মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৩ পি.এম
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, ৮৭ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা রিভার প্লেটের রেকর্ড ভেঙে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলের পক্ষ থেকে ঘরোয়া লিগে টানা ৯৪ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়া হয়েছে।
আল নাসরের জন্য এই রেকর্ড ভাঙতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর আল-রিয়াদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় দিয়ে শুরু হয় তাদের টানা গোলের এই যাত্রা। এরপর সৌদি প্রো লিগের প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে দলটি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আবহার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে রোনালদোর করা গোলের মাধ্যমে ৯৩ ম্যাচের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসায় আল নাসর। এরপর আল খালিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই আসে ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
আল খালিজের বিরুদ্ধে আল নাসরের হয়ে গোল করেন আবদুল্লাহ আল-হামদান। তার গোলেই টানা ৯৪ লিগ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়ে দলটি। এই সঙ্গে পতন ঘটে ১৯৩০-এর দশক থেকে টিকে থাকা আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটের রেকর্ডের।
১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত টানা ৯৩টি ঘরোয়া লিগ ম্যাচে গোল করেছিল রিভার প্লেট। সেই বিখ্যাত দল ‘লা মাকিনা’র হয়ে খেলেছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলাররা, যেমন হোসে ম্যানুয়েল মোরেনো ও অ্যাডলফো পেদেরনেরা। ওই ৯৩ ম্যাচে রিভার প্লেটের গোলসংখ্যা ছিল ৩০১।
৮৭ বছর পর সেই কীর্তিতে ছেদ টানল আল নাসর। রেকর্ড গড়ার এই অভিযানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আল নাসরের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি তিনি। রেকর্ড স্পর্শ করার ম্যাচে আবহার বিপক্ষে গোল করে নতুন ইতিহাসের দরজাও খুলে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ এই তারকা।
তবে রিভার প্লেটের আরও একটি কীর্তি এখনো অক্ষত রয়েছে। শুধু লিগ নয়, সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯৬ ম্যাচে গোল করেছিল আর্জেন্টাইন ক্লাবটি। এর মধ্যে ছিল ৯৩টি লিগ ম্যাচের পাশাপাশি পেনিয়ারোলের বিপক্ষে দুটি এবং রোজারিও সেন্ট্রালের বিপক্ষে একটি কাপ ম্যাচ।
সেই রেকর্ড আপাতত অক্ষত থাকলেও ঘরোয়া লিগে নতুন ইতিহাস লিখেছে আল নাসর। ৮৭ বছর ধরে রিভার প্লেটের দখলে থাকা রেকর্ড এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের সৌদি ক্লাবটির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের 2-K চাইল্ডকেয়ার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার শিশু পূর্ণদিবস ও বছরব্যাপী বিনামূল্যের সেবা পাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব পরিবারের জন্য 2-K সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া চার বরোর নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কাজে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
এই কর্মসূচির চাহিদা যে কতটা বেশি, তা আবেদনসংখ্যাতেই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় তিনটি আবেদন ছিল। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোর ৮২ শতাংশ তাদের পছন্দের শীর্ষ তিনটির মধ্যে কোনো একটি কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার পেয়েছে তাদের প্রথম পছন্দের আসন।
পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাশ্রয়ও এই কর্মসূচির অন্যতম বড় দিক। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, একটি বিনামূল্যের 2-K আসন একটি পরিবারকে গড়ে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন মামদানি বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্তত ২০ হাজার ডলারের বার্ষিক চাইল্ডকেয়ার ব্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
উদ্বোধনের সময় মামদানি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে বাবা-মায়েদের সন্তানদের চাইল্ডকেয়ারের খরচ নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি এটিকে নিউইয়র্কের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছু পরিবার জানিয়েছে, বিনামূল্যের এই সেবা তাদের কাজে ফেরার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে শুরুতেই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানান, কিছু কেন্দ্রে ১০০ জনের বেশি শিশুর ওয়েটলিস্ট ছিল এবং অতিরিক্ত আসন তৈরি হওয়ায় ওয়েটলিস্ট থেকে পরিবারগুলোকে অফার দেওয়া শুরু হয়েছে।
কর্মসূচিটি চালুর আগে অবশ্য কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও সামনে এসেছিল। চাইল্ডকেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্টে মামদানি প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং চাইল্ডকেয়ার প্রদানকারীদের পেমেন্ট দ্রুত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে।
2-K কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ আরও বড়। নিউইয়র্ক স্টেট প্রথম বছরে এই কর্মসূচিতে ৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। ২০২৭ সালে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডও তখন অন্তর্ভুক্ত করার কথা। গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বছরে এ কর্মসূচির জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
মামদানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক সিটির যে কোনো পরিবারের জন্য 2-K আসন নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, কর্মী ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের নতুন 2-K কর্মসূচি শুধু দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; কর্মজীবী পরিবারগুলোর চাইল্ডকেয়ার ব্যয় কমানো এবং বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে থাকার সুযোগ তৈরির একটি বড় সামাজিক কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম ধাপের বিপুল চাহিদা এর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে আমন মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট করে সার আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম মাঠের পাড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। এ ছাড়া রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কেও কৃষকরা বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচির কারণে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিলারদের কাছে ঘুরেও চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত টাকা দিলেও সার মিলছে না। আবার গোপনে সার বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কৃষক শফিকুল ইসলাম শফি (৬২) বলেন, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। ঘটনার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রকৃত কৃষকরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। সময়মতো সার না পেলে আমন ধানের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক মোসলেম উদ্দিন (৫৫) বলেন, সরকারি হিসেবে সারের সংকট নেই বলা হলেও ডিলারের দোকানে গেলে সার পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ও কৃষি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চাহিদা অনুযায়ী অন্য ইউনিয়ন থেকে দুই মেট্রিক টন সার এনে বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। তবে সেখানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। রামখানা ইউনিয়নে আমন মৌসুমের সার বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে জরিপ করা হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে চাহিদামতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেলসহ মো. আদম আলী (৩৬) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. আপেল (৩৯) নামের অপর এক মাদক কারবারি পালিয়ে যায়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের উত্তর সুখাতী গ্রামের হাসেন আলীর মুদি দোকানসংলগ্ন ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. আদম আলী নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মমিনগঞ্জ গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে। পলাতক মো. আপেল একই উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের সাতকুড়াপাড় (পান্তাবাড়ী) এলাকার মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক আবু নায়েম মো. কাজী নুরন্নবীর নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হলে আদম আলীকে আটক করা হয়। অপর আসামি আপেল দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইয়াবা ভর্তি একটি পলিথিনের প্যাকেট ও মোবাইল ফোন ফেলে যায়।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে আদম আলীর পকেট থেকে ৪০ পিস এবং পলাতক আপেলের ফেলে যাওয়া প্যাকেট থেকে ৬২ পিসসহ মোট ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১০ দশমিক ২ গ্রাম। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অ্যাপাচি ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের পরিদর্শক আবু নায়েম মো. কাজী নুরন্নবী বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ৫-০ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন ১৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান। সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে তিনি জোড়া গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
কাভান সুলিভানের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন আবারও একটি বড় জয় অর্জন করেছে। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণের দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে সান দিয়েগো এফসিকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছে তারা। এই জয়ের ফলে মেজর লিগ সকারে ফিলাডেলফিয়া টানা দুই ম্যাচে ৫-০ গোলের জয় পেয়েছে।
স্ন্যাপড্রাগন স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সান দিয়েগোর ইয়ান মারফি সহিংস আচরণের জন্য লাল কার্ড পান, তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় তা বাতিল করা হয়। যদিও একজন কমে না গেলেও বিরতির আগে ফিলাডেলফিয়া স্বাগতিকদের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হয়।
কাভানের পা থেকে আসে সেই গোল। ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের ক্রস পেয়ে তিনি দুর্দান্ত ব্যাকহিল শটে বল জালে পাঠান। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে করা সেই গোলের মাধ্যমে ফিলাডেলফিয়া এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিট পেরোতেই কাভান আবার গোল করেন। এবারও ভাসিলেভ তাঁকে গোলের সুযোগ করে দেন। বক্সের ডান দিক থেকে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শটে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান কাভান।
এর ছয় মিনিট পর ফিলাডেলফিয়ার তৃতীয় গোলেও কাভানের অবদান ছিল। ব্রুনো দামিয়ানির গোলের সময় কাভান ও ফ্র্যাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ডকে অ্যাসিস্টের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এরপর ৮৭ মিনিটে আনিবাল গোদয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান ৪-০ হয়। যোগ করা সময়ে মালিক জাকুপোভিচ সহজ ট্যাপে পঞ্চম গোলটি করেন।
ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে ফিলাডেলফিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা ২১টি শট থেকে ২.৭৫ প্রত্যাশিত গোলের সুযোগ তৈরি করে। অপরদিকে, সান দিয়েগোর ১০ শট থেকে প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.২১।
বিশ্বকাপ বিরতির পর রায়ান রিখটারের অধীনে ফিলাডেলফিয়া দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তাঁর অধীনে মেজর লিগ সকারে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত তারা—জিতেছে সাতটি এবং ড্র করেছে তিনটি। এই ধারায় পূর্বাঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় তারা সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে।
কাভানের অবদানও এই সাফল্যে উল্লেখযোগ্য। গত সাত ম্যাচে তিনি সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন—পাঁচ গোল ও সাত অ্যাসিস্ট। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়া টানা তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি।
সান দিয়েগোর বিপক্ষে কাভান ছিলেন দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে তাঁর স্পর্শ ছিল সর্বাধিক সাতটি। শেষ তৃতীয়াংশে তিনি সর্বাধিক ২০টি পাস দিয়েছেন এবং পাঁচবার বল দখল করে নেওয়ার কৃতিত্বে দলের শীর্ষে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা কাভানের জন্য এই ম্যাচটি ছিল আরেকটি বড় বার্তা। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নিয়মিত গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দিয়ে মেজর লিগ সকারে নিজের প্রভাব ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ