ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আগামী তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা


আগামী তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে গভীর রাতে ফ্যানের গতিকে কমিয়ে আনা কিংবা শেষরাতে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া কাঁথা ইঙ্গিত করছে যে, শীত ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে। কংক্রিটের শহরে শীতের আগমনের শব্দ কিছুটা ধীর হলেও উত্তরের গ্রামগুলোতে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করেছে। সেখানে বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং নদীর তীরে ভোরের স্নিগ্ধ কুয়াশা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

প্রকৃতির এই শান্ত পরিবর্তনের মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর শীত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে। জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। সেইসঙ্গে কুয়াশা, লঘুচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আবহাওয়া অধিদপ্তর আবারও দুঃসংবাদ দিল, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস

অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন মাসের মধ্যে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে সেটাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে সেটাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

শৈত্যপ্রবাহ কখন এবং কোথায় বেশি হতে পারে, এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে জানান, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে, অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। সেইসব স্থানে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

তবে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: ঘাসের ডগায় জমছে শিশির, বদলাচ্ছে প্রকৃতি

এই তিন মাসের সময়ের মধ্যে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এর ফলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যেহেতু এল নিনো সক্রিয় এবং পৃথিবী উষ্ণ হয়ে আছে, ফলে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এর প্রভাব থাকবে। ফলে গড় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে। তবে কখনো কখনো তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে।

তিনি আরও জানান, শৈত্যপ্রবাহ থাকবে, কিন্তু অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনক্ষণ, সংখ্যা ও ব্যাপ্তি অনেকটাই কম থাকবে। এজন্য আমরা বলছি, এবারের শীতকাল কিছুটা ‘উষ্ণ’ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস

এছাড়া, এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে শৈত্যপ্রবাহ কয়দিন থাকবে, কয়বার হবে, এসব বিষয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে এবারের শীতকাল সার্বিকভাবে কিছুটা উষ্ণ থাকার আশা করা হচ্ছে।

শীতের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বাসস’কে জানান, আমাদের দেশে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছরই এ সময়টাতে লঘুচাপ তৈরি হয়। কখনো কখনো এটি শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।

তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়ন ঘটে। ক্রমশ দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে এবং বঙ্গোপসাগর বরাবর সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে।

আরও পড়ুন: সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সব বছর ঘটে না, মাঝে মাঝে ঘটে। এজন্য একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট (ক্ষণস্থায়ী) সিস্টেম।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টি আরও কমে আসবে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নভেম্বরে তিনটি লঘুচাপ ও দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কীভাবে তৈরি হয়, তা ব্যাখ্যা করে ড. মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে কতটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, এ সময় গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ থাকে। এর মধ্যে কিছু কখনো কখনো শক্তি সঞ্চয় করে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় চিত্রের ভিত্তিতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে বলে মনে করিয়ে দেন এই আবহাওয়াবিদ। তাই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আরও পড়ুন: পাঁচ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘চান্স পেয়েও ঢাবিতে ভর্তি হইনি’: নুসরাত জাহান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


‘চান্স পেয়েও ঢাবিতে ভর্তি হইনি’: নুসরাত জাহান

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মেয়ে নুসরাত জাহান, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি চবির ‘বি’ ইউনিটে ১৫তম, ‘ডি’ ইউনিটে ৩১৯তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘বি’ ইউনিটে ৭৬৬তম হয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পান।

তবে নুসরাত জীবনকে প্রচলিত ধারার বাইরে থেকে দেখতে পছন্দ করেন। তার বিশ্বাস, ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পেলেও জীবনের পথ কখনো শেষ হয় না। ঢাবি নিয়ে তার অতিরিক্ত কোনো আকর্ষণ ছিল না, বরং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতেন, “সবাই বলে ঢাবিতে চান্স পেয়ে দেখান, আমি ভর্তি না হয়ে দেখাব।”

নুসরাত জাহান মন্তব্য করেন, "আমি মনে করি জীবনে সবকিছুই এককটা পথ, অ্যাডমিশনে উত্তীর্ণ না হলেও যে জীবনের সব পথ বন্ধ হয়ে যেত এমন নয়। বরং, আরও নতুন নতুন দিগন্ত খুঁজে বের করতাম।" তিনি আরও জানান, ঢাবিতে ৭৬৬ তম হওয়ার পরও তার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খুব বেশি মুগ্ধতা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে জীবনকে একটু অন্যরকম করে দেখি, আমার মনে হতো ‘সবাই বলে চান্স পেয়ে দেখান। আমি ভর্তি না হয়ে দেখাব।’”

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও তার ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার ইচ্ছা ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তিনি এখানেই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল এবং তার বাবা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পারিবারিক যোগসূত্রও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের বাইরে ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছাও রয়েছে।

চবির এই শিক্ষার্থী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় চার মাস আগে তিনি প্রথম অ্যাডমিশন নিয়ে সচেতন হন। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়গুলো শুরু থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। তখন থেকে তিনি অ্যাডমিশন কেন্দ্রীক ধারণা নিতে শুরু করেন এবং এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ না হয় সেজন্যও চিন্তা করতেন। তিনি পুরো সময় রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছিলেন যেখানে কোনো ভালো কোচিং সেন্টারও ছিল না। তার পড়াশোনা ছিল সম্পূর্ণ অনলাইনকেন্দ্রিক।

তিনি বলেন, ঢাবি পরীক্ষার বহুনির্বাচনি অংশে তার ফল খুব ভালো হয়নি। মোটামুটি পাশ মার্ক নিশ্চিত করে তিনি দ্রুত খাতা জমা দিয়ে রিটেন অংশ ভালোভাবে লিখেছিলেন। চবির পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে প্রথমে মোটামুটি নিশ্চিত প্রশ্নগুলো দাগিয়ে ফেলতেন। এরপর চিন্তা করে ৫০/৫০ নিশ্চিত প্রশ্নগুলো দাগাতেন। কোনো প্রশ্ন নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করতেন না এবং পরীক্ষার শেষ সময়ের জন্য কিছু প্রশ্ন রেখে দিতেন। তিনি আশাবাদী থাকতেন এবং প্রশ্নপত্র পেয়ে প্যানিক করতেন না। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় দাগাতেন। এটাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরের কাউখালীতে ‘মাদককে না বলি, অবসর সময় খেলাধুলায় নিজেকে ব্যস্ত রাখি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আইরন জয়কুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আইরন জয়কুল ও মুক্তারকাঠি মানব কল্যাণ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম দীন মোহাম্মদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক এবং টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত তালুকদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ,উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন অলি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ, সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোয়াইব সিদ্দিকী এবং সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আজম আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মোট আটটি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে জয়কুল একাদশ ও গুয়াটন একাদশ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ট্রাইবেকারে ২-১ গোলে গুয়াটন একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জয়কুল একাদশ।
খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না: ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না: ত্রাণমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেছেন, নির্বাচন কমিশন যে পরিবর্তনগুলো নির্বাচন ব্যবস্থায় এনেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বলেন, "এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না।" মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় তরুণ, যুবক ও কৃষকেরা জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বারবার বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে, সেখান থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।" দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত না থাকলে অপরাধপ্রবণতা, অপশাসন ও অপব্যবস্থাপনা তৈরি হয়; তাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।"

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "আপনারা যার যার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দায়িত্বগুলো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। জনগণের সেবায় কোনো প্রকার অবহেলা সহ্য করা হবে না।"

মন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি দপ্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।" হাসপাতালগুলোকে সবচেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা বলেও তিনি জানান, সেখানে সবচেয়ে বেশি নোংরা পরিবেশ দেখা যায়। তিনি বলেন, "সুস্থ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে উল্টো অসুস্থ হয়ে ফেরেন।" এসব অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি প্রজন্মের ক্ষতি হলে পুরো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" সে কারণেই নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে চলাচলের গ্রামীণ রাস্তার মাঝে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ, চরম দুর্ভোগে কয়েকটি পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


কুলিয়ারচরে চলাচলের গ্রামীণ রাস্তার মাঝে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ, চরম দুর্ভোগে কয়েকটি পরিবার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছরের ব্যবহৃত চলাচলের একটি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাটিতে গাছের খুঁটি গেড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারসহ প্রায় ৪-৫টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ ও অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী ইজাজুল হক বাদী হয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে ব্র্যাক অফিস থেকে দক্ষিণ দিকে যাতায়াতের একটি পুরোনো কাঁচা রাস্তার ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৪-৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে আসছে। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে একই এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আসিফ মিয়া (৫৫) ওই রাস্তা মাঝে গাছের ৫টি খুঁটি পুঁতে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরাসহ এলাকাবাসী। বিশেষ করে বাদী ইজাজুল হকের ৩টি লেয়ার মুরগির ফার্মে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়াসহ মারাত্মক যাতায়াত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি পরিবার বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী ইজাজুল হকের পরিবার। দ্রুত এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এব্যাপারে ইজাজুল হকের প্রবাস ফেরত পিতা মো. জালাল উদ্দিন (৬৩) জানান, রাস্তাটি দেখেই তিনি তাঁর শ্বশুর বাড়ি এলাকা আগরপুর পূর্বপাড়ায় জায়গা ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। ৬ বছর মালোশিয়া ও দীর্ঘ ২০ বছর সৌদি আরব প্রবাসজীবন শেষ করে প্রায় ২ বছর আগে ওই জায়গায় তিনটি লেয়র মুরগীর খামার করে পরিচর্যা করে আসছেন তাঁরা। তাঁর দাবী তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও বিবাদী আসিফ মিয়ার সম্পত্তির উপর দিয়ে প্রায় ৫০ বছর আগে একটি গ্রামীণ রাস্তা তৈরী করে এলাকার মানুষ যাতায়াত করে আসছে। এত দিন এ রাস্তা নিয়ে কারো কোন অভিযোগ কিংবা সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে কোন প্রকার ঝগড়া ছাড়াই কেন বা কি কারণে দীর্ঘদিনের নির্মাণকৃত রাস্তাটির উপর প্রতিপক্ষ ৫টি গাছের খুটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে তা বুঝতে পারছিনা। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। অভিলম্বে এই রাস্তা থেকে খুটিগুলো অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মো. আসিফ মিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের জায়গায় আমি খুঁটি পুঁতেছি। এ নিয়ে সালিশ দরবারের কি আছে?

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় থেকে ভূক্তভোগী ইজাজুল হকের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%