ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্বর্গের লোভ দেখিয়ে শিশুদের অনাহারে হত্যা, কেনিয়ার ধর্মগুরুকে ২০০ বছরের সাজা


স্বর্গের লোভ দেখিয়ে শিশুদের অনাহারে হত্যা, কেনিয়ার ধর্মগুরুকে ২০০ বছরের সাজা

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় দেশ কেনিয়ায় ধর্মীয় উগ্রবাদে প্ররোচনা দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ২৮ সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ সাজা প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, পল ম্যাকেঞ্জি তার অনুসারীদের যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা বলে অনাহারে থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় অনুসারীরা খাবার ও পানি গ্রহণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ১৯১ জনের মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই বেতন, অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপনে নেটদুনিয়ায় ঝড়

আদালত জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮৩ জন অনাহারে মারা যান এবং আটজন সরাসরি হত্যার শিকার হন। এই ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ধারায় ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহযোগীদের ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অনেক মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলায় প্রসিকিউশন ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে ২০০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারকের মতে, অনুসারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসে মৃত্যুকে স্বর্গে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখা হতো। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড তাঁদের কাছে শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য অনুসারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক সন্ত্রাসবাদ, হত্যাসহ আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে শত শত তাঁবু প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে

কেনিয়ার ইতিহাসে আলোচিত এই গণমৃত্যুর ঘটনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে দেশটির কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রত্যক্ষদর্শী দুই সেনা কর্মকর্তার লেখায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চিত্র তুলে ধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


প্রত্যক্ষদর্শী দুই সেনা কর্মকর্তার লেখায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চিত্র তুলে ধরা

পঁচাত্তরের ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না। এই সময়কাল দেশের জন্য ছিল গভীর সংকটময়, যেখানে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়া দেশ চলছিল, যা ছিল একটি চরম নেতৃত্বহীন ক্রান্তিকাল। এই পরিস্থিতির মধ্যে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশকে অনিশ্চিত অবস্থা থেকে রক্ষা করে। সিপাহিদের ভাষায়, এটি ছিল ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন’।

ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত গুরুত্বপূর্ণ দুজন সেনা কর্মকর্তার লেখায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা হলেন ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী এবং তৎকালীন ঢাকা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এমএ হামিদ পিএসসি। সেনানিবাসের অভ্যন্তরের ঘটনাবলি তারা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। নিজেদের লেখা বইতে তারা ঘটনার চমৎকার বিবরণ তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও গবেষক মেজর রফিকুল ইসলামও সে সময়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করেছেন তার বইয়ে।

মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী (বীরবিক্রম) তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে উল্লেখ করেন যে, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশকে একটি নিশ্চিত গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। ৩ নভেম্বরের পর সাধারণ সৈনিকদের মনে ভয় ঢুকেছিল যে, দেশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সেই ভয় দূর করে সিপাহি ও জনগণের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাতীয় সংহতি তৈরি করে। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই সে সময় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল।

মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ৭ নভেম্বর ভোরের মধ্যেই জাসদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধারণ জওয়ানদের জাতীয়তাবাদী আবেগের কাছে মার খায় এবং জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতির হাল ধরেন। ৭ নভেম্বর ভোরের দিকে সেনানিবাসে এক ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সাধারণ সিপাহিরা অফিসারদের নির্দেশ মানতে চাচ্ছিল না। জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে প্রথমে রেডিওতে ভাষণ দিয়ে দেশবাসীকে শান্ত করেন। এরপর তিনি সেনানিবাসে চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেন। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে কর্নেল তাহের ও জাসদের অবাস্তব দাবি-দাওয়া (যেমন অফিসারহীন সেনা কাঠামো) উড়িয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করতে মনোযোগ দেন।

মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী আরো লেখেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট। যদি সেদিন জিয়াউর রহমানের মতো একজন সর্বজনগ্রাহ্য নেতা হাল না ধরতেন, তবে সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত এবং দেশ একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ কিংবা বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়ত। ৭ নভেম্বর সাময়িকভাবে সেনাবাহিনীতে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এটি দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের পথ তৈরি করেছিল।

প্রায় সব অফিসারই স্বীকার করেছেন, সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জিয়ার জনপ্রিয়তা ছিল প্রশ্নাতীত এবং ৭ নভেম্বরের মূল চালিকাশক্তি ছিল জিয়ার প্রতি সিপাহিদের ভালোবাসা ও আস্থা। সাধারণ সিপাহিদের কাছে এটি ছিল ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন’।

লে. কর্নেল এমএ হামিদ তৎকালীন ঢাকা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার ছিলেন। সেনানিবাসের ভেতরের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখা এই কর্মকর্তা তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ বইয়ে ৭ নভেম্বরের চমৎকার চোখের দেখা বিবরণ দিয়েছেন। তিনি ৭ নভেম্বরকে সিপাহি ও জনতার এক স্বতঃস্ফূর্ত এবং অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ৭ নভেম্বর রাতে সাধারণ সৈনিকরা যখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে ট্রাকে করে রাজপথে নেমে আসে, তখন তাদের চোখে-মুখে ছিল একধরনের মুক্তির আনন্দ। জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার পর টু-ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে যে অভূতপূর্ব উল্লাস তৈরি হয়েছিল, তার নিখুঁত চিত্র তিনি তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সেনানিবাসে অফিসারদের ওপর সিপাহিদের ক্ষোভ এবং পরবর্তী দিনগুলোতে অফিসার হত্যার দুঃখজনক ঘটনাগুলোর কথাও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

এমএ হামিদ পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, ৭ নভেম্বরের মূল চালিকাশক্তি ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি সিপাহিদের গভীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস। ৩ নভেম্বর জিয়াকে যখন বন্দি করা হয়, তখন থেকেই সাধারণ জওয়ানদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল।

সিপাহিদের স্পষ্ট ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমান ছাড়া দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। ৭ নভেম্বর রাতে যখন সিপাহিরা বিদ্রোহ করে জিয়াকে মুক্ত করে ২ নম্বর ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে নিয়ে আসে, তখনকার অভূতপূর্ব আনন্দের দৃশ্য তিনি বইয়ে তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, সাধারণ সিপাহিরা তখন খুশিতে জিয়াকে কাঁধে তুলে নেন।

কর্নেল হামিদ লেখেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা কোনো সাধারণ বা পরিকল্পিত সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না। এটি ছিল সিপাহি ও জনগণের এক বিশাল, স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ। তিনি আরো লিখেছেন, ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হওয়ার পর সেনানিবাস থেকে সিপাহিরা যখন ট্যাংকে এবং ট্রাকে করে ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে, তখন সাধারণ মানুষও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানে পুরো ঢাকা শহর প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। এই দুই শক্তির মিলনকেই তিনি সত্যিকারের ‘বিপ্লব’ ও ‘সংহতি’ হিসেবে দেখেছেন, যা এর আগে বা পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি।

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি সমাজতান্ত্রিক ও অফিসারহীন সেনাবাহিনী গঠন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ সিপাহিদের সিংহভাগই কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা সমাজতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নামেনি। তারা নেমেছিল শুধু তাদের প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। লে. কর্নেল হামিদ আরো উল্লেখ করেন, কর্নেল তাহের যখন জিয়াকে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলেন, তখন সাধারণ সিপাহিদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এমএ হামিদ একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ৭ নভেম্বরের একটি অন্ধকার ও বেদনাদায়ক দিকও, অর্থাৎ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা হত্যার কথাও বইয়ে তুলে ধরেছেন।

এমএ হামিদের মতে, ৭ নভেম্বর ভোরের দিকে সেনানিবাসের পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল ও বিশৃঙ্খল ছিল যে, যেকোনো সময় পুরো দেশ একটি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারত। এই চরম মুহূর্তে জিয়াউর রহমান যেভাবে অসীম ধৈর্য এবং দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, তা ছিল খুবই প্রশংসনীয়। মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সিপাহিদের শান্ত করেন, ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড জোড়া লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও গবেষক মেজর রফিকুল ইসলাম তার ‘বাংলাদেশ : সামরিক শাসন ও গণতন্ত্রের সংকট’ গ্রন্থে এ সময়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ৭ নভেম্বরকে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক মেরূকরণের দিন হিসেবে দেখেছেন, যেখানে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করলেও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন (শ্রেণিহীন সেনাবাহিনী গঠন)। কিন্তু জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার পরপরই সিপাহিদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে জাসদ বা তাহেরের বিপ্লবী এজেন্ডার বাইরে গিয়ে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব পুনর্গঠনে হাত দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য পেতে যুক্তরাষ্ট্র ২০ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য পেতে যুক্তরাষ্ট্র ২০ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার (২ কোটি ডলার বা ২০০ কোটি টাকা) পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। এই পুরস্কারটি তাদের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা হবে এবং তথ্যদাতাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের প্রস্তাবও রয়েছে।

আলজাজিরা জানাচ্ছে, মূলত ইরানের পরমাণু স্থাপনা, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমেরিকান কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রয়োজন হয়, যা থেকে ইরান প্রযুক্তিগতভাবে খুব বেশি দূরে নয়।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র নেই—এমন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরানই এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান যদি এই ইউরেনিয়ামকে আরো সমৃদ্ধ করে, তবে তা দিয়ে একাধিক পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব।

এছাড়া, আইএইএ-এর তদারকি ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা ইরানি শাসকগোষ্ঠী সঠিকভাবে মানছে না, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি উদ্বিগ্ন। এর ফলে ইরানের সেন্ট্রিফিউজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক যন্ত্রাংশের উৎপাদন ও মজুদ সম্পর্কে আইএইএ তাদের নিয়মিত তথ্যের ধারাবাহিকতা বা পর্যবেক্ষণক্ষমতা হারিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপকূলের জনজীবনে সুপেয় পানির সংকট, বাড়ছে কিডনি ও মূত্রনালীর রোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


উপকূলের জনজীবনে সুপেয় পানির সংকট, বাড়ছে কিডনি ও মূত্রনালীর রোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করায় মূত্রনালীর সংক্রমণ সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চর্মরোগের পাশাপাশি নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে উপকূলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এখনই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু সেই জীবন বাঁচাতে প্রতিদিন অসহনীয় সংগ্রাম করতে হচ্ছে উপকূলের মানুষের। চারদিকে পানি থাকলেও তা পান করার উপযোগী নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে গেছে। এই পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সুপেয় পানির জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

মরিয়ম বিবির অভিজ্ঞতা সুপেয় পানি সংগ্রামের। সুস্থতা কিংবা অসুস্থতা, ঝড়-বৃষ্টি কিছুই থামাতে পারে না পানির খোঁজে তার বের হওয়া। যুগের পর যুগ ধরে পাত্র হাতে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাকে। তবে দিন যত যাচ্ছে, বিশুদ্ধ পানির সংকটও তত বাড়ছে। পানির জন্য প্রতিদিন যেন নতুন করে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা গ্রামের মানুষের সকাল শুরু হয় কলসি হাতে পানির সন্ধানে বেরিয়ে। চারদিকে লবণাক্ত পানি থাকায় তাদের যেতে হয় সংরক্ষিত মিঠাপানির পুকুর, পানি শোধনাগার কিংবা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পানির উৎসে।

স্থানীয় নারীরা বলেন, "পানির ওপরই মানুষের জীবন নির্ভর করে।" লবণাক্ততার কারণে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পান করতে হয়। বৃষ্টি শেষ হলে পাশের একটি পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হয়। তবে সেখান থেকে পানি আনতে অনেক কষ্ট হয়।

এসআরডিআইয়ের তথ্যমতে, উপকূলীয় অঞ্চলের বাগেরহাটের শরণখোলা, খুলনার ডুমুরিয়া ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মতো এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।

এক নারী বলেন, "পানির কারণে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।" ভালো পানি দিয়ে গোসল করতে না পারলে এবং ভালো পানি পান করতে না পারলে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়।

এ অবস্থায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সুপেয় পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের। অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকার চিকিৎসকরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করায় অনেকেই মূত্রনালীর সংক্রমণ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে কয়েকবার ফিল্টার করার পরও ডায়ালাইসিসের জন্য প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ম্যানেজার ডা. শাহরিয়ার হাসান বলেন, "সাধারণত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুরুষদের মধ্যে মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই রোগীর সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু এ অঞ্চলে পুরুষ রোগীর সংখ্যাও অনেক।" দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কিডনির সমস্যাও বাড়ছে। ডায়ালাইসিসের জন্য পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বা টিডিএস খুব কম থাকতে হয়, ১০-এর নিচে। কিন্তু কয়েক দফা ফিল্টার ও রি-ফিল্টার করার পরও কাঙ্ক্ষিত টিডিএস মাত্রা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পানির সংকট মোকাবিলায় কিছু বেসরকারি সংস্থা কাজ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন এলাকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং টেকসই উদ্যোগ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, "এখন থেকে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।" একই সঙ্গে প্রকল্পগুলো যাতে টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় মানুষ সেই সুবিধা ব্যবহার করছেন কি না, নাকি প্রকল্প শেষ হলে আবার নতুন প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন-এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

তবে সুপেয় পানির এই সংকট থেকে কবে মুক্তি মিলবে, সেই অপেক্ষার যেন শেষ নেই স্থানীয় মানুষের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনের বাজারে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


ইয়েমেনের বাজারে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত

ইয়েমেনের বাজারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। হুতি গোষ্ঠী অভিযোগ করেছে যে, এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকার বাজারে হামলাটি সংঘটিত হয়।

হুতি বিদ্রোহীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলসাবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।

তবে হামলার দায় নিয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তায়েজ প্রদেশের অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা প্রাদেশিক রাজধানী অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যেখানে সৌদি-সমর্থিত সরকার ও তাদের বাহিনীর অবস্থান রয়েছে।

হুতি পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে হামলাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সেখানে খাবার রাখা একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ধ্বংস হওয়া যানবাহন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফলের বাক্স এবং ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়।

তবে তায়েজে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। তারা একই সঙ্গে দাবি করেছে যে, ওই এলাকায় কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তায়েজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকার আল-হাদারা বাজারে তিন দফা বিমান হামলা হয়।

তিনি সৌদি আরবকে এই হামলার জন্য দায়ী করেন। তার দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে এসে হামলা চালানোর পর সকাল ৮টার দিকে তায়েজ প্রদেশ ছেড়ে যায়। তবে তিনি নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%