০৯:২৬ পি.এম
একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
মালদ্বীপের নাগরিকদের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতার মাধ্যমেই শিক্ষা, কূটনীতি, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এমনটি আশা করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হাইকমিশনার।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘প্রথাগত কূটনীতির বাইরে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধনই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি।’
মালদ্বীপের প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এমএনইউ)-তে হাইকমিশনারের লেখা ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং অ্যান্ড নন-ওয়েস্টার্ন সফট পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক বইয়ের কপি উপহার দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনইউ’র উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদমের কাছে বইগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে, দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং’ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি বলেন, ‘এটি মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা ও অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের ওপর গঠিত একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার। মালদ্বীপে বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগণের অবদান এবং দুই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও জলবায়ু খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা এই বন্ধন শক্তির এক বাস্তব প্রতিফলন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে মেধা ও মনন বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্য একটি দারুণ সহায়ক হবে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সেমিনার ও বৃত্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে অশেষ সম্ভাবনা বিদ্যমান।
বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
বই উপহারের এই উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের প্রতি মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘উপহার পেয়ে পাওয়া বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সংযোজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে গবেষণায় এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করবে।’
উপাচার্য বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গভীর আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের একাডেমিক বিনিময় দুই বন্ধুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান হুসাইন হালিমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, অনুষদ সদস্য, গবেষকগণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ এবং মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি সুধীজনেরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন