০২:৫১ পি.এম
বন্ড সুবিধার নতুন শর্ত নিয়ে সংযোগ শিল্পে দেখা দিয়েছে বাড়তি দুশ্চিন্তা। বাজেটে মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার প্রস্তাব থাকায় স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসা হারানোর আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের দাবি, আমদানি নীতিতে যেখানে ৩০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিদ্যমান ২০ শতাংশ শর্তও তুলে দেয়া পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এলডিসি উত্তরণের মসৃণ কৌশল বাস্তবায়নে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বিকল্প নেই।
বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার পাশাপাশি মূলধনের ওপর চাপ কমাতে উদ্যোক্তারা বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কোনো ধরনের শুল্ক বা কর দিতে হয় না। বর্তমানে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামালের মাধ্যমে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদনে ২০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন বা দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নতুন আমদানি নীতিতে এটি ৩০ শতাংশ করার পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেই শর্ত পুরোপুরি তুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাঁচামালের বিপরীতে রফতানি আয় বেশি হলেই শর্ত পূরণ হিসেবে গণ্য হবে। উদ্যোক্তারা একে শিল্পখাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে মানি লন্ডারিং বাড়বে। কারণ বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করে সেই পণ্য বাজারে বিক্রি করে অন্য পণ্য আবার বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে।
উদ্যোক্তাদের মতে, মূল্য সংযোজনের ন্যূনতম শর্ত না থাকলে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারের আগ্রহ কমে যাবে এবং দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগও নিরুৎসাহিত হবে। বন্ডের অপব্যবহার রোধে শর্ত বহাল রাখতে চান চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদকরাও।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, আইনের ধারাগুলো স্পষ্ট হওয়া উচিত। আগে যেখানে ২০ শতাংশ বা ক্ষেত্রবিশেষে ১৫ শতাংশ ছিল, এখন যদি তা তুলে দেয়া হয় তাহলে এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবে এবং সমাধান কঠিন হবে।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ৩০ বছর ধরে এই শর্ত ছিল না। তাহলে প্রশ্ন আসে, আমরা কি এতদিন ভুল করেছি? যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন পর কেন পরিবর্তন আনা হচ্ছে; এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
বর্তমানে কানাডায় ৬০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫০ শতাংশ এবং ভারতের বাজারে ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডের শর্ত রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে অন্তত ৫০ শতাংশ মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে হবে। তাই মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নে স্থানীয় মূল্য সংযোজনকে অত্যাবশ্যক মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, এমন সুবিধা হতে হবে যা রফতানি খাতকে প্রতিযোগিতামূলক করে, রফতানি আয় বাড়ায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করে।
তথ্য অনুযায়ী, সুতা, কাপড়, ডায়িং, অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সংযোগ শিল্পের আকার বর্তমানে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন