ও জবানবন্দি গ্রহণ, আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে মক ট্রায়াল, প্রদর্শনী ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা-ভিত্তিক ব্যবহারিক অনুশীলনের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে আনা পরিবর্তন এবং বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান সম্পর্কেও প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা প্রদান করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষিত শ্রমিক প্রতিনিধিরা পেশাদার আইনজীবীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবেন না। তারা শ্রমিকদের প্রাথমিক আইনি তথ্য প্রদান, মামলা প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করবেন। বিশেষায়িত আইনি পরামর্শ ও জটিল মামলা পরিচালনায় আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও নেতাদের জন্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় এবার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পেশাদার আইনজীবীদের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রেখে শ্রম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত দক্ষতা দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য নিয়মিত মেন্টরিং, আদালতের কার্যক্রমে বাস্তব অভিজ্ঞতা, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক আইনি সহায়তা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, একসময় শ্রম আদালতে শ্রমিক প্রতিনিধিরা চর্চা করতেন। বিভিন্ন কারণে পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে আইনে এখনো এ ধরনের চর্চার সুযোগ রয়েছে। প্যারালিগ্যালরা শ্রমিকদের যত বেশি সহায়তা করবেন, শ্রমিকেরা আইনি প্রক্রিয়ার কাগুজে জটিলতা থেকে তত বেশি সুরাহা পাবেন।
সনদ গ্রহণকারী প্যারালিগ্যাল মো. রিপন মিঞা বলেন, একজন আইনজীবী হতে হলে অনেক আইন জানতে হয়। সলিডারিটি সেন্টারের প্রশিক্ষণ তাদের মামলা পরিচালনার বিভিন্ন সূক্ষ্ম ধাপ সম্পর্কে শিখিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রম আদালতের কার্যক্রমে তাদের আরো কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সক্ষম করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের এশিয়ার ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং এ শীর্ষস্থানটি চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ধরে রেখেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ন করেছে।
র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তালিকায় চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, মোট চারটি। এছাড়া সিঙ্গাপুরের দুটি, হংকংয়ের দুটি এবং জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও শীর্ষ ১০-এ স্থান পেয়েছে।
এশিয়ার সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৬)
১. সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় — চীন
২. পেকিং বিশ্ববিদ্যালয় — চীন
৩. ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস) — সিঙ্গাপুর
৪. নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ) — সিঙ্গাপুর (যৌথভাবে)
৪. টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় — জাপান (যৌথভাবে)
৬. হংকং বিশ্ববিদ্যালয় — হংকং
৭. ফুদান বিশ্ববিদ্যালয় — চীন
৮. ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় — চীন
৯. সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয় — চীন
১০. চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং — হংকং
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয় বাংলা ব্রিগেড-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আংশিক চার্জ গঠন শুনানির তারিখ আগামী ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আগামী ১৫ অক্টোবর চার্জ গঠনের জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ আলম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে তুহিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করার অপরাধে যদি আমার ফাঁসি হয়, আমরা আওয়ামী লীগই করব। জেল কত খাটাবেন? আমরা রাজনীতি করছি, পার্টি করছি কিন্তু কোনো হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
গত ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটি এর আগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে বদলি করা হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে (পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে) উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেল থামাতে গিয়ে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট অসদাচরণের শিকার হন দুই আরোহীর দ্বারা। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মোসা. স্বপ্না (২৭) এবং মাহফুজুর রহমান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি পয়েন্ট দিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন দুই আরোহী। এ সময় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেন। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর সার্জেন্ট উল্টো পথে চলাচলের কারণ জানতে চান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন।
এ সময় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী কর্তব্যরত সার্জেন্টের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলের নারী আরোহী সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ করেন। এতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
পরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্যে সড়কে অসদাচরণ ও তাকে হেনস্তা করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এরপর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যথাযথ অনুমতিপত্র বা পাশ ছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ আর অনুমোদিত হবে না। এ বিষয়ে সচিবালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের অনুমতিপত্র ছাড়াই প্রবেশের ঘটনা ঘটছে। এটি সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুতরাং, সচিবালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে সকল দর্শনার্থীর প্রবেশের আগে OTP বা অনুমতিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ