০৯:৪৪ পি.এম
যশোর জেলায় গত ছয় মাসের মধ্যে এইচআইভি (এইডস) আক্রান্ত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন। এই সময়ের মধ্যে জেলায় নতুন করে আরও ৩৫ জনের শরীরে এই মরণব্যাধির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এক বিরাট অংশই সমকামী ও প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে ‘এইচআইভি, মানবাধিকার ও নৈতিক স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা’ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এই সভার আয়োজন করা হয় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে।
ওরিয়েন্টেশন সভা শেষে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই মরণব্যাধি এইডসে নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ৬ জন মারা যান। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন প্রবাসফেরত নাগরিক হিসেবে এবং ৫ জন যশোরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। আরও সমকামী ১০ জন রয়েছেন এবং বিভিন্ন সাধারণ মানুষ ৬ জনও আক্রান্ত।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২০০-এর বেশি লোকের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্তদের সকলের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
ডা. আহসান কবির বাপ্পি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ‘বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হচ্ছে। যদি এখনই যথাযথ কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধি না করা হয়, তবে এই সংক্রমণের মাত্রা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সঠিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে এবং নিয়মিত চিকিৎসায় এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় আলোচকরা বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের মানবাধিকার রক্ষা করা এবং নৈতিকতা বজায় রেখে স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা করা এখন সময়ের দাবি। আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করারও প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখে তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
ডাক্তার এ কে এম রাফিদ হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই ওরিয়েন্টেশন সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা, এইচআইভি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ডা. কানিজ ফাতেমা অ্যানি এবং হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন