১০:১৩ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বিশ্বাস পোষণ করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং শিগগিরই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, কারণ আমি আপনার প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি। তিনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা একটি চুক্তি করব।
দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির সুবিধা গ্রহণ করছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অত্যধিক শুল্ক আরোপ করেছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের কোম্পানির ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে, অথচ আমরা তাদের কাছ থেকে কিছুই নিইনি।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতে এসে অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চার দিনব্যাপী আলোচনা সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সেই আলোচনা শেষ হয়।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনাগুলো সহযোগিতা ও বাস্তববাদিতার মনোভাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশ একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।
ট্রাম্প আলোচনার সময় মার্কিন মোটরসাইকেল নির্মাতা হার্লি-ডেভিডসন-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির জন্য দেশটিতে মোটরসাইকেল বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, অতীতে তারা হার্লে-ডেভিডসনকে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে দিত না এবং তারা ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। ফলে কোম্পানিটি ভারতে নিজেদের কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক, তবে এর বিপরীতে ট্রাম্প বলেন, ভারতীয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোনো ধরনের শুল্ক বাধা ছিল না। তার ভাষায়, “তারা এখানেও মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। জানেন আমরা কত শুল্ক নিয়েছি? কিছুই না। আর এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করছি।”
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপের কাঠামো চূড়ান্ত করে। ওই কাঠামোর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার এবং অবশিষ্ট শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথাও ছিল।
তবে ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়। এই শুল্ক ব্যবস্থা ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন- এর আওতায় কার্যকর করা হয়েছিল। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং পরবর্তী পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা সফল হলে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গভীর হবে এবং বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন