ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি বাণিজ্যে ধস, কর্মহীন শত শত শ্রমিক


হিলি স্থলবন্দরে আমদানি বাণিজ্যে ধস, কর্মহীন শত শত শ্রমিক

দিন দিন উদ্বেগজনক হারে কমছে দিনাজপুরের হিলি বন্দরের আমদানি বাণিজ্য। কয়েক মাস আগে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে। এর ফলে বন্দরের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে এবং বন্দরের কয়েকশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায়ের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরে রাজস্ব ঘটতির পরিমাণ সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।

হিলি স্থলবন্দর উত্তরাঞ্চলের সব চেয়ে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একসময় এখানে হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ততা ছিল। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের পুরো ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ঠাসা থাকত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত-শত ব্যবসায়ী হিলি বন্দরে পণ্য কিনতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সে বন্দরে যেন সুনসান নীরবতা। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল নেই আর, আমদানিকারকদের আনাগোনা কমে গেছে। ফাঁকা পড়েছে ইয়ার্ডটি এবং আমদানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। কাজ অভাবে বন্দরের শত-শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং তাদের দিন কাটছে অলস সময়ে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু জানিয়েছেন, "ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য আমদানি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না।" এমন পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এ ছাড়া, পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানিও ব্যবসায়ীদের মতে আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেণ জানিয়েছেন, "এলসির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ার কারণে বন্দরে এই মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।" রাজস্ব আদায় কমে গেছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে জেন্নাত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


কুড়িগ্রামে জেন্নাত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ডাংঘাট বটতলী এলাকায় ওষুধ ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জেন্নাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর প্রতিবাদে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে স্থানীয়রা এবং নিহত জেন্নাতের পরিবারের সদস্যরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত জাহেদুল ইসলাম জেন্নাতের বাবা আব্দুস সাত্তার, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন, ছেলে শাকিবুল, অন্যান্য স্বজন ও প্রতিবেশিরা।

গভীর উদ্বেগের সাথে বক্তারা জানান, জেন্নাত হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামীসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার করে দ্রুত দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রাস্তা ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই দুপুরে বটতলী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জেন্নাতের সঙ্গে প্রতিবেশি লিয়াকত সরকার লিমনের কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দুপক্ষে সংঘর্ষ বাধে এবং প্রতিপক্ষের লোকজন জেন্নাতকে ঘটনাস্থলেই কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন নিহতের বড় ভাই জয়নাল আবেদীন রাজারহাট থানায় ২৮ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামীসহ বাকিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আধুনিক দাসত্ব ঠেকাতে আইন আরও কঠোর করছে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


আধুনিক দাসত্ব ঠেকাতে আইন আরও কঠোর করছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া আধুনিক দাসত্ব ঠেকাতে বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়বদ্ধতা আরোপ করতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর, বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধান আইন কর্মকর্তা এ ঘোষণা দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড জানিয়েছেন, নতুন আইনের আওতায় ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার) বেশি বার্ষিক আয়ের কোম্পানিগুলো যদি তাদের অস্ট্রেলিয়ার বাইরের সরবরাহ শৃঙ্খলে আধুনিক দাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম ও ঋণদাসত্ব প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মানুষ যথার্থভাবেই আশা করেন যে তারা যে পণ্য কিনছেন, তা যেন আধুনিক দাসত্বের ওপর নির্ভর করে তৈরি না হয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি দেশকে অতিরিক্ত শুল্কের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে জানায় যে, তাদের নিজস্ব আধুনিক দাসত্ববিরোধী কঠোর আইন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস এর প্রতিবাদ জানায়।

গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচার-সংক্রান্ত ২৮০টি অভিযোগ তদন্ত করেছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের আট বছর আগের 'মডার্ন স্লেভারি অ্যাক্ট' (আধুনিক দাসত্ব আইন) সংশোধন করে কোম্পানিগুলোর জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলে দাসত্ব প্রতিরোধে আইনি বাধ্যবাধকতা চালু করেছে। নতুন সংস্কারের ফলে, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা কোম্পানিগুলো যদি তাদের কার্যক্রমে আধুনিক দাসত্ব প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রস্তাবিত নতুন আইনের অধীনে, কোনো কোম্পানি যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা দাসত্ব প্রতিরোধে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিয়েছে, তাহলে সেটি তাদের পক্ষে আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া আধুনিক দাসত্ব আইনের আওতায় বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানার ব্যবস্থা চালু করবে অস্ট্রেলিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, যা ইতোমধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল হয়ে পড়েছে। সতর্কতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিতভাবে অনুসরণ করার জন্য এবং নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল এবং আকাশপথ বন্ধ করে দেয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে। একই সাথে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে পারে।

এ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায় যে, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাদাগিরি ভাঙতে চীন-রাশিয়া-উঃ কোরিয়ার হাত কি অস্ত্রের ট্রিগারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাদাগিরি ভাঙতে চীন-রাশিয়া-উঃ কোরিয়ার হাত কি অস্ত্রের ট্রিগারে?


মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত, অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ থাকায় এবং ইসরাইল–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দেওয়ায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরানের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া এবং অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্র কি সম্ভাব্য মার্কিন মোকাবিলার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে? মধ্যপ্রাচ্যে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক করিডোর ও কূটনৈতিক অবস্থান রক্ষার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য ভেঙে দিতে প্রয়োজনে কি তারা ইরানের পাশে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবে? এমন পরিস্থিতিতে কি চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মত মিত্র পরাশক্তিগুলো কি তাদের মিত্রশক্তি ইরানকে ও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের ট্রিগারে আঙ্গুল রেখেছে?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সালে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আইন পরিপন্থী অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে বাস্তবতা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে, তা বহু পুরোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ব্যাপক সামরিক হামলা, অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞ এবং সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান যে মাত্রার প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, তা এই সংঘাতকে কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সীমায় আটকে রাখেনি; বরং তা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভাণ্ডার। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বা অস্থিতিশীলতা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো রাষ্ট্রগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা কেবল কূটনৈতিক উদ্বেগের বিষয় নয়; এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

চীনের শিল্প অর্থনীতি বিপুল জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে বিকল্প কৌশলগত জোটকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও মার্কিন প্রভাববলয়ের বিরুদ্ধে অবস্থানকে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে এই তিন রাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব-নিকাশও নতুন মাত্রা পেতে পারে—এমন আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

ইরানের প্রতিরোধ যত দীর্ঘায়িত হয়েছে, ততই একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা নিয়ন্ত্রণ করা আগের মতো সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক নিজেদের শুরু করা ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ হামলাব কারণে ইরানের পালটা হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে নিজেরাই যুদ্ধ বিরতি করে। আবার সেই যুদ্ধ বিরতি নিজেরাই লংঘন করে ইরানে হামলার মাধ্যমে ইরানকে যেভাবে খেপিয়ে তুলেছে তার বিরুদ্ধে ইরানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পাল্টা মরণঘাতি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হামলার সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনার সামর্থ্য নতুন করে মূল্যায়নের দাবি সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় কিংবা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অথবা পরমাণু যুদ্ধের মত পরিণতির দিকে চলে যায়, তবে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া কি শুধু কূটনৈতিক সমর্থনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিজেদের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরানের পক্ষে আরও প্রত্যক্ষ অবস্থান গ্রহণ করবে?

এই প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও একক প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে, তবে তা এই তিন রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যকে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে? আবার বিপরীতভাবে, যদি ইরান এই সংঘাতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়, তবে তা কি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আজকের বিশ্বে যুদ্ধ শুধু ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা যুদ্ধবিমানের লড়াই নয়; এটি জ্বালানি, বাণিজ্যপথ, নিষেধাজ্ঞা, কূটনীতি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারেরও লড়াই। তাই ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতকে বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর প্রতিটি ধাপ বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন থেকেই যায়—মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত, অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মিত্র রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য ৩য় বিশ্বযুদ্ধের পক্ষ শক্তি হতে কি ইতোমধ্যেই সব সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং পরমাণু অস্ত্র সহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে? পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তবে তারা কি ইরানের পাশে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর অবস্থানে যাবে, নাকি বর্তমানের মতো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে?

এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি  থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বিশ্ব এখন আর একক আধিপত্যবাদী শক্তির নিয়ন্ত্রণে নেই - এটা মোটামুটি স্পষ্ট এবং বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্র এখন এক মেরুতে না থেকে বরং বহু মেরু বিশিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন এখন একটাই মধ্যপ্রাচ্যে যে মরণঘাতি যুদ্ধ শুরু হয়েছে সেই অধ্যায়ের শেষ কোথায়? তা কি পারমাণবিক যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে নাকি তার আগেই উভয়পক্ষ একটি যৌক্তিক সমাধানের পথ বেছে নেবে, নাকি যুদ্ধের মাধ্যমেই জয় পরাজয়ের ভিত্তিতে তার চূড়ান্ত সমাধান হবে, তা এখনো অনিশ্চিত; কিন্তু এর প্রতিটি মুহূর্ত বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ লিখে চলেছে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%