ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুভ মহালয়া, কুমিল্লার মন্দিরে দেবীর আগমনের অপেক্ষা


শুভ মহালয়া, কুমিল্লার মন্দিরে দেবীর আগমনের অপেক্ষা

ভোরের আলো ফোটার পূর্বে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি শুরু হয়। কেউ ফুল নিয়ে আসে, কেউ পূজার ডালা নিয়ে। ধূপের মনমুগ্ধকর গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং চণ্ডীপাঠের সুরে মন্দিরের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।

দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কুমিল্লার বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ভক্তদের কাছে পৌঁছে যায়।

মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ ধর্মীয় দিন। এই দিনেই দেবীপক্ষের সূচনা ঘটে। পিতৃপক্ষের অবসানের পর দেবী দুর্গাকে বরণ করার প্রতীক্ষা শুরু হয়। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এগিয়ে আসতে থাকে।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

মহালয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চণ্ডীপাঠ। দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুরবিনাশ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের কাহিনী এই পাঠের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। ভক্তদের কাছে এর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে, পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, প্রার্থনা এবং নতুন আশার বার্তা প্রদান করে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুরে শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মাতার মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মহালয়া উপলক্ষে প্রাঙ্গণ সজ্জিত করা হয়েছে। ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছেন শত শত ভক্ত। শ্রী শ্রী চণ্ডীপূজা, চণ্ডীপাঠ, বর্ণনা-কীর্তন, ধর্মীয় নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন এবং প্রসাদ বিতরণসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্দিরে আসা অনেকের কাছে দিনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নয়, বরং পরিবার-পরিজন ও পরিচিতদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি উপলক্ষও।

মন্দিরের আয়োজকরা জানান, এ বছর কুমিল্লার ১৭টি গীতাশিক্ষালয় থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার অভিভাবক ও ভক্ত মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন

অ্যাড. স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, কুমিল্লায় মহালয়ার আয়োজন বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। দেবীপক্ষের সূচনায় প্রার্থনা ও ভক্তির মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর আগমনকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আজ থেকে দুর্গোৎসবের দিনগুলোর জন্যও অপেক্ষা শুরু হয়।

মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। মণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা, পূজার উপকরণ সংগ্রহ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব বণ্টন—সব মিলিয়ে উৎসব ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মন্দিরকেন্দ্রিক এসব আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ দেব বলেন, মহালয়া কেবল একটি তিথির নাম নয়; এটি অপেক্ষা, স্মরণ এবং আশার সম্মিলন। অশুভের বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগায়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লায় মোট ৮৬০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরী এলাকায় ১৩১টি মণ্ডপে আয়োজন চলছে। গত বছরের তুলনায় এবছর মণ্ডপের সংখ্যা ৪২টি বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আকতার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আজ (১০ অক্টোবর) থেকে মণ্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় নানা প্রতিকূলতায় আমন আবাদে ১৫০ হেক্টর ঘাটতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


পাইকগাছায় নানা প্রতিকূলতায় আমন আবাদে ১৫০ হেক্টর ঘাটতি

খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অতিবৃষ্টির ফলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি, লবণাক্ততা এবং জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে। এর ফলে ফসলের ফলন এবং লাভ নিয়ে কৃষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু কৃষক ধানের পরিবর্তে মাছ চাষে বেশি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এর মানে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

পাইকগাছার উপকূলীয় জনপদের বহু মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যে আমন ধান অন্যতম প্রধান ফসল। বর্ষার বৃষ্টি ও জমির আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এই ধান চাষ করেন। তবে এবারের মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি এবং পরে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাষাবাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করা হলেও অতিবৃষ্টির কারণে সেগুলো পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নতুন করে চারা উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কিছু জায়গায় লাগানো চারা মারা যাওয়ায় জমি অনাবাদি থেকে গেছে।

কৃষির জন্য আবহাওয়ার পাশাপাশি জমিতে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চারা রোপণ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে নতুন চারা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততাও ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পাইকগাছায় এসব প্রতিকূলতা আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

পাইকগাছা পৌরসভার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, "ধান চাষের শুরু থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে খরচ করতে হয়। জমি চাষ, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনের পাশাপাশি ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করতে হয়। আবহাওয়ার কারণে চারা নষ্ট হলে খরচ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে।"

তিনি আরও বলেন, "কৃষি উপকরণের দাম ও উৎপাদন খরচ কমানো গেলে কৃষকেরা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়টিও আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের ইউনিয়নভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গড়ইখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর এবং চাঁদখালী ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এছাড়া কপিলমুনি ইউনিয়নে ৮৮০ হেক্টর, লতা ইউনিয়নে ৮৭০ হেক্টর, লস্কর ইউনিয়নে ৮২০ হেক্টর, হরিঢালী ইউনিয়নে ৮১৫ হেক্টর, গদাইপুর ইউনিয়নে ৫৯০ হেক্টর, সোলাদানা ইউনিয়নে ৫৮০ হেক্টর ও রাড়ুলী ইউনিয়নে ৫২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। পৌরসভা এলাকায় আবাদ হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন বলেন, "চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে কয়েক দফায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। কিছু জমিতে রোপণ করা চারাও মারা গেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও রয়েছে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকেরা যাতে উৎপাদন ধরে রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। ২০২০ এবং ২০২১ সালেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তবে বর্তমান সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান, ই-ট্র্যাকার ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি বললেও রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা কম জানিয়ে বলেন, মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে; তবে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রকোপ কমানোর জন্য কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে তবেই সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিত। কিন্তু এবার তিন মাস আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে এবং ডেঙ্গু চিকিৎসায় দুই হাজার চিকিৎসক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি অতীতের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম বলেও দাবি করেন।

হামের প্রকোপ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা না দেয়ার কারণে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসেছে। হাম করোনার চেয়ে অধিক সংক্রামক, একবার শুরু হলে থামানো কঠিন। তাই শত চেষ্টাতেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। টিকাদান ক্যাম্পেইন চলছে এবং এ পর্যন্ত দুই কোটি শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকবে এবং ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হয়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ছয় মাসে চিকিৎসক, নার্স এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সেমিনারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে আটক ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


দিল্লিতে আটক ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) তার আটকাদেশ কার্যকর হয়। মানিক সরকার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)—সিপিআই(এম)-এর একজন নেতা এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে সিইসির বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের কারণে এ পর্যন্ত সাবেক ৪ মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে এসব ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অভাব

শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইজন, আর শিক্ষক পাঁচজন। কোথাও দেখা যাচ্ছে, পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক শিক্ষক নিয়োজিত আছেন, আবার কোথাও দুপুরের পর শ্রেণিকক্ষ একেবারেই ফাঁকা। কোনো বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর থাকলেও কর্মস্থলে তাদের উপস্থিতি নেই। বরগুনার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষকের অনুপস্থিতি, একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার নিম্নমানের অভিযোগের কারণে। বিদ্যালয় ভবন রয়েছে, শিক্ষক পদও মঞ্জুর হয়েছে; কিন্তু শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ফলে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সরকারি বিদ্যালয় ত্যাগ করে কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার দিকে ঝুঁকছেন।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রে এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতা উঠে এসেছে। বরগুনা সদর উপজেলার মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সুনসান সুন্দর ভবন ও সাজানো শ্রেণিকক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। পাশের চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল পাঁচজন। সেখানে দুই শিক্ষিকা উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যার এই অসামঞ্জস্য কেবল জনবল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়, বরং বিদ্যালয়ের কার্যকারিতা, পাঠদানের পরিবেশ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা, আশপাশে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং অভিভাবকদের পছন্দ পরিবর্তনের বিষয়ও রয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে বেতাগীর পূর্ব হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে খালি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ হাজিরা খাতায় চারজন শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিল। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে একসঙ্গে পাঠদান করছিলেন একজন শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভিত্তিক পাঠ্যক্রম কতটা আয়ত্ত করতে পারছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে উত্তর দেশান্তরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। পাশের চানমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র ছিল প্রায় একই রকম। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীশূন্য থাকার ঘটনা নিয়মিত কি না, তা যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অভিভাবক মহলের।

বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষকদের কেউ যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, কেউ মাদ্রাসার প্রসার, আবার কেউ কিন্ডারগার্টেনের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহের কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকেই ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি স্কুলকে দেখার প্রবণতাও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ আরও সরাসরি। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দুর্বল পাঠদান, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ এবং তদারকির ঘাটতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। সন্তানের ভালো শিক্ষার প্রত্যাশায় বাড়তি খরচ করেও কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করছেন অনেকে। কিছু অভিভাবককে সন্তানদের পড়াতে কয়েক কিলোমিটার দূরের প্রতিষ্ঠানে ছুটতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে এভাবে শিক্ষার্থী হারানোর প্রবণতা কমানো সম্ভব।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৭৯৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ জন। শিক্ষক পদ মঞ্জুর রয়েছে ৫ হাজার ৪৭টি।

মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার বলেন, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীরাও ভাগ হয়ে যাচ্ছে। চরপাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. পারভীন জানান, শিক্ষার্থী কম হলেও শিক্ষকদের পুরো সময় বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, পাশাপাশি শিক্ষকসংকটের সমস্যাও রয়েছে।

সচেতন এলাকাবাসী জানান, শিক্ষার্থী ধরে রাখতে এখন শুধু ভর্তি কার্যক্রম বা অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত ও শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান, শূন্য পদ পূরণ, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। হাজিরা খাতা ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে অসংগতি থাকলে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী উপস্থিতি, ঝরে পড়ার হার এবং শিখনফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রধান ভরসা। সেই প্রতিষ্ঠানেই যদি শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, দুর্বল পাঠদান ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়মিত চিত্র হয়ে ওঠে, তবে একটি প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরগুনার প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট তাই শুধু শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার নয়, এটি শিক্ষার মান, প্রশাসনিক তদারকি ও জনআস্থার সংকট। এখন প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের এই বাস্তবতা বদলাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%