কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
১১:০৯ পি.এম
নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফল করতে পরিবারের সঠিক আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ এবং যোগ্য উপকারভোগী চিহ্নিত করা জরুরি। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ কর্মসূচির আওতায় খানা জরিপ পরিচালিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে টগরবন্দ, আলফাডাঙ্গা ও বানা ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। প্রথমে টগরবন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. রবিউল হক রিপন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান কদর এবং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. নিয়ামত হোসেন পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ণিল আয়োজনে উত্তর জনপদের অনন্য বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) সকালে প্রশাসন ভবনের দক্ষিণ গেটের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ২০২৬ এর আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলুন ও পায়রা ওড়ানো হয়। বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে ক্যাডেট কলেজের মোড় প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ তাজুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা, প্রক্টর মোঃ ইসমাইল হোসেন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে ১ নম্বর খেলার মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিকেলে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকসজ্জ্বাসহ নানাভাবে সাজানো হয় ক্যাম্পাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গরমের কষ্ট লাঘবে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষ থেকে ১৫টি বৈদ্যুতিক ফ্যান উপহার দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অতিরিক্ত গরমে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগের বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তাঁদের স্বস্তির জন্য ১৫টি বৈদ্যুতিক ফ্যান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নেওয়াজ মুস্তাফিজ চৌধুরীর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মান ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এ সময় গত তিন বছর ধরে হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
প্রসূতি মা ও নারীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একজন গাইনি চিকিৎসক পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি কমানো এবং তাঁদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও নারীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত গাইনি চিকিৎসক পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পরিদর্শনের পর তাঁর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতেই তাঁর নেতাকর্মীরা ১৫টি ফ্যান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবিদ হাসানের হাতে তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এলিম বিশ্বাস, আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক মো. নুর জামাল খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির, বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী বোরহান উদ্দিন, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম দাউদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির একাংশের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে কাল্পনিক, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলা হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাসের নেতৃত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) পৌর সদর বাজারে বিএনপি নেতা খোসবুর রহমান খোকনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি চারটি ইউনিয়নের ডিলারশিপ পাওয়া কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
সোমবারের প্রতিবাদ সভায় এসব অভিযোগের জবাব দেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। তাঁরা বলেন, ডিলারদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, আবার কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, যাঁরা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, তাঁরাই সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা হয়েছে। দল ও সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে আব্বাসের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের বিষয়টি কৃষি বিভাগের আওতাধীন এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানিয়েছেন, উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর নাম জেলা কমিটিতে পাঠায়। জেলা কমিটি অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ দেয়।
প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিলারশিপপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম দাউদ, আলামিন শেখ টোকন ও কাজী অমিত হাসান জয়, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হাসান পারভেজ, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদরসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ