মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩২ পি.এম
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির (এসবিএস) উদ্যোগে ২০২৬ সালের বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার সিঙ্গাপুরের পার্করয়্যাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দময়। এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি উদযাপন করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও যুব এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দিনেশ বাসু দাশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মিসেস দিনেশ বাসু দাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লুৎফুন্নাহার।
৪৫০ জনেরও বেশি অতিথি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এসবিএস-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসাইন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করাই এসবিএস-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি সিঙ্গাপুর সরকারের সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে এসবিএস-এর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি দিনেশ বাসু দাশ তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এসবিএস-এর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি লুৎফুন্নাহার তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার ক্ষেত্রে কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসবিএস-এর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এসবিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
এসবিএস-এর সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন জিএম সালাউদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার সফল করার জন্য প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বাংলাদেশ হাইকমিশন, এসবিএস-এর সদস্যবৃন্দ, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং আয়োজক কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি এসবিএস-এর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসবিএস-এর দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনেও সিঙ্গাপুরের মূলধারার সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে এসবিএস আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটি (এসবিএস) বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠন হিসেবে চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটি সামাজিক কল্যাণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
বার্ষিক কমিউনিটি ডিনার ২০২৬-এর আয়োজনের মধ্য দিয়ে এসবিএস আবারও ঐক্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নৈশভোজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি আনন্দঘন ও স্মরণীয় সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতি দূর করে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছে হেযবুত তাওহীদ ছাত্র ফোরাম।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অসংগতি দূর করে সময়োপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা এবং কার্যকর পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।"
তিনি বলেন, "গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।"
তিনি আরও বলেন, "আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।"
বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, "এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।"
"বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।"
তারেক রহমান বলেন, "আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।"
ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, "গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।"
জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।"
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, "‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। এই কারণে, বিশেষ এই তদন্ত দল হাইকোর্টে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে পুনরায় সময় চেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। যা বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু সোমবার টাস্কফোর্স সময় চেয়ে আবেদন করেছে। তারা একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে (বর্তমানে এসআরবি) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকার কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর পর ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তিন দফায় আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় উঠেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ইসরাইলের নাগরিকরা। দেশটির ভোটাররা গভীরভাবে বিভক্ত এই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইসরাইলের ক্রমশ ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করবেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া একাধিক ফ্রন্টে আঞ্চলিক যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভোট দিতে যাচ্ছে ইসরাইলিরা। এই যুদ্ধের ক্ষত এখনও তাদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাই নির্বাচনী প্রচারে হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি— এই দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণের বিস্তার ও সহিংসতা এবং উগ্র ডানপন্থী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার প্রধান মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জনপ্রিয়তায় প্রায় সমান সমান লড়াই চলছে। সাবেক এই সেনাপ্রধান রাজনীতিতে নবীন।
ইসরাইলে প্রায় ৭৩ লাখ মানুষের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। জরিপ অনুযায়ী, এসব তরুণের অধিকাংশই নিজেদের মধ্য-ডানপন্থী বা ডানপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলে মনে করেন।
ইসরাইলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে কয়েক দশ হাজার ইসরাইলি দেশে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগের দিন জেরুজালেমে এএফপিকে ৫৮ বছর বয়সী আবাসন ব্যবসায়ী উরিয়েল ব্র্যান্ডলার মন্তব্য করেন, ‘আমার মনে হয়, ইসরাইল রাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশের ভালো পরিবর্তন প্রয়োজন।’ ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু বিরতি দিয়ে মোট ১৯ বছরেরও বেশি সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরাইলিদের নিরাপদ রাখার সক্ষমতা একমাত্র তারই রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরাইল। এসব অভিযানে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
দেশের ভেতরেও ইসরাইলিরা ইরান, হামাস, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়েছেন। ৮৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী জিপ্পোরাহ বেনেট জানান, তিনি নেতানিয়াহুকেই ভোট দেবেন। তার মতে, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে দেশকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেতানিয়াহুর রয়েছে।
বেনেট বলেন, ‘মার্কিন সরকারের পূর্ণ সমর্থন তার রয়েছে। আর আমি বিশ্বাস করি, তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি পদক্ষেপ নিতে ভয় পান না।’ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি তার সরকারে উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর থেকে ইসরাইলের রাজনীতিতে এসব দলের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সামরিক বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নেতানিয়াহুকে সমালোচনা করছে বিরোধীরা। এ ক্ষেত্রে তার সরকারের অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতাও বিরোধীদের সমালোচনার অন্যতম কারণ।
তবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার দায় তিনি স্বীকার করেননি। ওই হামলাটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত। সাবেক সেনাপ্রধান ও ৬৬ বছর বয়সী বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ওই হামলার পেছনে থাকা নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। নেতানিয়াহুর সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের তদন্তের উদ্যোগ নিতে অনীহা দেখিয়েছে।
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটি অনানুষ্ঠানিক জোট গড়ে উঠেছে। তার দল ‘ইয়াশার’-এর নেতৃত্বে থাকা এই জোটে ডানপন্থী থেকে মধ্য-বামপন্থী বিভিন্ন মতাদর্শের দল রয়েছে। আইজেনকোট ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন এবং ইসরাইলি বসতি স্থাপনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সহিংসতায় জড়িত ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট— কেউই প্রকাশ্যে প্রধানত আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের জোটে যাওয়ার ঘোষণা দেননি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব। নির্বাচনে প্রত্যাশিত ব্যবধানে ফলাফল হলে এসব দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরইলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনে কোনো একক দলই এই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।
দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ