ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধুনটে ভয়াবহ যমুনার ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ


ধুনটে ভয়াবহ যমুনার ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

 

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারে ভাঙন ঘটেছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং প্রবল স্রোতের কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন বর্তমানে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

কোনোভাবেই নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না।

রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ভাঙন হতে পারে।

বিভিন্ন স্থান থেকে জানা যায়, এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা এ ব্যাপারে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনের ফলে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যায় এবং পানির প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

এরপর ভাঙন কবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু हालिया সময়ে যমুনা নদীতে আবারও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কিছু স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে করেও জিওব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলের জমি এখন ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়। কিন্তু স্থায়ী ভাঙনরোধের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকা ক্রমাগত যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউব নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাই নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়

টানা প্রবল বৃষ্টির ফলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আশেপাশের সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ের নিচতলাতেও হাঁটুসমান পানি জমেছে।

রোববার (১২ জুলাই) নয়াপল্টনে দৃশ্যমান হয় যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের পুরো সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।

ঘোলাটে এবং ময়লাযুক্ত পানির ফলে রাস্তা ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পথচারীরা জানিয়েছেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং রাজধানীর দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া, রাস্তায় রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সড়কের দুই পাশের বহুতল ভবন ও দোকানপাটের সামনের অংশও পানির নিচে বা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে রিকশায় চড়ে কার্যালয় ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় দেশীয় মৎস্য চাষে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী শত শত নারী-পুরুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


কলাপাড়ায় দেশীয় মৎস্য চাষে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী শত শত নারী-পুরুষ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশীয় মৎস্য চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে গ্রামীন নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের আওতায় মাছ চাষের জন্য চুন, মাছের রেনু, ঝাকি জাল, ব্লু নেট, রাসায়নিক সার, অক্সিজেন মেশিন, মাছের খাবার এবং নগদ টাকা সহ বিভিন্ন প্রকার উপকরন প্রদান করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ। কলাপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিলুপ্ত প্রায় পুষ্টিসম্পন্ন প্রজাতির মাছ, যেমন মলা, পুটি, ভেটকি ইত্যাদি চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ৬৪ টি প্রদর্শনের আয়োজন করেছে এই সংস্থা। এর ফলে গ্রামীন নারী ও পুরুষেরা স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হয়েছেন।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মৎস্য খাতের ওপর মোট ৭৪টি কার্যক্রমের মধ্যে ৬৪টি প্রদর্শনী মৎস্য চাষীদের জীবনের মান উন্নয়নে সফলভাবে কার্যকর করেছে হীড বাংলাদেশ’র এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট। এর মধ্যে ১০টি মাছের পোনা চাষের জন্য, ১টি অক্স্রিজেনেটেড ভ্যান এবং ৫টি দ্রুত বর্ধনশীল জি ৩ রুই মাছের প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রদর্শনীগুলোর জন্য চুন, মাছের রেনু, ঝাকি জাল, সাইন বোর্ড, ব্লু নেট, রাসায়নিক সার, রেকর্ড বুক, অক্স্রিজেন মেশিন, ড্রাম, ভ্যান, ব্যটারী, বাকেট নেট ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছে। মাছের আইশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে ৩টি উদ্যোক্তা তৈরি এবং আইশ ক্রয় বাবদ নগদ টাকা, দা, বটি, প্লাস্টিক কন্টেইনার, পাটাতন, গ্লাভস, মশারী সহ বিভিন্ন প্রকার উপকরন সরবরাহ করা হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলুপ্তপ্রায় পুষ্টিসম্পন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের জন্য ৫টি প্রদর্শনী, বড় মাছ উৎপাদনে ১২টি, ভাসমান খাচায় মাছ চাষে ৫টি, মলা মাছের ব্লুড ব্যাংক ৫টি, এবং দেশীয় মাছ চাষে ১০টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে মলা, পুটি, রুই, তেলাপিয়া, ভেটকি মাছের পোনা সহ বিভিন্ন উপকরন প্রদান করা হয়েছে। মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণ ১টি, ফিস ফিডের উদ্যোক্তা ১টি, এবং ব্লাক সোলজার ফ্লাই দ্বারা মাছের খাবার তৈরীর জন্য ২টি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। এসব উদ্যোক্তাদের জন্য তিনটি ব্যাচে মোট ৬০ জন সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষে সব ধরনের উপকরন প্রদান করা হয়েছে।

সুফলভোগী কচিরা রানী, শিল্পি রানী, রমিন সরকার অভিযোগ করেছেন যে, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ তাদের দেশীয় মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিতে মাছ চাষের জন্য সব ধরনের উপকরন দিয়েছে। বর্তমানে তারা দেশীয় মাছের খামার করে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, কলাপাড়া উপজেলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে হীড বাংলাদেশ এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট গ্রামীন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মোট ৭৪ টি কার্যক্রমের মধ্যে ৬৪ টি প্রদর্শনী মৎস্য চাষীদের জীবিকার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগামীতে বাজেট সাপেক্ষে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালী ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


হরমুজ প্রণালী ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’: ইরান

হরমুজ প্রণালী ‘কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমার’ চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন মন্তব্য ইরানের নেতা মোহসেন রেজাই করেছেন।

একইসঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি রক্ষা করার কঠোর অঙ্গীকার করেছেন। রোববার (১২ জুলাই) তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে রেজাই বলেন, ‘এই কৌশলগত জলপথটি কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এটিকে রক্ষা করবে।’

রোববার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরু করেছে এবং তেহরান ঘোষণা করেছে যে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত’ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে।

এই ঘটনাগুলো ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে ইরান প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ওমানের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে, যা নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে তুলেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাধীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, আইনের মুখোমুখি হতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


অপরাধীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, আইনের মুখোমুখি হতে হবে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি সরাসরি আত্মসমর্পনের সুযোগ পাবেন না। তবে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে বা ফেরত আনা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে।

আজ রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরে একথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই আছেন। তাঁর সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই প্রতিবেশি দেশটিতে আছেন বলে বিভিন্ন সময় নিজেদের জানিয়েছেন।

এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীও ভারতে আছেন। গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে দেশের কিছু গণমাধ্যমও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি বছর ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা চিফ প্রডসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার তাঁকে ভারত সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তাঁর আসার কোনো সুযোগ নাই। হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।’ নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করেন আমিনুল ইসলাম।

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এরকম নজির নাই। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে সংগত কারণে তিনি প্রথমে জেলে যাবেন এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।’

এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করে বলা আছে, ৩০ দিনের পরে (রায় ঘোষণার) আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয় তা হবে।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ১০টি মামলার তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%