মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ এম
ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
হাইকমিশনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সমৃদ্ধির জন্য সততা’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটি বাদী হয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলায় আসামি হয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। দুদক অভিযোগ করেছে যে, ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদকের তদন্তে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে একটি মেহগনি গাছ কাটার সময় নিচে চাপা পড়ে রুবেল জোমাদ্দার (২৮) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু ঘটে। সোমবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা ২য় খণ্ড গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রুবেল জোমাদ্দার বজলু জোমাদ্দারের ছেলে ছিলেন। তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মনির মজুমদার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের বড় ভাই আল আমিন জোমাদ্দার জানান, সোমবার বেলা দুইটার দিকে রুবেল তাঁর বাবার সঙ্গে বাড়ির পাশের বাগানে একটি মেহগনি গাছ কাটতে যান। গাছটি কাটার পর মাটিতে পড়ার সময় অসাবধানতাবশত রুবেলের মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নথুল্লাবাদ এলাকায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বাশার মোখলেচ বলেন, ‘রুবেল জোমাদ্দার সক্রিয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি আমাদের একজন রাজপথের সহযোদ্ধা ছিলেন।’
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান জানান, ‘মাধবখালী ইউনিয়নে গাছ কাটতে গিয়ে রুবেল জোমাদ্দার নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাঁর অকালমৃত্যুতে পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং দেশটির ওপর হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও, ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সোমবার টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুসারে, ৭ জানুয়ারি রিয়াদে স্বাগতিক সৌদি আরব ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ম্যাচ দিয়ে ‘এ’ গ্রুপের খেলা শুরু হবে।
রিয়াদের ৭২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কিং ফাহদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়াম উদ্বোধনী ম্যাচের পাশাপাশি ৫ ফেব্রুয়ারি ফাইনালও আয়োজন করবে।
এই ২৯ দিনব্যাপী আসরে মোট ৫১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আটটি ভেন্যুতে, যার মধ্যে রিয়াদে পাঁচটি, জেদ্দায় দুটি এবং আল-খোবরে একটি স্টেডিয়াম রয়েছে।
যদিও আয়োজকরা সূচি নিশ্চিত করেছেন, তবে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ২৪টি অংশগ্রহণকারী দেশের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবারই ডাকার র্যালির আয়োজকরা ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ২০২৭ আসর সৌদি আরবের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গত সপ্তাহে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনেয়াসু মিয়ামোতো বলেছেন, সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে এশিয়ান কাপ আয়োজন করা কঠিন হতে পারে।
মিয়ামোতো বলেন, “সংবাদমাধ্যম থেকে যা জেনেছি, তাতে পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। তাই এই মুহূর্তে সেখানে এশিয়ান কাপ আয়োজন সহজ হবে বলে মনে করি না।”
তিনি আরও জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে আয়োজকরা খেলোয়াড়, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি বড় ক্রীড়া আসর বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল প্রতিহত করেছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রতিহত করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জেদ্দা, তাইফ, রাবিগ ও মক্কা প্রদেশের ওয়াদি আল-মুঘাম্মাসে পড়ে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা।
রিয়াদ কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতে ঘোষণা দেয়, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে, আর টার্মিনাল-১ ব্যবহার করা হবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য।
এর আগে হুথি হামলার কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত ছিল। ১০ অক্টোবরের এক হামলায় ১৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিল।
এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এ মাসে বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে এশিয়ান কাপ ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে স্থানীয় আয়োজক কমিটি শুরু থেকেই নির্ধারিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাতার ১১ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। একই দিনে জাপান খেলবে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হবে ইয়েমেনের, অস্ট্রেলিয়া খেলবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এবং ইরান লড়বে চীনের বিরুদ্ধে।
গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হবে ২০ জানুয়ারি। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নকআউট পর্ব।
এভাবে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ আয়োজন করবে সৌদি আরব। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাত বছর আগে মহাদেশীয় এই আসরের স্বাগতিক হচ্ছে দেশটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর, আলজেরিয়া প্রথমবারের মতো দেশের সীমানা অতিক্রম করে বিদেশে সৈন্য পাঠানোর একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নাইজারে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নিজেদের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে, আলজেরিয়ার সংসদ এই নতুন সামরিক মোতায়েনের পক্ষে অনুমোদন প্রদান করেছে। তবে, কখন এবং কতজন সৈন্য মোতায়েন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে এ বিষয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ১৭৪ জন সিনেটরের মধ্যে ১৪৮ জন সেনা পাঠানোর পক্ষে ভোট প্রদান করেন। পরবর্তীতে সংসদের নিম্নকক্ষও প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানায়। এর ফলে ২০২০ সালের সাংবিধানিক বিধানের প্রথম প্রয়োগ ঘটেছে, যা বিদেশে সামরিক বাহিনী পাঠানোর অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বিদেশে সৈন্য না পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলজেরিয়া সফরের পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। নাইজার আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করার জন্য আলজেরিয়ার সাহায্য চেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। নাইজারের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার গ্যাস আলজেরিয়ায় নিয়ে আসার জন্য একটি মেগা পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়াও, লিবিয়া সীমান্তের কাছে উত্তর নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য এই সৈন্যরা নিয়োজিত থাকবে। সম্প্রতি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ‘সোনাট্রাক’ নাইজারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সাথে তেল অনুসন্ধানের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কূপগুলোতে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পর, আলজেরীয় সিনেটর বেলকাসেম বুলঘিতি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা নাইজারে যুদ্ধ করতে আমাদের সৈন্যদের পাঠাচ্ছি না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষিত করার একটি মিশনে পাঠাচ্ছি।’ তবে, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কতজন সৈন্য পাঠানো হবে বা কবে নাগাদ তারা দেশ ছাড়বেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, বিগত বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। ২০২৩ সালে নাইজারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আলজেরিয়া। এরপর ২০২৫ সালে আলজেরীয় সীমান্তে মালির একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরে এবং নাইজার আলজেরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বরফ গলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজারের সেনাশাসক আবদুরাহমানে চিয়ানি আলজেরিয়া সফর করেন এবং গত আগস্টের শেষের দিকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুন নাইজারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমনে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ