ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বালিয়াকান্দিতে সুপারি পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে রহমত নামে এক যুবকের মৃত্যু


বালিয়াকান্দিতে সুপারি পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে রহমত নামে এক যুবকের মৃত্যু
 
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সুপারি পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে রহমত হোসেন শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
নিহত রহমত হোসেন শেখ বহরপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া (বাইরচর) গ্রামের বেলায়েত হোসেন শেখের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে রহমত হোসেন শেখ বহরপুর দক্ষিণপাড়া (কুন্ডপাড়া) গ্রামের আব্বাস দফাদারের বাড়ি থেকে ৬০০ টাকায় সুপারি কেনেন। পরে কেনা সুপারি গাছ থেকে পাড়তে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গু*রুতর আ*হত হন তিনি।
 
এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃ*ত ঘোষণা করেন।
 
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন মিয়া।
 
স্থানীয়রা জানান, রহমত হোসেন শেখ ডাব, সুপারি ও নারকেল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তাঁর সংসারে স্ত্রী, ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃ*ত্যুতে স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। দুই শিশু সন্তান হারাল তাদের বাবাকে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবপুরে চুরি-ডাকাতি ও মাদকের অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বাড়িঘরে ভাঙচুর, মালামালে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক মোঃ শরীফ উদ্দিন

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


মাধবপুরে চুরি-ডাকাতি ও মাদকের অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বাড়িঘরে ভাঙচুর, মালামালে আগুন

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামে চুরি, ডাকাতি ও মাদক কারবারের অভিযোগে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রাস্তায় এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিয়াইম গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৮), মৃত উসমান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০), মৃত সক্কদর মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (২৬) এবং মৃত লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে পিয়াইমসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রামবাসীর দাবি, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হতেন। এমনকি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে নারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে সামাজিক লোকলজ্জা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বের করে রাস্তায় স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেন।

মাধবপুর থানার ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ কুমার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী বাড়ির বিভিন্ন মালামাল পুড়িয়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


জামায়াতের দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে

জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের মধ্যে একটি মতামত তৈরি হয়েছে যে, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদ দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আলোচনা শেষে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে।

জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে, এই পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদে আমলা, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে তাদের শপথধারী (রুকন) সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

জামায়াতের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাব এবং বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর দলটির নীতিনির্ধারকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দলের দেশে-বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর ২১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি।" তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দেশ পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এ কারণে দলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, দল পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া রুকনদের (সদস্য) মধ্যে নারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪৩ শতাংশ।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় মহিলা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সংযুক্ত হলে, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরো বহু মতের প্রতিফলন ঘটবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলার চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, "দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থানের বাইরে এসে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের যদি মতামত নেওয়া হয়, তাহলে দলটি রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।" তিনি আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই উপদেষ্টা পরিষদ আসলেই কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা অবশ্য দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন ইহুদিদের কাছে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় জোহরান মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


মার্কিন ইহুদিদের কাছে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় জোহরান মামদানি

মার্কিন ইহুদি ভোটারদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তুলনায় অধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এমনকি, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সামগ্রিক অবস্থানের তুলনায় মামদানির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এই তথ্যটি জনমত জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিবিএওর একটি নতুন জরিপে প্রকাশিত হয়েছে।

জিবিএও জানায়, ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ৮০০ জন মার্কিন ইহুদি ভোটারের মধ্যে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

জরিপে দেখা যায়, মামদানির প্রতি ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও ইতিবাচক মনোভাবের হার ছিল ২১ শতাংশ।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের হার জরিপে ৪৫ শতাংশ হিসেবে উঠে এসেছে। অপরদিকে, রিপাবলিকান পার্টির নেট ফেভারেবিলিটি বা সামগ্রিক ইতিবাচক-নেতিবাচক মূল্যায়নের ব্যবধান ছিল ১৯ শতাংশ।

জিবিএওর জরিপে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যার প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের হার ছিল ৬১ শতাংশ।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানজানিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার রায় আজ, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


তানজানিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার রায় আজ, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : দীর্ঘ ১৯ মাসের কারাবন্দি জীবন কাটানোর পর আজ শুক্রবার তানজানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর ভাগ্য নির্ধারণের সময় এসেছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

এই মামলায় যদি লিসুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে লিসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সরকার বিরোধী রাজনীতিক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে নির্বাচনের সময় দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৫১৮ বলে জানিয়েছে তানজানিয়া সরকার।

লিসুর মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দারুস সালামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, রায় ঘোষণার ফলে নতুন করে অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লিসুর দল চাদেমা রায় ঘোষণার দিন বিপুলসংখ্যক সমর্থককে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, বুধবার এক বিবৃতিতে তানজানিয়া পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, কিছু ব্যক্তি অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী দারুস সালামে যাওয়ার জন্য লোকজনকে সংগঠিত করছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

লিসুর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন এবং অবিলম্বে লিসুর মুক্তি দাবি করেছেন।

তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগের চেষ্টা বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে।’

তানজানিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ট্রাচম্যানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি তুন্দু লিসুর বিচারপ্রক্রিয়ার ফলাফল এবং দেশটির আইনের শাসনের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

মূল ভূখণ্ড তানজানিয়ার ইতিহাসে এটি তৃতীয় কোনো আলোচিত রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের আরও দুটি মামলা হয়েছিল।

সেসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারেকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বর্তমান মামলায় লিসুর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

তানজানিয়ার নাগরিক সমাজের সংগঠন টওয়েজা ইস্ট আফ্রিকার পরিচালক আনা বওয়ানা এএফপিকে বলেছেন, ‘সবার মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে লিসুকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে—এখন মূল প্রশ্ন হলো, তাঁকে কী শাস্তি দেওয়া হবে।’

৫৮ বছর বয়সী লিসু এর আগে সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এবারই প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৭ সালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। ওই হামলায় তার শরীরে ১৬টি গুলি লাগে। পরে তাকে প্রায় ২০টি অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

লিসুর বিশ্বাস, ওই হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিল।

মামলার শেষ শুনানিতে তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আদালতকে নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান লিসু। আইনজীবী ছাড়াই নিজেই নিজের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি।

বিচারকদের উদ্দেশে লিসু বলেন, ‘আমার আশা, আপনারা আপনাদের বিচারিক শপথের মর্যাদা রক্ষা করে কোনো পক্ষপাত ছাড়াই সাহসিকতা ও মর্যাদার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। ইতিহাসের কাছে আপনাদের এই দায়িত্বের ভার অনেক বড়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%