০৮:৫৯ এম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে স্থানীয়রা ইচ্ছামতো স্পিডব্রেকার নির্মাণ করেছেন। এই সড়কে গড়ে প্রায় ২৫০ মিটার পর পর একটি করে গতিরোধক রয়েছে। ফলে মাত্র সাত কিলোমিটারে ২৯টি স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হয়েছে।
চালকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন গতকাল সোমবার অবৈধভাবে নির্মিত এসব স্পিডব্রেকার অপসারণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাত দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির নাম কাঞ্চন জিসি-স্বর্ণখালী বাজার-ছনপাড়া আরএইচডি সড়ক। সড়কটি কাঞ্চন বাজার (চান টেক্সটাইল মোড়) থেকে শুরু হয়ে ছনপাড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে মিশেছে। কাঞ্চন সেতু এলাকায় যানজটের সময় সিলেটগামী দূরপাল্লার পরিবহন এই সড়কটি বাইপাস হিসেবে ব্যবহার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটিতে অপরিকল্পিতভাবে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। উপজেলা প্রশাসন সড়কটি পরিদর্শন করে অবৈধ স্পিডব্রেকার অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের সম্মাননা প্রদান
চালকদের অভিযোগ, সড়কটির সাত কিলোমিটারে অত্যধিক স্পিডব্রেকারের কারণে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। বিশেষ করে প্রাইভেটকারসহ ছোট যানবাহনের নিচের অংশ স্পিডব্রেকারে আটকে ক্ষতির সম্মুখীন হতো। এতে সময় নষ্ট হতো এবং যানবাহন মেরামতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতো।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি, সড়কটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসী এসব স্পিডব্রেকার স্থাপন করেছিলেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম এবং ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু প্রমুখ।
ইউএনও এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, যানবাহন চালকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি সড়কটিতে ২৯ থেকে ৩১টি স্পিডব্রেকার রয়েছে। এগুলোর বৈধতা নেই। তিনি আরও বলেন, যেখানে প্রয়োজন, বিশেষ করে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্পিডব্রেকার স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: স্কুলের দুধ চুরির অভিযোগ, উদ্ধার দুই কার্টন
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন বলেন, এলজিইডির আওতাধীন কোনো সড়কে ব্যক্তি বা স্থানীয় কোনো পক্ষ ইচ্ছামতো স্পিডব্রেকার স্থাপন করতে পারে না। সড়কে স্বাভাবিক চলাচল, যানবাহনের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনা করে স্পিডব্রেকার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার প্রয়োজন মনে করলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও জনবহুল এলাকায় স্পিডব্রেকার নির্মাণ করবে এলজিইডি।
তিনি আরও বলেন, সড়কটিতে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সব স্পিডব্রেকার অপসারণ করা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে এবং চালকদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্পিডব্রেকার অপসারণের অর্থ এই নয় যে, সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর পরেও কেউ অবৈধভাবে সড়কে স্পিডব্রেকার নির্মাণ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন