০৮:৪৯ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি অভিবাসন নীতি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
এর ফলে, সেসব নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি দেশের অভিবাসীর রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য বৈধ অভিবাসনের সুবিধা পাওয়ার পথ আরও সুগম হলো। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) গৃহীত একগুচ্ছ নীতি বাতিল করেন রোড আইল্যান্ডের মার্কিন ফেডারেল বিচারক জন ম্যাককনেল।
আরও পড়ুন: ত্রাণমন্ত্রী: এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না
তার মতে, এসব নীতির কারণে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক ডজন দেশের মানুষ চরম ‘আইনি অনিশ্চয়তার’ মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন।
বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা কংগ্রেস প্রণীত আইন এবং ইউএসসিআইএস-এর বিধিমালা অনুযায়ী সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন।
তবুও তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ ইউএসসিআইএস তাদের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রায়ে বিচারক আরও বলেন, ‘ইউএসসিআইএস-এর বিচারিক প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার জন্য এসব ব্যক্তির কোনো ভুল দায়ী নয়, এটি কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে ঘটেছে।’
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫০০ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের ঘোষণা
এই রায়কে অভিবাসী সেবামূলক সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাদের গত মার্চে ইউএসসিআইএস-এর এসব বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে মামলা ছিল।
নভেম্বর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়িত্বরত দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, এক আফগান অভিবাসী ওই হামলা চালিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান’
সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই ইউএসসিআইএস এসব কড়াকড়ি নীতি গ্রহণ করে।
ঘটনার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেম পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করা হবে।
একই সঙ্গে তার প্রশাসন পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯-এ উন্নীত করে।
পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়া।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, নিরাপত্তা যাচাই ও সুরক্ষাজনিত কারণে এসব ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ইউএসসিআইএস-এর গৃহীত নীতিগুলোর ফলে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত হয়ে যায়।
বিচারক ম্যাককনেলের ভাষায়, এর ফলে ‘অগণিত মানুষের জীবন থমকে গিয়েছিল—শুধুমাত্র তাদের জন্মস্থানের কারণে।’
আরও পড়ুন: সংঘর্ষে প্রাণহানি: সুনামগঞ্জে পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে টানা তিন দিন লুটপাটের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন