সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৯ পি.এম
টেলর টাউনসেন্ডকে সরাসরি দুই সেটে পরাজিত করে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। শেষ ষোলোর ম্যাচে, বেলারুশের এই তারকা টাউনসেন্ডকে ৬-৪, ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন।
যদিও স্কোরলাইন দেখে ম্যাচটি সহজ মনে হচ্ছে, তবে লড়াইটি ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ৭৫ মিনিটের ম্যাচে দুই খেলোয়াড় মিলে ১০টি সার্ভিস ব্রেক করেন। দ্বিতীয় সেটে একসময় ৩-১ গেমে পিছিয়ে পড়লেও, সাবালেঙ্কা শেষ পর্যন্ত টানা পাঁচ গেম জিতে জয় নিশ্চিত করেন।
ইউএস ওপেনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুটি শিরোপা জিতেছিলেন সাবালেঙ্কা। সেই ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কে তার অপরাজিত থাকার সংখ্যা বর্তমানে ১৮ ম্যাচ। টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, এবারও তিনি শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
এই জয়ের মাধ্যমে ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা একটি নতুন কীর্তি গড়েছেন। ২০১৬ সালে সেরেনা উইলিয়ামসের পর, প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা ছয় আসরে সিঙ্গেলসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
তবে সাবালেঙ্কা শুধুমাত্র রেকর্ডে থামতে চান না। নিউইয়র্কে টানা তৃতীয় শিরোপা জিততে পারলে, তিনি সেরেনা উইলিয়ামসের পাশে বসবেন। সেরেনার পর ইউএস ওপেনে টানা তিনবার নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি আর কারও নেই। সেই রেকর্ড ছুঁতে সাবালেঙ্কার প্রয়োজন মাত্র তিনটি জয়।
সাবালেঙ্কার সামনে শেষ আটে এবার একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তার প্রতিপক্ষ হলেন উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন লিন্ডা নোসকোভা। শেষ ষোলোতে, নোসকোভা ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউককে ৭-৫, ৫-৭, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন।
সাবালেঙ্কা-নোসকোভা লড়াইয়ে একদিকে থাকবে টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে থাকবে নতুন চ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস। নিউইয়র্কে রেকর্ডের পথে সাবালেঙ্কা এখন মাত্র তিন ধাপ দূরে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে কটূক্তি করার কারণে সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।
শুনানির পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি জানান, তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য বা গালিগালাজের কারণে মামলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, কিন্তু তা মামলার এজাহারে উল্লেখ নেই। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও এই বিষয়ে শুনানিতে কিছু উল্লেখ করেননি।
আইনজীবী রবি আরও জানান, ৪ জুনের একটি মামলায় সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকির রহমান মন্তব্য করেন, সিফাত আব্দুল্লাহ “ফ্যাসিবাদের দোসর”। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছে।
তিনি আরও বলেন, সিফাত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করেছেন এবং ৫ আগস্টের আগে থেকেই ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কাজ করে আসছেন।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলীর নাছের খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি দাবি করেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সিফাত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং তার আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও রয়েছে।
আলীর নাছের খান আরও বলেন, সিফাতকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা নতুন ফ্যাসিজমের একটি অংশ বলেও মন্তব্য করেন।
পুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো একটি মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে হুমকি দেওয়া এবং হামলা বন্ধ করে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।
রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
রেজাই উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, "যদি ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বা হামলা বন্ধ করে, তাহলে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা রাখবে।" তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুমকি না দেওয়া এবং হামলা না করার শর্তে ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে।"
এছাড়া, রেজাই হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন এলাকা নির্ধারণ হতে পারে বলে তিনি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের রেখা থেকে শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধি-নিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে—এটি জানিয়েছে
অক্টোবর মাসে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই ওপেক প্লাসের ৭ দেশের।
রেজাই সতর্ক করে বলেন, নতুন নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, "নতুন এই এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।" পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফলে, যদি এই পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই অবস্থায়, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে তেহরান।
রেজাই আরও দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা শনাক্ত করেছিল। তবে তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে এসব স্থাপনার মধ্যে কিছুতে হামলা চালানো হয়নি। এর মধ্যে জর্ডানের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির উল্লেখ করেন রেজাই। তিনি বলেন, "ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল। কিন্তু ইচ্ছা করে সেগুলোতে হামলা চালায়নি। এর মধ্যে জর্ডানে তাদের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে তাদের কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে।" রেজাইয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ কম থাকার পর ওই অঞ্চলে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।
১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া।
ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক অবস্থানে ইরানের হামলা ওয়াশিংটনের সংঘাত মোকাবেলার কৌশলে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থান ও সংঘাত মোকাবেলার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে। তবে তার এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারে লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রেজাই। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে শুধু জয় বা পরাজয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।
রেজাই বলেন, "কোনো যুদ্ধেই একের পর এক জয় বা একের পর এক পরাজয়—এভাবে বিষয়টি দেখা যায় না। যুদ্ধে উত্থান-পতন থাকেই।" তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনীর টানা সামরিক চাপের মধ্যেও পুরো সংঘাতজুড়ে হিজবুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রেখেছে। রেজাই বলেন, "সব সময়ই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল লেবাননের হিজবুল্লাহ।" রেজাইয়ের বক্তব্যে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তেহরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টি যুক্ত করছে। অন্যদিকে, হরমুজের বাইরে নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানাচ্ছে। এই নতুন এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ০৫/০৯/২০২৬ তারিখ থেকে বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে (দূরত্ব প্রায় ১ কিমি) এক কিশোর নিখোঁজ রয়েছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিবরণ:নাম: ঈসা আরমান,বয়স: ১৪ বছর,উচ্চতা: ৫ ফুট ,মুখের আকৃতি: লম্বা,পরনের পোশাক: সাদা জুব্বা ও পায়ে জুতো
কোথা থেকে নিখোঁজ: হামিদপুর গ্রাম থেকে নিজামপুর যাওয়ার পথে
যোগাযোগের ঠিকানা:
গ্রাম: হামিদপুর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী।মোবাইল নম্বর: 01786 262247
আপনাদের কারো কাছে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া গেলে ওপরের নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে।
— শোকাহত পরিবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের কাছে নতুন ও ‘অধিকতর কার্যকর’ কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, রোববার এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আগের মতো বিষয়টি নেই। এবারকার প্রস্তাবগুলো আরও কার্যকর। আলোচনা এখনো চলছে। আর এটাই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে রোববার বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।
জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার— তিনজনই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইটকফ এবং তার জামাতা কুশনার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন পর কিয়েভে যান। এটি ছিল কিয়েভে তাদের কয়েকটি সফরের সর্বশেষটি।
ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানায়, দুই মার্কিন দূত কিয়েভ ছেড়ে গেছেন।
রোববারের এই সফর ছিল কিয়েভে তাঁদের প্রথম সফর। রুশ হামলায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের রাজধানীটি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা খুবই আশা করছি যে আমাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। আর যুদ্ধ যদি শীতকালেও চলতে থাকে— এই মুহূর্তে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে, তাহলে আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সমর্থনের ওপরও নির্ভর করছি।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
জেলেনস্কি আবারও বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের সমাধান কেবল দুই দেশের নেতাদের সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমেই সম্ভব।
মার্কিন দূতদের কিয়েভ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউক্রেনের জন্য শান্তি নিশ্চিত করা— একটি মর্যাদাপূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। আমরা আমাদের সব প্রচেষ্টা এ লক্ষ্যেই পরিচালিত করছি।’
রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে। শনিবার মার্কিন দূতদের সঙ্গে বৈঠকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আরও ভূখণ্ড দখলের ব্যাপারে ‘আত্মবিশ্বাসী’।
মস্কো বলেছে, শুধু বর্তমানে দখলে থাকা অঞ্চল নয়, তারা যেসব ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশ বলে দাবি করে, সেগুলোর ওপরও রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিতে হবে।
কিয়েভের কাছে এই শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
উইটকফ বলেন, দুই পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো তাদের হাতে রয়েছে।
তিনি আলোচনাকে ‘অত্যন্ত অর্থবহ, গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যত সময় প্রয়োজন, ততদিন আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
কুশনার বলেন, ‘আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন কিছু পথ বের হয়েছে। এই সফর থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি উদ্যোগকে আবারও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই উইটকফ ও কুশনার এই অঞ্চলে সফর করেন। গ্রীষ্মজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার পর তাদের এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
আলোচনার পৃথক একটি পর্বে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একই পক্ষে।’
অন্যান্য বিদেশি কর্মকর্তাদের মতো মার্কিন প্রতিনিধিরাও ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান। কিয়েভের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ‘পিস এক্সপ্রেস’ লেখা ছিল।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।
মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করেছিল।
‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’
রাশিয়ার এই আগ্রাসনে কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, মস্কোতে মার্কিন দূতেরা ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’
তবে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ক্রেমলিন বলেছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে বেশ কিছু ধারণা’ উপস্থাপন করেছেন।
পুতিন বারবার বলেছেন, মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বাকি অংশও দখল করতে চায়। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রাণঘাতী হামলা আরও বাড়িয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ চলছে এবং এর অবসানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
কিয়েভে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হবে— এমন বিশ্বাস খুব কমই দেখা গেছে।
৬৭ বছর বয়সী নাতালিয়া লিপেখ বলেন, মার্কিন দূতদের কিয়েভে আসা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যাতে তারা নিজের চোখে দেখতে পারেন যে আমাদের ভূমি ইতোমধ্যেই রক্তে ভিজে গেছে এবং আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।
তবে, ২৯ বছর বয়সী ইয়ারোস্লাভ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ আমি দেখছি না। এরই মধ্যে এ ধরনের অনেক আলোচনা প্রক্রিয়া আমি দেখেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ