শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ এম
গাজীপুর সাফারি পার্ক জৌলুস হারাচ্ছে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু ও চুরির ঘটনায়। এক সময় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকা পার্কটি বর্তমানে অবহেলায় ধুঁকছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা সত্ত্বেও প্রাণীর সংখ্যা কমছে। বাঘ-সিংহের প্রজনন বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি।
২০২৩ সালে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিরল প্রজাতির তিনটি আফ্রিকান লেমুর গাজীপুর সাফারি পার্কে স্থান পেয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে রহস্যজনকভাবে প্রাণীগুলো চুরি হয়ে যায়। পরে একটি লেমুর উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুটির খোঁজ পাওয়া যায় ভারতের ধনকুবের আম্বানি পরিবারের ব্যক্তিগত প্রাণিশালায়।
এর আগে পার্কটি থেকে দুটি ম্যাকাও পাখি, একটি নীলগাইসহ বেশ কয়েকটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণী চুরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পার্কটি যেন চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
শুধু প্রাণী চুরিই নয়, গত কয়েক বছরে একের পর এক প্রাণীর রহস্যজনক মৃত্যুও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০২২ সালে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ ও একটি সিংহী মারা যায়। পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় আনা ১২টি জিরাফ ও তিনটি ক্যাঙ্গারুর বংশধরসহ সব প্রাণীই এখন মৃত। ২০২৫ সাল থেকে পার্কটি জিরাফ ও ক্যাঙ্গারুশূন্য হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা থাকলেও গত নয় বছর ধরে বন্দী রয়েছে একটি লেপার্ড। পুষ্টিহীনতা ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে বছরের পর বছর ধরে বাঘ-সিংহের প্রজননও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, প্রাণী দেখতে এসে তারা হতাশ হচ্ছেন। তাদের একজন বলেন, ‘প্রাণী ধরতে গেলে একদম নাই বললেই চলে। ভেতরে প্রাণীর সংখ্যাও কম, পরিবেশটাও সেরকম ভালো লাগেনি। আগে যা দেখে গেছি, এখন এসে তার কিছুই পেলাম না। এখানে আরও অনেক বেশি পশুপাখি থাকা উচিত। এত প্রাণী থাকার পরও সেগুলো চুরি হবে কেন?’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, প্রাণীদের খাবারের জন্য একটি রেশনিং কমিটি রয়েছে। প্রাণীদের যতটুকু খাবার প্রয়োজন, কমিটি সেই পরিমাণ খাবারই সরবরাহ করে থাকে।
পার্কে নানা অনিয়মের খবর পেয়ে সম্প্রতি এটি পরিদর্শনে আসেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা শুনে তিনি জানান, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সরকার। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘এখান থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। যারা দায়ী থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বিপরীতে আয় হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রাণী চুরি, লুটপাট ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
পার্কের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা। তাদের মতে, বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংস্কার, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রাতে ইপসউইচ এবং নটিংহ্যাম মুখোমুখি হবে।
ক্রিকেট
ত্রিদেশীয় সিরিজ: ফাইনাল
আফগানিস্তান–জিম্বাবুয়ে
বিকেল ৫–৩০ মি., টি স্পোর্টস
ফুটবল
বাংলাদেশ ফুটবল লিগ
ব্রাদার্স–আবাহনী
বেলা ২–৪৫ মি., টি স্পোর্টস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ইপসউইচ–নটিংহাম
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১
লা লিগা
আলাভেস–মালাগা
রাত ১টা, টি স্পোর্টস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় অর্জন করা সম্ভব, তা প্রমাণ করল শ্রীলঙ্কা। ত্রিদেশীয় সিরিজের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ৮৫৯ রানের একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে লঙ্কানরা ২ উইকেটে জয়লাভ করেছে। এটি তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৪৩৫ রান তাড়া করে জয়ী হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ২৪ রানে দুই উইকেট হারায়। এরপর আভিস্কা ফার্নান্দো এবং পবন রত্নায়েকের মধ্যে গড়া ১৬৬ রানের জুটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আভিস্কা ৯৭ রান সংগ্রহ করেন, আর রত্নায়েকের ব্যাট থেকে আসে ১৩০ রান।
দলটির জয়ের পথে দাসুন শানাকার ঝড়ো ব্যাটিং ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করে। তিনি মাত্র ৫০ বল মোকাবেলা করে ৯৭ রান করেন। রত্নায়েকের সঙ্গে তার জুটি ছিল ১৩৩ রানের।
শেষ মুহূর্তে জানিথ লিয়াঙ্গের ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করে। শেষ ওভারে দুই উইকেট হারানোর পরও তিনি পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। লিয়াঙ্গে ২৭ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি ব্রুক ২০২ এবং উইল জ্যাকস ৬৬ রান করে ৪২৯ রান সংগ্রহ করে। ব্রুক মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে ১৬ মাস ধরে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে প্রায় এক হাজার বানর। খাবারের অভাবের কারণে গেছো প্রাণীগুলো লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা প্রতিদিন বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে খাবারের সন্ধানে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। খাদ্য সংকট এবং ঘনবসতির কারণে বানরের সংখ্যা দিন দিন কমছে। স্থানীয়রা প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়।
একসময় অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এলাকায় থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাদারীপুরের বানরগুলো লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। খাবারের সন্ধানে তারা কখনো ফলের গাছে, আবার কখনো ঘরের চালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দল বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরগুলো। খাবারের অভাবে তারা বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে, যার ফলে স্থানীয়রা বিরক্ত হয়ে পড়ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরের নয়াচর ও চরমুগরিয়া একসময় বানরের অভয়ারণ্য ছিল। তবে খাদ্য সংকট এবং ঘনবসতির কারণে বানরের সংখ্যা কমে গেছে। সরকারিভাবে বানরের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও ২০২৫ সালের জুন থেকে তা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কিছু প্রাণীপ্রেমী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার দিচ্ছেন।
তবে এই খাবার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বানরের উৎপাত বাড়ছে মানুষের ওপর। ১৬ মাস ধরে ক্ষুধার তাড়নায় ঘুরে বেড়ানো বানরের দল স্থানীয়দের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বানর খাবার না পাওয়ায় আমাদের ওপর আক্রমণ করছে। দিন দিন এই উৎপাত বেড়েই চলছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
নতুন শহরের ছাপাখানার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘বানর এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। বানরের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। ঘরে ও বাইরে খাবার দেখলেই হানা দেয়। খাবার ছিনিয়ে নেয় বানরের দল।’
সামাজিক বন বিভাগ জানায়, মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়ার কালিবাড়ি, স্বর্ণকারপট্টি, জেটিসি, আদমজী, চৌরাস্তা, নদীর পাড় ও কুলপদ্বীসহ বিভিন্ন এলাকায় একসময় প্রায় আট হাজার বানর ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজারে।
এদিকে, বানরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।
মাদারীপুরের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, ‘দিনে দিনে বানরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণী খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এটি বোঝার কোনো মানুষ সমাজে নেই। সরকারিভাবেও দেখভাল করছে না কেউ। সরকারের কাছে দাবি, বিলুপ্ত হতে যাওয়া গেছো প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হোক।’
সামাজিক বন বিভাগ জানায়, বানরের খাবারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো তা পাওয়া যায়নি। সামাজিক বন বিভাগের মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘মাদারীপুর অফিস থেকে বারবার চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো বরাদ্দই আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আবারও লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হবে। বানরের খাবারের বরাদ্দ এলে দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে যথাযথভাবে খাবার সরবরাহ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোমালিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে আগামী তিন মাসে প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্য এই বাস্তুচ্যুতির ৯২ শতাংশের জন্য বন্যা দায়ী হতে পারে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত আইওএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংস্থাটি এবং ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের যৌথ বিশ্লেষণে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৯ মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা করা হয়েছে।
সোমালিয়া এমন একটি সময়ে নতুন দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়েছে, যখন দেশটির বহু মানুষ দীর্ঘদিনের খরা এবং বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংকটে রয়েছেন। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হতে পারে। এল নিনোর প্রভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আইওএমের তথ্যানুযায়ী, বেলেদওয়েইন ও গালকায়ো এলাকায় বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বেশি রয়েছে। এসব অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় দুই লাখ ২৯ হাজার এবং ৮২ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বন্যার কারণে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানির উৎসও দূষিত হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই সংকটে থাকা জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যার প্রস্তুতি ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় এক কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের মাত্র ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থ আইওএম পেয়েছে। সংস্থাটি আগাম সতর্কতা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পথ প্রস্তুত এবং জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ