সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
০৬:০৮ পি.এম
গুচ্ছ মেধাতালিকায় স্থান প্রাপ্ত অসচ্ছল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
রংপুরের ধর্মদাস, লক্ষণপাড়া নিবাসী কৃষক নুর নবী মিয়ার কন্যা ইশরাত জাহান নিশী জিপিএ 5 পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, এরপর গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।
কিন্তু পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে ভর্তি ফি প্রদানে অক্ষম হওয়ায় তার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের উপক্রম হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান নিশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আশ্বস্ত করে।
পরবর্তীতে আজ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান নিশীর ভর্তি ফি প্রদানের মাধ্যমে তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এ সময় শিক্ষার্থী ইশরাত জাহানের কাছে তার অনুভূতি জানতে চাইলে সে বলে " আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতি। তারা এই সংকট মুহূর্তে আমার পাশে না দাঁড়ালে হয়তোবা আমার উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন এখানেই থেমে যেতো। আমি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারতাম না। সর্বোপরি তাদের এই সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা আমার জীবনের পাথেয় হিসেবে আমি ধরে রাখবো। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আমার অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা। "
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ও দামে দ্বিতীয় ধাক্কা দিতে পারে ‘সুপার’ এল নিনো। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এর প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সুপার এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির একটি চরম জলবায়ুগত পর্যায়। খবর গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) পূর্বাভাসের ভিত্তিতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনোর চক্রটি বিশ্বজুড়ে বন্যা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে এটিকে ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এল নিনো ইতোমধ্যে ফসলের ওপরে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভারতে বর্ষা মৌসুম বর্তমানে শুষ্ক হয়ে উঠেছে। কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দেশের মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি গম, চাল ও আখের সরবরাহকে ব্যাহত করতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা একটি পরোক্ষ প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যয়ের এই সম্পর্ক দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। চূড়ান্ত পরিস্থিতি প্রকাশ পেতে পারে ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে।
ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের মতে, ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। এটি প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষতির সমান।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ফসল, যেমন- চাল, পাম অয়েল, চিনি ও কফির দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি মূলত ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে।
অতীত উদাহরণ থেকে দেখা গেছে, এল নিনো বারবারই ফসল উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের ভয়াবহ এক এল নিনোর কারণে চীন, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল, ব্রাজিল, মিশর ও ভারতে খরা দেখা দিয়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় রূপ নিয়েছিল এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। কেবল ভারতে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে ৬০ লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের জালান পেতালিং এলাকায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জাল জার্সি বিক্রির সাথে জড়িত এক বিশাল চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন)। এই অভিযানে ৫,৪০৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল জার্সি জব্দ করার পাশাপাশি পাঁচজন বাংলাদেশিকে এবং মিয়ানমারের একজন নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার সময় ওই এলাকার চারটি দোকান ও একটি গুদামে একযোগে পরিচালিত অভিযানে এই জালিয়াতি চক্রের খোঁজ মেলে।
তদন্তের সময় জানা গেছে, আটক হওয়া বাংলাদেশি ও অন্যান্য বিদেশি কর্মীরা মূলত বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। প্রতিটি নকল জার্সি মান বা গ্রেড অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০ রিঙ্গিতেরও বেশি দামে বিক্রি হতো।
জালান পেতালিং পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হওয়ায় সেখানে প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক প্রায় ১০০টি জার্সি বিক্রি হতো এবং প্রতিদিনের আনুমানিক মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার রিঙ্গিত। জব্দকৃত মোট জার্সির বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ১৫০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
কুয়ালালামপুরে কেপিডিএন-এর প্রধান প্রয়োগকারী কর্মকর্তা মোহা শাহারান মোহা আরশাদ জানান যে, আটকের বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক অ্যাক্ট ২০১৯-এর অধীনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো এই অবৈধ ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দোকানের মালিক এবং এই বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের যারা নিয়োগ দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারে ভাঙন ঘটেছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং প্রবল স্রোতের কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন বর্তমানে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হচ্ছে না।
কোনোভাবেই নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ভাঙন হতে পারে।
বিভিন্ন স্থান থেকে জানা যায়, এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা এ ব্যাপারে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনের ফলে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যায় এবং পানির প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এরপর ভাঙন কবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু हालिया সময়ে যমুনা নদীতে আবারও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কিছু স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে করেও জিওব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলের জমি এখন ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়। কিন্তু স্থায়ী ভাঙনরোধের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকা ক্রমাগত যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা চলছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউব নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাই নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা প্রবল বৃষ্টির ফলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আশেপাশের সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ের নিচতলাতেও হাঁটুসমান পানি জমেছে।
রোববার (১২ জুলাই) নয়াপল্টনে দৃশ্যমান হয় যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের পুরো সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।
ঘোলাটে এবং ময়লাযুক্ত পানির ফলে রাস্তা ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পথচারীরা জানিয়েছেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং রাজধানীর দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, রাস্তায় রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সড়কের দুই পাশের বহুতল ভবন ও দোকানপাটের সামনের অংশও পানির নিচে বা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে রিকশায় চড়ে কার্যালয় ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ