বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ পি.এম
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ মো. সেলিম খান (৩২) নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এই সফল অভিযানটি ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বুধবার রাত ৯:২০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম কাউনিয়া থানাধীন বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান চালায়। এসআই মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বাধীন টিমটি বিএসটিআই অফিসের সামনে চার রাস্তার মোড়ে পাকা রাস্তার ওপর ওত পেতে ছিল। এ সময় সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করে সেলিম খানকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে অবৈধ ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত মো. সেলিম খান শরীয়তপুর জেলার পালং থানার মনরা বাজার এলাকার (খান বাড়ী) মৃত রশিদ খান ও মৃত রহিমা খাতুনের পুত্র।
ডিবি পুলিশ জানায়, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সাথে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপির এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈশ্বিক সংঘাত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি সংকটের ফলে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক চাপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে জাতিসংঘ নারী সংস্থার (ইউএন উইমেন) আরও জোরদার সহযোগিতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং ইউএন উইমেনের উপ-নির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডার সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা যেন একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায় এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে ইউএন উইমেনের আরও সক্রিয়, কার্যকর এবং জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সরকারের ফিসকাল স্পেস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর শর্ত ও নীতিমালা কারণে অনুদান এবং সহজ শর্তের ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, এবং অনেক স্বল্পোন্নত দেশ এখন ঋণচাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নারী এবং কন্যাশিশুদের সুরক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদার করতে ইউএন উইমেনের কার্যকর ও সম্প্রসারিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, পরিবারে নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু, মেয়েদের স্নাতকোত্তর শিক্ষা অবৈতনিক করা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডা নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগকে একটি উদ্ভাবনী এবং নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করেন।
কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, লিঙ্গসমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের উপকূলে জুন মাসের শেষ বলে এবং জুলাই মাসের শুরুতে ঘটে যাওয়া পৃথক দুটি বড় নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও অধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় প্রতিবছর অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের যৌথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটতে পারে—এমন একটি প্রতিবেদনে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে, নৌকা দুটি জুন মাসের শেষ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই নৌকাগুলোতে মূলত দেশের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনসংখ্যার সদস্যরা ছিলেন।
এদের মধ্যে কিছু সদস্য বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে কক্সবাজারে ১০ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা শরণার্থী অত্যন্ত মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন।
প্রতি বছর উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বহু রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করেন। এসব যাত্রায় তারা প্রায়ই মানবপাচারকারী চক্র দ্বারা পরিচালিত জরাজীর্ণ নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী বহনকারী একটি নৌকার সঙ্গে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ঘটনাটি এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার সময় ৬ হাজার ৫০০ জনেরও অধিক রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই দুটি সংস্থা বলেছে, সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
একইসাথে, বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে সংস্থাগুলো। তবে তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটনার মূল কারণগুলোকে দূর করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এখন ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কফিনে শায়িত একটি বিশাল পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে। সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন পরই ইরান এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে।
তেহরানের প্রাণকেন্দ্র এঙ্গেল্যাব স্কয়ারে টানানো এই বিশাল বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিথর দেহ একটি কফিনে পড়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে, গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা এই লাশের চারপাশে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন বার্তা লেখা রয়েছে।
গত ৯ জুলাই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে ইরানকে। খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এই হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: মোহাম্মদ নূর
সারা দেশ যখন আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সীমান্ত সীমা পার হয়ে আসা চোরাই পণ্যের একটি বিশাল চালান জব্দ করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় কাতান শাড়ির এই বৃহৎ চালানটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে ৩ নং সুরমা ইউনিয়নের একটি চক্র ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করে। ম্যাচ চলাকালীন মানুষের তীব্র ব্যস্ততা ও মনোযোগের সুযোগ গ্রহণ করে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য সংগ্রহ ও পাচারের উদ্দেশ্যে তারা সক্রিয় ছিল।
এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় মাঠে নামেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দক্ষ টিম সুরমা ইউনিয়নের ষোলঘর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে উক্ত এলাকার মৃত মোহাম্মদ সুলতান আহমেদের ছেলে হোসাইন আজাদের বসত ঘরে তল্লাশি চালিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা ভারতীয় কাতান শাড়ির এই বিশাল চালানটি হাতেনাতে জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত শাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ (পিপিএম) জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে গেলেও তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ