ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে হুমকির অভিযোগ


চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে হুমকির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা, হামলা-হুমকি এবং রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আসলামের ছেলে ইব্রাহিম খলিল।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবে আগত একটি সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খলিল বলেন, যুবদল নেতা শান্ত হত্যা মামলার ২নং আসামি শাহাদাত প্রধান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার চিহ্নিত আসামি বর্তমানে চর কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করেছে। ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আমার পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহ সুলতান গাজীর অনুসারী ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি আমার বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। শাহাদাত প্রধানের বাবা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব প্রধানের নেতৃত্বে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য কায়েম করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানাবিধ অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, চাঁদাবাজি, মসজিদের জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

এ সময় অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং নথিপত্র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুখালীতে সাবেক কাউন্সিলরের ডেকোরেটরের দোকানে অগ্নিকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


মধুখালীতে সাবেক কাউন্সিলরের ডেকোরেটরের দোকানে অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান লিটন এর ডেকোরেটর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে মধুখালী থানার সামনে অবস্থিত লিটন ডেকোরেটরের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটি ঘটে।

ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং মধুখালী পৌরসভার সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান লিটন জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যা ৭টার সময় কর্মচারীরা দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। গভীর রাতে পাশের এক ব্যবসায়ী ফোন করে তাকে দোকানে আগুন লাগার খবর জানান।

তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এসে দেখি পুরো দোকানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।

তখন এলাকার বিদ্যুৎ ছিল না। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে আমি দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। কিন্তু দোকানে থাকা কাপড়, প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল, বৈদ্যুতিক তারসহ দাহ্যসামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমার ২৭ বছরের তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাশেদুল আলম জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘ডেকোরেটর দোকানের ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রী ও বৈদ্যুতিক উপকরণ থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এরই মধ্যে দোকানের প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারী থানার টিকাটুলি মোড়ে স্থাপিত একটি চেকপোস্টের মাধ্যমে ২২০ পুরিয়া হেরোইন সহ মো. আরাফাত (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আরাফাতের বাড়ি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে, ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিকাটুলী মোড়ে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময়, ইত্তেফাক মোড় থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় সিএনজিতে থাকা আরাফাতের শরীর তল্লাশি করে ২২০ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে বর্তমানে ওয়ারী থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের পর মেলোনিকে আপ্যায়ন করতে যাচ্ছেন মাখোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের পর মেলোনিকে আপ্যায়ন করতে যাচ্ছেন মাখোঁ

ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যে প্রায়ই টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ফরাসি সমুদ্রতীরবর্তী শহর আঁতিবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাখোঁ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে আপ্যায়ন করবেন।

মেলোনি, যিনি ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর ফরাসি রাষ্ট্রপতির আপ্যায়নে যাচ্ছেন।

ফরাসি রিভিয়েরায় মাখোঁর সঙ্গে মেলোনি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন। প্যারিস থেকে সবার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

২০২১ সালে কৌশলগত জোটসংক্রান্ত একটি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর, এটি হবে দুই নেতার প্রথম বৈঠক। ওই চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স-ইতালি সম্পর্ককে ফ্রান্স-জার্মানি সম্পর্কের সমপর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই শীর্ষ বৈঠক প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি ও মহাকাশসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ফ্রান্স-ইতালি সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

ভূমধ্যসাগর উপকূলের মনোরম ভিলা আইলেনরকে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, ‘আমাদের পরস্পরকে প্রয়োজন।’

ইউরোপপন্থী মধ্যপন্থী নেতা মাখোঁ এবং ডান ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর জোটনেতা মেলোনির মধ্যে সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই নেতা স্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র না হলেও, তারা পরস্পরের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে গত বছরের জুনে রোমে দীর্ঘ একান্ত বৈঠকের পর সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়েছিল।

এ বছরের এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মেলোনি লাল রঙের একটি আলফা রোমিও গাড়িতে করে এলিসি প্রাসাদে পৌঁছান। সেখানে মা থোঁ তাকে স্বাগত জানান।

সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্সেস পো-এর ইতালি বিশেষজ্ঞ মার্ক লাজার বলেছেন, 'মতপার্থক্য থাকলেও মাখোঁ ও মেলোনি সম্পর্কের উন্নয়নের সাম্প্রতিক ধারা এগিয়ে নিতে চেষ্টা করবেন।'

দীর্ঘদিন ধরেই মেলোনি নিজেকে ইউরোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। তবে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। ট্রাম্পের ‘অবিরাম ও অকারণ আক্রমণের’ সমালোচনাও করেন তিনি।

লাজার বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ইমানুয়েল মাখোঁকে খুশি করবে।’ কিছু বিষয়ে মাখোঁ ও মেলোনির অবস্থান কাছাকাছি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার মারকোসুর জোটের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসীদের জন্য আটক কেন্দ্র স্থাপনের ইতালির পরিকল্পনার মতো অন্যান্য বহু বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে।

মাখোঁর বিপরীতে মেলোনি ইউক্রেনে ইতালীয় সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার একই অবস্থান।

বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একটি রোডম্যাপে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ফ্রান্স-ইতালির যৌথ এসএএমপি/টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া পারমাণবিক জ্বালানি খাতে একটি সহযোগিতা চুক্তি এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিকল্পিত ইউরোপীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের দ্বৈত অবস্থানে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


জামায়াতের দ্বৈত অবস্থানে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সমালোচকদের মতে, দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড কেবল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ওপর চাপ তৈরি করেও দ্রুত ক্ষমতার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

এমনটাই মনে করছেন তারা। এই আলোচনা মূলত উঠে এসেছে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কার এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যকে অনেকে গঠনমূলক রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখতে চান না; বরং এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি নবগঠিত বা স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের পথে থাকা সরকারকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সমালোচকদের আরেকটি মত হলো—জামায়াত একদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বলছে, কিন্তু অন্যদিকে সরকারের প্রতি পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তাদের মতে, এই দ্বৈত অবস্থান জাতীয় পুনর্মিলন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের পরিবর্তে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত এবং চাপের সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে, যা দ্রুত রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাকেই উৎসাহিত করে।

জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তাদের তুলনামূলক নীরবতা নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, জামায়াত নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এবং ইসলামী সংহতির রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করলেও, এমন কিছু নীতিগত ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত অথবা নীরব, যেখানে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা বা শিল্পখাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই ‘নির্বাচিত প্রতিক্রিয়া’ তাদের বক্তব্য এবং বাস্তব অবস্থানের মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি করছে বলে তারা মনে করেন।

আরেকটি সমালোচনা উঠে এসেছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে দলটি সুবিধা পেয়েছে যেখানে ভিন্নমতকে প্রায়ই “ফ্যাসিস্ট” অথবা সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের মতে, এই ধরনের লেবেলিংয়ের ফলে রাজনৈতিক বিতর্কের স্বাভাবিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা যথাযথ আলোচনা ছাড়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

কারো কারো মতে, জামায়াতের প্রভাব কেবল দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক, শিক্ষাগত, ধর্মীয় এবং নাগরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় সমমনা এবং সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমেও তা বিস্তৃত হচ্ছে। যদিও প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী এসব নেটওয়ার্কের সম্মিলিত প্রভাব নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, যাদের অনেকেই জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশ এখনো ‘রাস্তার রাজনীতি’, জনচাপভিত্তিক আন্দোলন এবং ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দৃশ্যমান কিছু অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক চাপের প্রবণতার প্রভাব মোকাবিলা করছে। ধারাবাহিক সরকারগুলো এসব প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলেও তারা মনে করেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে।

এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। দলটি বিশ্বজুড়ে মুসলিম ইস্যুতে সরব থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ভূমিকা অথবা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—যা জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে—সেসব বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে সমালোচকদের দাবি। তাদের মতে, মুসলিম স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক শক্তির ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আরও ধারাবাহিক ও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশিত।

তবে এই সমালোচনাগুলো সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য নাকি রাজনৈতিক ব্যাখ্যার অংশ—তা একটি চলমান বিতর্কের বিষয়। তবুও উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় হলো, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক শক্তির বর্তমান কৌশল গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্থিতিশীলতার পরিবর্তে দ্রুত ক্ষমতার প্রতিযোগিতার দিকে ঝুঁকছে কি না, সে প্রশ্ন।

একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত একটিই—দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে সংবিধান, প্রতিষ্ঠান এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ রাজনৈতিক সংঘাত এবং অস্থিরতা বাড়লে তার চাপ পড়ে পুরো রাষ্ট্র কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক অর্জনের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%