মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২৯ পি.এম
মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান নামের অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার সময় সদর উপজেলার রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ শেখ সদর উপজেলার বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের সন্তান। অপরদিকে, আহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সদরপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আহত মিজানুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামনগর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট গৌরব জানান, একটি মোটরসাইকেল মাগুরা থেকে ওয়াবদা এবং অন্যটি মাগুরা অভিমুখে যাচ্ছিল। রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিজানুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি হেফাজতে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এসেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি, যারা অনিয়মিতভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইট (ইউজেড-২২২) তাদের নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়, যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি থেকে।
লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যা বাস্তবায়িত হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের কাছে অনুরোধ করা হয় যে, তারা নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যাতে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম একযোগে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির (এসবিএস) উদ্যোগে ২০২৬ সালের বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার সিঙ্গাপুরের পার্করয়্যাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দময়। এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি উদযাপন করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও যুব এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দিনেশ বাসু দাশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মিসেস দিনেশ বাসু দাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লুৎফুন্নাহার।
৪৫০ জনেরও বেশি অতিথি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এসবিএস-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসাইন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করাই এসবিএস-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি সিঙ্গাপুর সরকারের সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে এসবিএস-এর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি দিনেশ বাসু দাশ তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এসবিএস-এর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি লুৎফুন্নাহার তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার ক্ষেত্রে কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসবিএস-এর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এসবিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
এসবিএস-এর সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন জিএম সালাউদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার সফল করার জন্য প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বাংলাদেশ হাইকমিশন, এসবিএস-এর সদস্যবৃন্দ, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং আয়োজক কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি এসবিএস-এর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসবিএস-এর দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনেও সিঙ্গাপুরের মূলধারার সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে এসবিএস আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটি (এসবিএস) বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠন হিসেবে চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটি সামাজিক কল্যাণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার ২০২৬-এর আয়োজনের মধ্য দিয়ে এসবিএস আবারও ঐক্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নৈশভোজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি আনন্দঘন ও স্মরণীয় সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতি দূর করে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছে হেযবুত তাওহীদ ছাত্র ফোরাম।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অসংগতি দূর করে সময়োপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা এবং কার্যকর পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।"
তিনি বলেন, "গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।"
তিনি আরও বলেন, "আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।"
বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, "এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।"
"বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।"
তারেক রহমান বলেন, "আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।"
ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, "গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।"
জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।"
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, "‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ