মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৬ এম
সরকারি সেবার একক প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাজ আটকে গেছে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করে। রবিবার থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাইগভের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। সাইটে ঢোকার চেষ্টা করলে ‘ওয়েব সার্ভার ডাউন’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির ফেসবুক পেজে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের জন্য ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদ করা হচ্ছে। মাইগভের অধীনে একাধিক ডোমেইনও হালনাগাদের প্রয়োজন পড়েছে। এই কারণে কয়েক দফা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কাজ শেষ হলে মঙ্গলবারের মধ্যে সেবা পুনরায় চালু হতে পারে।
ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় জরুরি নথি সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ই-অ্যাপোস্টিলের জন্য নথি জমা দেওয়া শাহরিয়ার অর্ণব জানান, পরদিনই তাঁর নথিগুলো প্রয়োজন ছিল। ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সাইবার নিরাপত্তার কারণে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ত্রুটি সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে। তবে একটি প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক সরকারি সেবা কেন্দ্রীভূত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা জরুরি। আবেদনকারীদের ক্ষতি এড়াতে সময়সীমা বাড়ানো এবং নিয়মিত অগ্রগতির তথ্য জানানো প্রয়োজন।
অ্যাসপায়ার টু ইনোভেশন (এটুআই) উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত মাইগভে প্রায় ৪৪০টি সরকারি সেবা রয়েছে। এর মাধ্যমে ই-অ্যাপোস্টিল, জমিসংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স এবং অনুমতি ও অনুদানের জন্য আবেদন করা যায়।
বাংলাদেশের সরকারি কম্পিউটার নিরাপত্তা দল বিজিডি ই-গভ সিআইআরটির তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো ও নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহার করছিল সরকারি-বেসরকারি ৫০টির বেশি ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ। নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবেলায় ত্রুটি সংশোধন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হালনাগাদ করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রকফেলার সেন্টারে ২০২৬ সালের বড়দিনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে একটি বিশেষ গাছ (ক্রিসমাস ট্রি)। এই গাছটি নরওয়ে স্প্রুস প্রজাতির এবং এটি নিউইয়র্কের ওয়েস্ট এডমেস্টন এলাকা থেকে আনা হবে।
রকফেলার সেন্টার কর্তৃপক্ষ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়। গাছটি আগামী ৫ নভেম্বর কাটা হবে এবং ৭ নভেম্বর ম্যানহাটনে নিয়ে আসা হবে। এরপর গাছটিকে ৫০ হাজারের বেশি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী এলইডি বাতি দিয়ে সাজানো হবে। গাছের শীর্ষে স্বরোভস্কির তৈরি পরিচিত তারকা স্থাপন করা হবে।
রকফেলার সেন্টারের বার্ষিক বড়দিনের গাছের আলো জ্বালানোর অনুষ্ঠান আগামী ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। দর্শনার্থীরা ২০২৭ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত গাছটি দেখতে পারবেন।
বড়দিনের উৎসব শেষ হওয়ার পর গাছটি কাঠে রূপান্তরিত করা হবে। পরবর্তীতে সেই কাঠ দান করা হবে ‘হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি’ নামক একটি সংস্থাকে, যারা মানুষের আবাসন নিয়ে কাজ করে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ জিতলে একটি বিষয় ছিল। কিন্তু লিওনেল মেসি সর্বাত্মক চেষ্টা করেও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে সক্ষম হননি। এর ফলে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনাও একরকম নিশ্চিত ছিল না।
অবশেষে তাই হলো। গ্রহের সেরা ফুটবলের খেতাবটি অর্জন করলেন হ্যারি কেইন। লিওনেল মেসি তালিকার পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছেন।
এতেই গড়া হলো নতুন এক ইতিহাস। তিনি এমন একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, যা ব্যালন ডি’অর ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি। আউটফিল্ডের খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন মেসি।
এই পুরস্কারের তালিকা যখন প্রকাশিত হচ্ছে, তখন মেসির বয়স ৩৯ বছর চার মাস। এ কারণেই সেরা দশে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন তিনি।
তবে গোলরক্ষকের পজিশনকে যদি ধর্তব্যে আনা হয়, তাহলে মেসি ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়া ‘সবচেয়ে বয়স্ক’ খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হন না। এই রেকর্ডটি দখল করে আছেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন।
২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরে তিনি চতুর্থ স্থান দখল করেছিলেন, তখন বুফনের বয়স ছিল ৩৯ বছর ১০ মাস। এরপর থেকে মেসির চেয়ে বয়সে বড় কেউ ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে আসেননি।
২০২৬ সাল মেসির জন্য ছিল রোমাঞ্চকর। তিনি নিজের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গেছেন। কিন্তু শিরোপা জেতা হয়নি। ফাইনালে তারা স্পেনের কাছে পরাজিত হয়। যদি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে জিতাতে পারতেন মেসি, তাহলে তিনি তার রেকর্ডটিকে ৯ ব্যালন ডি’অরে উন্নীত করতে পারতেন কিনা, তা কে জানে!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
হাইকমিশনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সমৃদ্ধির জন্য সততা’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটি বাদী হয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলায় আসামি হয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। দুদক অভিযোগ করেছে যে, ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদকের তদন্তে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ