ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইইউতে তালেবান, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন বাঁক


ইইউতে তালেবান, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন বাঁক

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন নেতাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি হচ্ছে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীদের কোনো প্রতিনিধিদল ব্রাসেলসে ইইউর সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ পেল।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তালেবান ধীরে ধীরে ইউরোপের কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা। এ ঘটনার ফলে পশ্চিমা কূটনৈতিক কৌশলের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রাসেলসে তালেবানের উপস্থিতি বিশ্ব কূটনীতিতে একটি নতুন বাঁক সৃষ্টি করছে। বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নাগরিকদের ‘মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়। গত ২৩ জুনের বৈঠকটিকে আফগান সরকার 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ একটি আস্থা তৈরির পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইইউতে তালেবানের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে কিছুটা ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ইইউর ২৭টি দেশের মধ্যে ১৫ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করতে চেয়েছেন তারা।

২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর পরাজয়ের পর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে তারা নাগরিক অধিকারের উপর, বিশেষ করে নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ইইউতে তালেবানের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর একটিও দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই তালেবান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় রয়েছেন। তবে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সেই বিচ্ছিন্নতার ভেতরে একটি ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পর আফগান নেতারা ইউরোপের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে কাজ করে চলেছেন। যদিও বৈঠকের জন্য তালেবান নেতাদের যে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এছাড়া ওই ভিসায় অন্য কোথাও যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভো জানিয়েছেন, তালেবান প্রতিনিধিদের ভিসা দেওয়ার জন্য বেলজিয়াম ইইউর অনুরোধ মেনে চলেছে। তবে বৈঠকের মাধ্যমে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইইউ দেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠের চাপের জবাবে বৈঠকটি হয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেছেন, আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এর মানে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়।

বেলজিয়ামের অভিবাসনমন্ত্রী অ্যানলিন ভ্যান বসুইট বৈঠকের আগে একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, আমরা আর স্থবিরতা বজায় রাখতে পারি না। একটি শক্তিশালী ও যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এটি সঠিক সময়। যাতে ইউরোপ অভিবাসন ও নিরাপত্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

তালেবান এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিবিষয়ক গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ইউরোঅ্যাকটিভ জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে আফগানদের জন্য কনস্যুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য ইইউ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্রাসেলস সফরকে কাজে লাগিয়েছে তালেবান।

আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার

তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বলখি ইউরোঅ্যাকটিভকে জানিয়েছেন, ‘ইইউ অঞ্চলে আফগানদের জন্য ব্যাপক পরিসরের কনস্যুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা বিদেশে বসবাসকারী আফগানদের কনস্যুলার অধিকার সুরক্ষিত করতে একটি ইতিবাচক গতি সঞ্চার করতে চাই।’

অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, ইউরোপে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া আফগান নাগরিকদের শনাক্তকরণ, ভ্রমণ নথি প্রদান ও তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফরসেল ইউরো নিউজকে বলেন, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা আফগানরা গুরুতর অপরাধী। সুইডেনে প্রায় ২০০ আফগান নাগরিক নির্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইউরোপের কোন দেশে কতজন আফগান নাগরিক রয়েছে, সেই বিষয়ে ইউরোপীয় জাতীয় তথ্য অনুসারে দেখা যায়, জার্মানিতে ৪.৩ – ৪.৫ লাখ, অস্ট্রিয়ায় ৮০-৯০ হাজার, ফ্রান্স ও সুইডেনে ৬০-৭০ হাজার, নেদারল্যান্ডসে ৫০-৬০ হাজার, বেলজিয়ামে ২৫-৩০ হাজার, নরওয়েতে ২৫-৩০ হাজার, ডেনমার্কে ২০ হাজারের কাছাকাছি, ফিনল্যান্ডে ১০-১২ হাজার এবং ইতালিতে ২০-৩০ হাজার আফগান নাগরিক অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু

এছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ আফগান নাগরিক রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে, এ অবস্থায় ইউরোপীয় সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর চিন্তা করছে। তাই তালেবানকে ব্রাসেলসে ডাকার প্রয়োজন ইইউ-এর।

মানবাধিকারকর্মীরা কী বলছেন: রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ইসলামী জঙ্গিদের বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছে। তবে ইইউ এটিকে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসন সহজ করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছে।

এছাড়া ইউরোপের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান অধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। ওই বৈঠকের পর তিনি লিখেছেন, ইইউ তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করছে জেনে তিনি গভীরভাবে হতাশ। সামাজিক মাধ্যমে এক্সের পোস্টে তিনি লেখেন, ইউরোপের উচিত নয় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার সংকটের জন্য দায়ী একটি শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া। তালেবানের সঙ্গে যে কোনো সংযোগ আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকারকে কেন্দ্র করেই শুরু এবং শেষ হতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, তালেবানের সঙ্গে হওয়া যে কোনো আলোচনায় মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্বাসিত আফগান নাগরিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

তিনি বলেন, ইইউ তালেবানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জবাবদিহিতা দাবি করছে, অন্যদিকে আফগান নাগরিকদের জোর করে তালেবানের হাতে তুলে দিতে চেয়ে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।

ইউএনএইচসিআর-এর নীতি উন্নয়ন ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক প্রধান ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং ফেলো জেফ ক্রিস্প বলেন, সবচেয়ে স্পষ্ট এবং বিপজ্জনক পরিণতি হলো, আফগানদের ইইউ থেকে ফেরত পাঠানো হলে তারা তালেবানের নিপীড়নের শিকার হবে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি ও ইউরো নিউজ

আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টির পর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ যেসব রোগের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২১ এম


টানা বৃষ্টির পর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ যেসব রোগের কারণ

দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে জনজীবন বর্তমানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সহ বহু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন জেলায় উজানের ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে অসংখ্য মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, পানিবাহিত এবং সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে, তারা সতর্ক থাকার জন্য ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), হেপাটাইটিস এ ও ই-সহ বিভিন্ন রোগের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, বন্যা এবং জলাবদ্ধতার সময় দুই কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। প্রথমত, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাদ্য এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকট দেখা দেয়। চারপাশে পানি থাকলেও তা পানযোগ্য নয়, ফলে দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ডায়রিয়া সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্য গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। এটি শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বের করে নেয়, ফলে রোগী মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। কলেরা হল ডায়রিয়ার কারণে হওয়া একটি সংক্রামক রোগ, যা যোগাযোগপূর্ণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলস্বরূপ হয়ে থাকে। শারীরিক অবস্থার মধ্যে তীব্র ডায়রিয়া, বারবার বমি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ উপস্থিত হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কিডনির জটিলতা বা শকের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, রোগের কারণ যদিও আলাদা, তবে ডায়রিয়া এবং কলেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হল শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা। এজন্য দ্রুত ওরস্যালাইন খাওয়ানো, নিরাপদ পানি পান করানো এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি আসতে পারে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিবেশগত প্রভাব থেকে। এ সময় পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা, সাপের কামড়, জলাবদ্ধ পানিতে থাকা কাচ, টিন বা ধারালো বস্তুতে পা কেটে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেও ঝুঁকি শেষ হয় না। এ সময় টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়তে পারে। টাইফয়েডের জটিলতায় অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, হেপাটাইটিস, পিত্তথলির প্রদাহ এবং এমনকি মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যান। এগুলোর মধ্যে বড় অংশই শিশু।

হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত অন্যান্য হেপাটাইটিসের তুলনায় কম জটিল, কিন্তু গর্ভবতী নারীদের জন্য হেপাটাইটিস ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং খাবার প্রস্তুত ও দৈনন্দিন কাজে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া, দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বা আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে থাকার কারণে স্ক্যাবিসসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এসব সংক্রমণ থেকে কিডনির জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

বন্যাকবলিত এলাকায় নারী-পুরুষ উভয়েই ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (ইউটিআই) আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যদি মানুষ ও গবাদিপশু একই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে, তাহলে অ্যানথ্রাক্সের মতো প্রাণিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে আছেন। জ্বর, ডায়রিয়া, পেশিব্যথা, কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, নিরাপদ টয়লেট ব্যবহার, বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া জলাবদ্ধ পানিতে না নামার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। যদি পানিতে নামতেই হয়, তাহলে পরে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে শরীর পরিষ্কার করতে এবং শুকনো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হতাশ ম্যাক্রোঁ বললেন ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ এম


হতাশ ম্যাক্রোঁ বললেন ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফরাসিদের হারিয়ে স্প্যানিশরা ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

তবে, এই হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ফরাসি দলটির ব্যাপারে আশার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ম্যাচশেষে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ম্যাক্রোঁ ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে অভিনন্দন জানান।

একই সঙ্গে, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের দলের প্রশংসা করে লেখেন, ‘যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে সাধুবাদ। দেশের জার্সির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আপ্রাণ চেষ্টার জন্য ‘লে ব্লুজ’দের ধন্যবাদ। আজকের এই পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এ দলটি এখনো তরুণ এবং এদের সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ রয়েছে।’

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিনিশিংয়ের যে ঘাটতি ছিল, সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে তা কাটিয়ে উঠেছে স্পেন। নিখুঁত রক্ষণ এবং দুর্দান্ত আক্রমণের মিশেলে, ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে চেপে ধরে তারা। পুরো ম্যাচে কখনোই মনে হয়নি, খেলা দে লা ফুয়েন্তের দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পেনের অন্যতম আবিষ্কার লামিন ইয়ামালকে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিনিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল।

এরপর মিডফিল্ডার দানি ওলমোর একটি দুর্দান্ত থ্রু-বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে পোরো ম্যাচসেরার (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কারও জিতে নেন।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। আগামী রোববার নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের (ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা) জয়ী দলের বিপক্ষে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে স্পেনের অংশগ্রহণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে কি করোনো ভাইরাস আবার ফিরে আসছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ এম


ভারতে কি করোনো ভাইরাস আবার ফিরে আসছে?

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে, এবং নতুন করে আটজন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এই অবস্থার ফলে রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। একই সময়ে, প্রতিবেশি রাজ্য ওড়িশায় মৃত্যুর ঘটনায় সরকার সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায়, জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সি আরেক ব্যক্তিও মারা যান। উক্ত ঘটনার পর, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আক্রান্ত এলাকার জন্য বিশেষ ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মুম্বাইতে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গত রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের পরিস্থিতির কারণে, ওড়িশা সরকার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে (মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম এবং নবরঙ্গপুর) লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও ওড়িশায় বর্তমানে কোনো পজিটিভ কেস নেই, তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই কেন? এর উত্তর দিতে গিয়ে ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ড. দিলীপ গুড়ে মন্তব্য করেন, ‘কাদাপ্পা এলাকায় যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা দুজনেই ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনিজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের কারণে এই ধরনের রোগীদের আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিকের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদানের ফলে শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে, দেশজুড়ে বড় ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে মনে করা হচ্ছে।

অস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল জানান, ‘কোভিড এখন এন্ডেমিক (স্থানীয় রোগ) পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। আমাদের কাছে নজরদারি ও জিনোমিক পরীক্ষার মতো সব অস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। তাই বিধিনিষেধের ভয় না পেয়ে আমাদের কেবল সতর্ক থাকতে হবে।’

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র দাবদাহে পুরুষদের তুলনায় কেন বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ এম


তীব্র দাবদাহে পুরুষদের তুলনায় কেন বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা?

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ বা হিটওয়েভ দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তীব্র গরমের এই প্রকোপ পুরুষ ও নারীর ওপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। জৈবিক, হরমোনজনিত এবং সামাজিক বিভিন্ন কারণে তীব্র গরমে পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা নারীদের শরীরে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, উদ্বেগ, হাত-পা ফুলে যাওয়া, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাব এবং হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিঘাত আরিফ তীব্র দাবদাহকে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী ব্যবস্থার (কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম) জন্য একটি ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ এই চরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হৃদযন্ত্রকে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

নারীরা কেন গরমে বেশি আক্রান্ত হন? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর থেকে সাধারণত কম ঘাম নির্গত হয় এবং অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর তাদের শরীর ঘামানো শুরু করে। এর ফলে নারীদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে দ্রুত ঠান্ডা করতে পারে না।

তাছাড়া, নারীদের শরীরে চর্বির (বডি ফ্যাট) হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ গড় তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকে। অতিরিক্ত চর্বি শরীরের তাপকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে কুশন বা অন্তারক (ইনসুলেশন) হিসেবে কাজ করে।

হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। ঋতুস্রাব (পিরিয়ড), গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং মেনোপজের (স্থায়ীভাবে পিরিয়ড বন্ধ হওয়া) সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন নারীদের শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতুচক্রের বিভিন্ন ধাপ তীব্র গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। পিরিয়ড শুরুর আগে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আবার পিরিয়ড চলাকালীন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়ে।

পাশাপাশি পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়। এটি গরমের দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

গর্ভাবস্থা ও মেনোপজে দ্বিগুণ ঝুঁকি। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে দাবদাহের সময় ‘হট ফ্ল্যাশ’ (হঠাৎ শরীর ও বুক গরম হয়ে ওঠা) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা তীব্র হয়। গর্ভাবস্থাও হিট স্ট্রোক বা তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

খ্যাতনামা চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরের মেটাবলিজম, রক্তের পরিমাণ এবং তরলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে গর্ভবতী মা ও শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সামাজিক ও জীবনযাত্রার প্রভাব। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ-এর ড. কেট পেনহাউ গোমেস জানান, নারীরা সাধারণত পরিবার ও সংসারের সেবামূলক কাজে বেশি জড়িয়ে থাকেন। ফলে দাবদাহের সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

তাছাড়া, পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ায় বয়স্ক নারীদের একাংশ তীব্র গরমে বড় ঝুঁকিতে পড়েন। বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহারের কারণে তৃষ্ণা পাওয়ার অনুভূতি কমে যায়, যা দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে।

তাপজনিত অসুস্থতার সতর্ক সংকেত। অতিরিক্ত গরমে শরীর কাহিল হয়ে পড়লে (হিট এক্সহস্টিং) যে লক্ষণগুলো দেখা যায়:

মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা

তীব্র শারীরিক দুর্বলতা

বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

পেশিতে টান লাগা (মাসল ক্র্যাম্প)

ত্বক ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এর লক্ষণগুলো হলো:

শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে চলে যাওয়া

শরীর অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া (কোনো ঘাম না হওয়া)

মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ

জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হওয়া

সুরক্ষায় চিকিৎসকদের পরামর্শ। তীব্র গরমে নারীদের সুস্থ থাকতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা:

১. সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাবার পান করুন।

২. দুপুরের তীব্র রোদে ঘরের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলার কাজটি খুব ভোরে অথবা সূর্যাস্তের পর করুন।

৪. হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৫. পিরিয়ড, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বাড়তি যত্ন নিন।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্র ও সরকারি নীতিমালায় নারীদের বিশেষ স্বাস্থ্য চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ নারীদের সুরক্ষিত রাখা মানে প্রকারান্তরে পুরো পরিবার ও সমাজকেই সুরক্ষিত রাখা।

সূত্র: সামা টিভি 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%