০৪:৫৩ পি.এম
ভোরের আলো ফোটার পূর্বে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি শুরু হয়। কেউ ফুল নিয়ে আসে, কেউ পূজার ডালা নিয়ে। ধূপের মনমুগ্ধকর গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং চণ্ডীপাঠের সুরে মন্দিরের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।
দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কুমিল্লার বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ভক্তদের কাছে পৌঁছে যায়।
মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ ধর্মীয় দিন। এই দিনেই দেবীপক্ষের সূচনা ঘটে। পিতৃপক্ষের অবসানের পর দেবী দুর্গাকে বরণ করার প্রতীক্ষা শুরু হয়। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এগিয়ে আসতে থাকে।
আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ
মহালয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চণ্ডীপাঠ। দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুরবিনাশ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের কাহিনী এই পাঠের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। ভক্তদের কাছে এর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে, পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, প্রার্থনা এবং নতুন আশার বার্তা প্রদান করে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুরে শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মাতার মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মহালয়া উপলক্ষে প্রাঙ্গণ সজ্জিত করা হয়েছে। ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছেন শত শত ভক্ত। শ্রী শ্রী চণ্ডীপূজা, চণ্ডীপাঠ, বর্ণনা-কীর্তন, ধর্মীয় নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন এবং প্রসাদ বিতরণসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্দিরে আসা অনেকের কাছে দিনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নয়, বরং পরিবার-পরিজন ও পরিচিতদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি উপলক্ষও।
মন্দিরের আয়োজকরা জানান, এ বছর কুমিল্লার ১৭টি গীতাশিক্ষালয় থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার অভিভাবক ও ভক্ত মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন
অ্যাড. স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, কুমিল্লায় মহালয়ার আয়োজন বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। দেবীপক্ষের সূচনায় প্রার্থনা ও ভক্তির মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর আগমনকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আজ থেকে দুর্গোৎসবের দিনগুলোর জন্যও অপেক্ষা শুরু হয়।
মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। মণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা, পূজার উপকরণ সংগ্রহ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব বণ্টন—সব মিলিয়ে উৎসব ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মন্দিরকেন্দ্রিক এসব আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ দেব বলেন, মহালয়া কেবল একটি তিথির নাম নয়; এটি অপেক্ষা, স্মরণ এবং আশার সম্মিলন। অশুভের বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগায়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লায় মোট ৮৬০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরী এলাকায় ১৩১টি মণ্ডপে আয়োজন চলছে। গত বছরের তুলনায় এবছর মণ্ডপের সংখ্যা ৪২টি বেড়েছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আকতার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আজ (১০ অক্টোবর) থেকে মণ্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন