০২:২১ পি.এম
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, "চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ব্যয় বাড়ছে।" তিনি রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পর সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। বহু আলাপ-আলোচনা শেষে বেশিরভাগ বিষয়ে একমত পোষণ করে একটি সনদ বাস্তবায়ন করা হয়। এর ভিত্তিতে সবাই এই সনদে স্বাক্ষর করেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় পেয়েছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, "আমরা আগে গণভোট চেয়েছিলাম, পরে ভোট চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শঙ্কা সত্য হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পরিবর্তনের রাজনীতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানানো হলেও দেশে বৈষম্য বাড়ছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "ফ্যাসিবাদ তাড়াতে পারেননি।" তিনি শেখ হাসিনার ৪১ সালের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে আন্দোলন করে এগিয়ে গেছি।" তিনি প্রশ্ন করেন, "অতীত ভুলে গেলেন?" সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হত না। তিনি বলেন, "সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসেন।" তিনি অভিযোগ করেন যে, জাতির সঙ্গে দেয়া কথা তারা রাখেননি এবং জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, "তারা নতুন নতুন প্ল্যান করছে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বলেছে যে, ৯০ শতাংশ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জিতিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। আমরা নাকি এই টাকায় দেশে অস্থিরতা করি।"
ডা. শফিকুর রহমান জনগণকে কার্ডের কথা বলেছেন এবং প্রশ্ন করেন, "কতজনকে কার্ড দেবেন?" তিনি অভিযোগ করেন যে, "তার আগেই জনগণের ওপর বোঝা চাপিয়েছেন।" তিনি চাঁদাবাজির কারণে ব্যয় বাড়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "রাড্ডায় হামলা চালিয়েছেন।" এমপিকে পদত্যাগ করানো হলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। জামায়াত আমির জানান, "চাঁদা চাওয়ার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, এক সময় তারেক রহমানের কাছে চাইবে।"
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তিনি আরও বলেন, "এত তাড়াতাড়ি আমাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।" তিনি প্রশাসকদের বিভিন্ন স্থানে বসানোর বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "সালাহউদ্দিন আহমেদ পারদর্শী লোক। সব মন্ত্রণালয় দেখেন।" তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদক তার সংসদীয় এলাকা দিয়ে ঢুকে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি।" তিনি জানান, "এখানে আমাদের কিংবা ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো দাবি নেই। জনগণের দাবিতেই আমাদের আন্দোলন।"
তিনি ঘোষণা করেন, "আগামী লংমার্চ ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় শেষ হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চে বাধা দিলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।" তিনি বলেন, "কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মানবো না।"
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন