এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
০৬:৩৬ পি.এম
কুষ্টিয়ায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আশাদুল (৩২) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী উভয়েই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রোববার সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চরমিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশাদুল ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে খাবারের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আশাদুল শিশুটিকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আশাদুলকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘শিশুটিকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতব্বর বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়কে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে, একটি মামলার আসামিকে নিয়ে অভিযানে যাওয়ার সময় পুলিশের বাহন হিসেবে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে দ্রুত গতির কাভার্ড ভ্যান আঘাত করলে আহত হয়েছেন দুই পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই)সহ পাঁচজন। এ ঘটনায় পুলিশ কাভার্ড ভ্যানচালক-হেলপারসহ তিনজনকে আটক করেছে।
রবিবার (৭ জুন) ভোর সাড়ে ৩টায় টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
আটককৃতরা হলেন রুমান মিয়া (৪১), মাঈন উদ্দিন (৩৫) এবং রাকিব (২৩)। তাদের বাড়ি যথাক্রমে নোয়াখালী, রংপুর এবং নেত্রকোনা জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে পরবর্তী অভিযানে যাচ্ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
এ সময় হ্নীলা থেকে হোয়াইক্যংয়ের দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান সিএনজিটিকে সজোরে আঘাত করে। এতে এসআই জাফর আলম, এসআই মোরশেদ আলম, মামলার ভিকটিমের ভাই আলতাফ মোহাম্মদ খালেক, আটককৃত আসামি মো. মেহেদী এবং সিএনজি চালক মো. তৈয়ব আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে জাফর আলম, আলতাফ মোহাম্মদ খালেক ও মো. মেহেদীর আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়িটি জব্দ করে। একই সঙ্গে চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ওপেক প্লাস আবারও তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটটি জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবে।
উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাটিকে টানা চার মাস ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেক প্লাস হলো ওপেকভুক্ত দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ মিত্র তেল উৎপাদনকারীদের একটি জোট। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই জোটের প্রভাব রয়েছে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধজনিত সংকটের কারণে জোটের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। সেখানে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তাদের গ্রাহকদের পূর্ণ চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রায় ছয় দশক সদস্য থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় জোটটির ভেতরে চাপ আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ হলো সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া এবং ওমান। তারা এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দৈনিক উৎপাদন কোটায় প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল করে বৃদ্ধি করেছিল।
তবে বাস্তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোট উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়েনি। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জোটের গড় উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল।
অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই উৎপাদন ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল।
সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠকে জুলাই মাসের জন্য দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তাব উঠতে পারে। এটি জুন মাসে নেওয়া বৃদ্ধির সমান হবে। তবে জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু সমন্বয় করা হয়েছিল।
এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি, প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সব সূত্রই। তারা বলেছে, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
রবিবারের বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১ সদস্যের মধ্যে এই সাতটি প্রধান দেশ অংশ নেবে। একই দিনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পর্যায়ের আরেকটি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা খুব কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ঘটনার মধ্যে জমি ও টাকা নিজের নামে লিখে না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁকে আদালতে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ষোলঘরের কেয়টখালী এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াছিন সাগর (২৫) কিছুদিন ধরে তার বাবা মজনু খালাসীর কাছে জমি ও টাকা নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায়, গত ৫ জুন সাগর তার মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলায় মজনু আহত হন।
ঘটনার পর, অভিযোগ পেয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পরে ৬ জুন শ্রীনগর থানাধীন কেয়টখালী এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইয়াছিন সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মধ্যে মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাথী আক্তার নামে এক নারীর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া বাজারের একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেন।
জানা গেছে যে, মাঝালিয়া গ্রামের বাদল মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মাঝালিয়া বাজারে সাথীর দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চালানো তল্লাশিতে ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক বিক্রির অপরাধে সাথী আক্তারকে সেখানেই গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ