০৫:০৬ এম
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল এখনও তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান বাংলাদেশ জানিয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ-ইকোসকের উচ্চ পর্যায়ের সভার সাধারণ বিতর্কে এলডিসি দেশগুলোর পক্ষে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ইকোসকের সভায় প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'বর্তমানে ১৪টি এলডিসির দেশ উত্তরণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।' নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বাহ্যিক বিপর্যয়ের কারণে, বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের প্রস্তুতিমূলক মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে।
এই অতিরিক্ত সময়কে একটি 'কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'জটিল অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উত্তরণগামী এলডিসিগুলোর জন্য, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো জোরদার করতে এই অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য।'
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর পেছাতে সরকারের করা আবেদনে জাতিসংঘের সাড়া মেলার তথ্য আগেই দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ২ জুন জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র (সিডিপি) ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু করোনা (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সেই হিসেবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রফতানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকবে না। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন গঠিত সিডিপি।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন