০৬:১১ পি.এম
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারে ভাঙন ঘটেছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং প্রবল স্রোতের কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন বর্তমানে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
কোনোভাবেই নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ভাঙন হতে পারে।
বিভিন্ন স্থান থেকে জানা যায়, এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা এ ব্যাপারে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনের ফলে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যায় এবং পানির প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
এরপর ভাঙন কবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু हालिया সময়ে যমুনা নদীতে আবারও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কিছু স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে করেও জিওব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলের জমি এখন ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়। কিন্তু স্থায়ী ভাঙনরোধের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকা ক্রমাগত যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউব নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাই নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন