০৭:৩৭ পি.এম
বোর্ড নির্ধারিত ফি দিয়ে ফরম পূরণের পর অ্যাডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, মার্কশিট এবং সনদের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়। পরে তারা বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও, অ্যাডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, মার্কশিট ও সনদ দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিচুর রহমান হাওলাদার এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ নসরুল আমীন গাজী বিদ্যালয়ের মার্কেট বরাদ্দ, ভর্তি ও ফরম পূরণ ফি, জমি-পুকুর ইজারা এবং সরকারি উন্নয়ন ফান্ড থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে ২০২৫ সালে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (সি.আর. মামলা নং- ৭৭৯)।
এমপিও নীতিমালায় সাময়িক বরখাস্তের কারণে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষককে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন ও তৎকালীন সভাপতি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বরখাস্ত করেন।
পরবর্তীতে বরখাস্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হলে গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বরখাস্তের নোটিশের ওপর ৩ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার বিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদানের পর থেকেই নানান রকম অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আজ শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে, আগামী এক সপ্তাহ পরে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন, এ ধরনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ সম্পর্কিত মিথ্যে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম বলেন, চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন