০৩:৩৬ পি.এম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বোমা-আতঙ্ক এবং সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সারা দেশে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এটি মূলত নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে জারি করা একটি ‘রিমাইন্ডার’ প্রমাণ।
শফিকুল ইসলাম রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বক্তব্য দেন। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়েও সমানভাবে সচেতন থাকে। তাই আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। সম্প্রতি কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা এবং কিছু ভুয়া গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। আমাদের সদস্য, যানবাহন ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সময়ে সময়ে এমন সতর্কতা জারি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আগেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ব্যবহৃত সব যানবাহন ও স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্য সদস্যদের আবারও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এটি মূলত একটি রিমাইন্ডার।’
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আছে কি না—এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, তেমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া ছাতাবোমা সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত করছে সিটিটিসি। আমরা সমান্তরালভাবে ছায়া তদন্ত করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত এককভাবে কেউ জড়িত থাকে না। কোনো না কোনো উদ্দেশ্য বা মতাদর্শ প্রচারের জন্য সংগঠিতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
এর আগে গতকাল শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে দায়িত্ব পালনকালে কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামাতে হলে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং তা পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে নিয়মিত এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন