০৩:০৯ পি.এম
গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে যা প্রায় তিন বছর ধরে চলমান, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে, ইসরাইলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ তথ্যটি দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যে দেখা যায়, হিব্রু সংবাদমাধ্যম জমান ইসরাইল (দ্য টাইমস অব ইসরাইলের হিব্রু সংস্করণ) তাদের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি দেশের সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘাতের কারণে সরকারি অর্থব্যয়, উৎপাদনে ক্ষতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যাংক অব ইসরাইলের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধগুলোর জন্য ইসরাইল সরকারের সরাসরি ব্যয় মোটামুটি ১১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
আরও পড়ুন: স্বর্গের লোভ দেখিয়ে শিশুদের অনাহারে হত্যা, কেনিয়ার ধর্মগুরুকে ২০০ বছরের সাজা
এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭১.২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৯.৬ বিলিয়ন ডলার, বিভিন্ন বেসামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার এবং সরকারি ঋণ বৃদ্ধির ফলে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে যে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার মোট মূল্য প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।
এবং এখানেও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের অর্থনীতিতে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১.৯ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অর্থনীতির ওপর যে চাপ বইছে, তা অত্যন্ত নজিরবিহীন।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলা না চালালে ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
প্রতিবেদন মতে, ২০২৬ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরকারি ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একত্রে হিসাব করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
তবে এই হিসাবের মধ্যে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতি বা বেসরকারি খাতের সকল ধরনের লোকসান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে করের হার বেড়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং এর প্রভাব বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বেশী পড়েছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাত ইতিহাসে ইসরাইলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই যুদ্ধগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বজায় থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন