০৬:৪৬ পি.এম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করার পর শ্বশুর মজিদ মোড়লকে কুড়াল দিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর জামাতা মোজাম্মেল হক, যিনি মুজা সরকার নামেও পরিচিত, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় এসে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেন। হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে জামালপুর বাজারের ভাঙ্গাড়িপট্টি এলাকায়।
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে সন্দ্বীপে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নিহত মজিদ মোড়ল পেশায় কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হক একই উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারার সঙ্গে মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোজাম্মেল মাদকাশক্ত হয়ে পড়ার পর থেকে যৌতুকের দাবিসহ বিভিন্ন অজুহাতে শাহানারাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে মজিদ মোড়ল কলার ছড়া নিয়ে জামালপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজারের ভাঙ্গাড়িপট্টি এলাকায় পৌঁছালে মোজাম্মেল পেছন থেকে এসে কুড়াল দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে একাধিক কোপ দেন। স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মোজাম্মেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আত্মগোপনে চলে যান। তবে শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল বাদী হয়ে মোজাম্মেলকে একমাত্র আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অভিযুক্ত আসামি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে অপরাধ স্বীকার করেছেন। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন