শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৮ পি.এম
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, অপ্রতিম হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা এই সময়ে ঘটতে পারে, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি এই ধরনের ঘটনার জন্য কোনো জবাব নেই বলেও উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, "অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না।" তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, "জাতির ইতিহাসে যে কয়টি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, এটি তার মধ্যে একটি।" এমপি মনিরুল হক চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় সবার বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, "এটা কোনো দেশ হতে পারে না, এমন অবস্থা চলতে পারে না।" তিনি অনুরোধ করেন, "অনুগ্রহপূর্বক এসব দিকে, এই কিশোর ছেলেদের দিকে নজর দিন; নইলে এ জাতিকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ আন্তর্জাতিক সর্প দংশন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে সর্প দংশন প্রতিরোধ ও চিকিৎসা এবং সাপ উদ্ধার ও অবমুক্তকরণ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. জুনায়েদ আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন সরদার, শাহ মখদুম কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম. রেজাউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী।
প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং সর্প গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন।
কর্মশালায় বক্তারা বাংলাদেশে বিষধর ও নির্বিষ সাপের ছবিসহ পরিচিতি ও প্রজাতিসমূহ, সাপেকাটা রোগীর সংখ্যা ও পরিসংখ্যান, সাপ কখন এবং কেন মানুষকে কামড়ায়, এন্টিভেনমের ব্যবহার ও কার্যকারিতা এবং সর্প দংশনের প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা পরিবেশের জন্য উপকারী প্রজাতির সাপ হত্যা না করে উদ্ধার ও অবমুক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষকবৃন্দ সাপ উদ্ধার, হ্যান্ডলিং এবং প্রকৃতিতে অবমুক্তকরণের বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এ সময় তারা সাপ উদ্ধারে নিজেদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়টি ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উন্মোচিত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল। মাহবুবা হাকিম তার হলফনামায় স্বাক্ষর করেন ১৯ এপ্রিল। পরবর্তী দিন ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ওয়েবসাইটে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার পরিচিতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
কিন্তু স্বাক্ষরিত হলফনামায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলএম, ব্যারিস্টার এট ল’ লেখা রয়েছে। যদিও দলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিচিতিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া তার অন্য কোনো উচ্চতর ডিগ্রির উল্লেখ নেই।
এদিকে সংসদ সদস্য হওয়ার পর মাহবুবা হাকিম বিভিন্ন বক্তব্যে নিজেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলেও নিজেকে প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার তথ্য রয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নতুন সম্মানীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। এছাড়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত ২০ মে বুটেক্স প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের ২৪ মার্চ কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিকে (বর্তমানে বুটেক্স) বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবা হাকিম অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা নয়; বরং নথি প্রস্তুতের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক বা টাইপজনিত ভুলের কারণে এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করা। তবে হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’ উল্লেখ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হলফনামা তৈরির সময় পূর্বনির্ধারিত একটি ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়। সেই ফরম্যাটে কাজ করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পূর্বের তথ্য থেকে কপি-পেস্টের মাধ্যমে এই ভুলটি ঘটে। ফলে প্রকৃত তথ্য থাকা সত্ত্বেও উপস্থাপনায় অসঙ্গতি দেখা দেয়।
এই তথ্য সামনে আসার পর নানা আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি আসলেই দলের ইচ্ছাকৃত ভুল, নাকি কপি-পেস্ট করতে গিয়ে ভুল হয়েছে? এবং এই তথ্য এত দিন পর সামনে আসার কারণই বা কী? আগে কেন এটি সামনে আসেনি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?
হলফনামায় ভুল তথ্য আসার কারণ জানতে চাইলে মাহবুবা হাকিম বলেন, নমিনেশন ফরম প্রস্তুতসহ মূল সনদ গ্রহণের দায়িত্ব দলের দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত ছিল। হতে পারে টাইপজনিত, অর্থাৎ করণিক ভুলের কারণে এখানে ‘ব্যারিস্টার এট ল’ এসেছে। হলফনামায় ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’-এর ওপর কলমের দাগ কাটা—আমি যেহেতু ব্যারিস্টার নই এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সনদ জমা দেওয়া হয়েছে, তাই হয়তো নির্বাচন কমিশন থেকেই যাচাই-বাছাইয়ের সময় সেখানে দাগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার প্রথমে এই ভুলটি নিয়ে কথা বলেছেন নমিনেশন ফরম নিয়ে কাজ করা দলের একজন। তার সপ্তাহখানেক পরেই গত সপ্তাহে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়ে একজন আমার সঙ্গে এই ত্রুটি নিয়ে কথা বলেন। তাকে যথাসম্ভব আমার পক্ষ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।
এত দিন পর এই তথ্যটি সামনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই তথ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো কিছুই বলা হয়নি। নিউজটি এভাবেও করা যেত—ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপির হলফনামায় ব্যারিস্টার এট ল কেন? হতে পারে আমাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে। কিন্তু তারা বুঝলেন না যে, বুটেক্সের একজন ইঞ্জিনিয়ার হলফনামায় ব্যারিস্টার পরিচয় দিয়ে কী লাভ, যেখানে আমি, আমার দল, বিভিন্ন মিডিয়া শুরু থেকেই আমার পরিচয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বলে আসছি। এই ঘটনার জন্য সরকারি দল থেকে আমার ওপর কোনো রকমই চাপ আসছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মামনি মার্কেটের আরাফাত টি স্টোরে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে দোকানদারের সাহসিকতা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে মার্কেটটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরাফাত টি স্টোরে থাকা একটি গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ হঠাৎ লিক হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
দোকানদার মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিক হয়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি প্রথমে দোকানের ভেতর থেকেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন,হঠাৎ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও পারিনি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসি। তখন খুব চিন্তায় ছিলাম এই বুঝি আমার জীবনের সম্বলটুকু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পাশের দোকানদার মো. রিপন বলেন, হঠাৎ পাশের দোকানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরিস্থিতি দেখে দোকানদারকে যেকোনোভাবে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দোকানদার জয়নাল আবেদীন ঝুঁকি নিয়ে সিলিন্ডারটি বাইরে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোফাজ্জল জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পান গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন জ্বলছে। পরে ভেজা চটের বস্তা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সিলিন্ডারটি নিরাপদ করা হয়।
তিনি জানান, জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে আগুন আশপাশের দোকান বা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সময়মতো জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নেওয়া না হলে আগুন পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারত। তবে দোকানদারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের সিলিন্ডারের সংযোগকারী পাইপ লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে একই ঘর থেকে পুলিশ প্রবাসী এক ব্যক্তির, তার স্ত্রী এবং দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত স্ত্রীর পরিবারের দাবি, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকার জান্নাকান্দি গ্রামের একটি বন্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, প্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশু।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একরাম হোসেন প্রায় দুই মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের কাছে যান। পরে ঘরের জানালার পাশে টিনের বেড়া কেটে দেখতে পান, ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে একরামের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং মেঝেতে তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রথমে প্রিয়াঙ্কার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকেও ইট দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন বলেন, "পাশেই ডেকোরেশনের কাজ করছিলাম। চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যাই। তখন দেখি ঘরের টিনের বেড়া কাটা। পরে তাকিয়ে দেখি একরাম ভাই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে আর ভাবী ও তার বাচ্চা নিচে পড়ে আছে।"
স্থানীয় তোফাজ্জল জানান, "রাতে পাশেই বক্স বাজছিল। সকাল ৯টা-১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে দেখা যায় একজন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আর দুজন নিচে পড়ে আছে। তাদের আর্থিক কোনো সমস্যা ছিলো না তবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা কেন তাদের দুপুর ১টার দিকে জানানো হলো। তারা বলছেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, "দুই দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে শুধু বলেছে, স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে। তবে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। আমার ধারণা, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।"
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, "আমার মেয়েকে এই বাড়ির যারা আছে, পুত্রা ঝিয়ারি (প্রিয়াঙ্কার দেবর, ও ননদ), ঝিয়ারির জামাই (ননদের জামাই) ষড়যন্ত্র কইরা মারছে। আমার জামাই (প্রিয়াঙ্কার জামাতা) এর সাথে কোনো অবনতি (অমিল) নাই এটা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।"
তার দাবি, প্রিয়াঙ্কার সাথে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, "মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ