রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৭ পি.এম
নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ফলে ২ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৩ জন আহত হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় আমানউল্লাপুর বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজন হলেন আনোয়ার হোসেন, যিনি আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী। অপর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হলেন মহেশপুর এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে সৌরভ উদ্দিন। হামলার সময় সৌরভের ভাই শিহাবকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আইয়ুবপুরের একটি সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় আমানউল্লাপুর পাটোয়ারী বাড়ির সামনে পৌঁছালে স্থানীয় দুর্বৃত্তদের একটি দল তাদের পথরোধ করে হামলা চালায় এবং লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল পৌঁছেছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. লিমন এবং মনোয়ার হোসেন সাদ্দাম। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম রোববার সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুজন চুক্তির ভিত্তিতে জমি দখল ও ছিনতাইয়ের কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন রিপন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮০ এবং ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এই অভিযানের অংশ হিসেবে লিমন ও সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত লিমন নড়াইলের লোহাগড়া থানার কুমড়ি গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে, যিনি বর্তমানে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা উদ্যানের ২৯ নম্বর বাসায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে, সাদ্দাম তোবারক হোসেনের ছেলে, যিনি মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকেন।
ওসি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে এর আগে ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাতমসজিদ হাউজিং-সংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের জায়গায় কয়েকশ লোক হামলা চালায়। হামলার সময় জমিতে থাকা স্থাপনা ও হাউজিংয়ের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অফিস থেকে নগদ ১৫ লাখ টাকা, জমির দলিল, এসি, ফ্যান, ল্যাপটপ, জানালা-দরজা ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। হামলার পর জমির প্রবেশপথ বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় মোট ৩৫ জনকে ৩টি ভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম ও সংখ্যা
১. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর: ৫ জন;
২. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক: ১২ জন;
৩. অফিস সহায়ক: ১৮ জন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন
১. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর: প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা আবশ্যক।
অন্যান্য দক্ষতা: সাঁটলিপিতে বাংলায় প্রতি মিনিটে ৪৫ এবং ইংরেজিতে ৭০ শব্দের সর্বনিম্ন গতি থাকতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ এবং ইংরেজিতে ৩০ শব্দের সর্বনিম্ন গতি থাকতে হবে। কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং এবং ই-মেইল ও ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০/-
২. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক: যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা আবশ্যক।
অন্যান্য দক্ষতা: কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং এবং ই-মেইল ও ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০ এবং ইংরেজিতে ২০ শব্দের সর্বনিম্ন গতি থাকতে হবে।
বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০/-
৩. অফিস সহায়ক: প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বেতন স্কেল: (গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০/-
আবেদনের সময়সীমা: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি–শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ার কারণে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ওই প্রশিক্ষকের পোশাককে ‘অশালীন’ বলে মনে করে তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে ৪০ মিনিট ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সাজ্জাদ হোসেনের। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন এবং নিয়মিত দৌড়ান। ঢাকায় বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
ঘটনার পর সাজ্জাদ হোসেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ ভিডিও পোস্ট করেন।
৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরুতে হাসিমুখে একজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। তার নেমপ্লেটে লেখা ছিল জাকির। তিনি বলেন, ‘দাঁড়ান একটু চুলটা ঠিক করি।’
পরে সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে ঢুকতে না পারার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এইটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।’
সাজ্জাদ হোসেন তখন প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি আপনার নিয়মে লেখা আছে?’ জবাবে জাকির বলেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেস কোড (পোশাক বিধি) নেই। তিনি বলেন, এই অপ্রয়োজনীয় হেনস্তা কেন করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
এদিকে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে ফার্মগেটে একটি কাজ ছিল। কাজ শেষে বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য তিনি ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে যান। টিকিট কেটে স্টেশনে ঢোকার সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে নেন। ওই পুলিশ সদস্য ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই আপনি, এই সব কি ড্রেস পরেন, এই সব অশ্লীল ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না!’
তিনি পুলিশ সদস্যকে জানান, তিনি একজন রানিং কোচ এবং প্রশিক্ষণ শেষে মেট্রোরেলে পরবর্তী জায়গায় যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মেট্রেলে শর্টস পরে যাওয়া যাবে না—এমন কোনো নিয়ম থাকলে তা দেখাতে বলেন।
সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্য তাকে বলেন, এটি পাবলিক প্লেস, এখানে এভাবে যাওয়া যাবে না। তাদের একজন তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন। এমনকি শর্টস খুলে রেখে পরে ট্রাউজার পরে আসার কথাও বলা হয়। এভাবে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই কর্মকর্তা তার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান।
পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে মেট্রোতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সাজ্জাদ হোসেন ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার আবারও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আহ্বান জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, যদি বিরোধী দল কমিটির আলোচনায় অংশগ্রহণ করে, তবে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আজ জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ তথ্য জানান।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
এছাড়া বৈঠকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ প্রদান করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা বারবারই বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছি। এখনো আহ্বান জানাই- তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় ধারণ এবং সমন্বয় করা সম্ভব হবে। সরকার চায় সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে বিভক্তি না রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পন্ন করতে।
সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এরপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল আসবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই বিলটি আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্য কমিটি আগেই জানিয়েছিল।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংসদে বিল উত্থাপন হবে। বিলের ওপর আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব ও বিরোধিতার বিষয়গুলো নিষ্পত্তির পর সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সংশোধনী পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর যেসব সাংবিধানিক বিধানের সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবিধানিক গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ গণভোট এবং সাংবিধানিক গণভোট এক বিষয় নয়। সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের গণভোটের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগে সংসদে সংশোধনী পাস হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, সেগুলোতে গণভোট হবে। জনগণ পক্ষে ভোট দিলে এরপর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান কার্যকর হতে পারে। তবে কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে, তা কমিটির আলোচনা ও পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।
কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকুক, কোনো বিভক্তি না থাকুক। জুলাই জাতীয় সনদ সম্পূর্ণরূপে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরেও কিছু বিষয় আছে, যেগুলো ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আসেনি বা পরিহার করা হয়েছে। সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।’
তিনি জানান, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও জনসেন্টিমেন্ট থেকে সংবিধানে ধারণযোগ্য বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হবে। আর যেসব বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই করা হবে।
সাংবাদিকদের মতামত প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের সভায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অধিকাংশই বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকে লিখিত আকারেও তাদের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব লিখিত প্রস্তাব কমিটি গ্রহণ করে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়েও সাংবাদিকরা বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এসব মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন ও পুস্তিকা প্রণয়ন করা হবে। তবে বিশেষ কমিটির মূল রিপোর্ট পৃথকভাবে থাকবে।
কমিটির সভাপতি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। তবে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যেসব বিষয়ে আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলোও ধারণ করব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এসব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না এলেও তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার রয়েছে। ফলে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের সময় বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কমিটির পক্ষ থেকে নয়, সাংবাদিকদের মাধ্যমেও তিনি বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর আগে সংসদে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারব না। আমরা বারবার আহ্বান জানাতে পারি, আশা করতে পারি তারা এখানে অংশগ্রহণ করবে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটি করি এবং সংবিধান সংশোধনের আলোচনা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ