ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে আবারও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ


ভারতে আবারও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে, যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে শত শত শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণরা মিছিল শুরু করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া।

মিছিলের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল শান্ত। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ ব্যারিকেড বসালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানও ব্যবহার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দ্বারা প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ রঙের ধাতব ব্যারিকেডের এক পাশে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা এবং অন্য পাশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম পরা পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং পুলিশ তাদের আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ৭০তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) পরীক্ষা বাতিল করা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে তারা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে জলকামান ও লাঠিচার্জের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্ট মাস কেন রাশিয়ার জন্য সুখকর নয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


আগস্ট মাস কেন রাশিয়ার জন্য সুখকর নয়?

বিগত কয়েক দশক ধরে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে আগস্ট মাসটি একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে আসছে। সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই সময়টি ‘ব্ল্যাক আগস্ট’ বা আগস্টের অভিশাপ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রীষ্মের শেষভাগে যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশের রাজনীতি কিছুটা স্তিমিত থাকে, ঠিক তখনই রাশিয়ায় নেমে আসে একের পর এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ ও নাটকীয় সংকট। ব্রিটিশ সাংবাদিকতায় রাজনীতি ও খবরের আকালের সময়কে যেমন ‘সিলি সিজন’ বলা হয়, রাশিয়ার ক্ষেত্রে এই আগস্ট মাসটি তার ঠিক বিপরীত; এখানে এটি দেখা দেয় চরম অমঙ্গল ও ট্র্যাজেডির সংকেত হিসেবে।

রুশ ইতিহাসের পাতার দিকে তাকালে এই ভীতির যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায়। ৩৫ বছর আগে এই  আগস্ট মাসেই সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে একদল অনুগত কমিউনিস্ট শক্তিমত্তা দেখিয়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল। সেই ঘটনার ধাক্কাতেই শেষ পর্যন্ত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল শক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়ন। ঠিক তার সাত বছর পর ১৯৯৮ সালের আগস্টে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয় দেশটিকে। অভ্যন্তরীণ ঋণে দেউলিয়া হয়ে পড়ে রুশ সরকার এবং এক লহমায় ধসে যায় রুশ মুদ্রা রুবেলের মান। এর ঠিক পরের বছর, ১৯৯৯ সালের আগস্টে দাগেস্তান অঞ্চলে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সূচনা হয় দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের। এই যুদ্ধই রাজনৈতিকভাবে অখ্যাত, সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্ষমতার শীর্ষ অলিন্দে পৌঁছে দিয়েছিল।

১৯৯৯ সালের বর্ষশেষের রাতে বরিস ইয়েলৎসিনের আচমকা ক্ষমতা হস্তান্তরের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান ভ্লাদিমির পুতিন। তবে শক্ত হাতের শাসক হয়েও তিনি ‘আগস্টের অভিশাপ’ থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি। পুতিনের শাসনের একেবারে শুরুর দিকে, ২০০০ সালের আগস্টে ‘কুর্স্ক’ নামক পারমাণবিক সাবমেরিনটি ১১৮ জন নাবিকসহ সমুদ্রে তলিয়ে যায়, যা ছিল তার প্রশাসনের জন্য প্রথম বড় আঘাত। এর আট বছর পর, ২০০৮ সালের আগস্টে প্রতিবেশী দেশ জর্জিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রাশিয়া, যা পুতিনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির নগ্ন রূপ বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করেছিল।

চলতি বছরের গ্রীষ্মেও রাশিয়ার পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেন সীমান্তে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতরের দৃশ্যচিত্র বেশ বিষাদময়। ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং আমাজন-স্টাইলের বড় বড় ই-কমার্স লজিস্টিক সেন্টারগুলো আগুনে ছাই হয়ে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং পুনরায় নতুন করে সেনা তলবের গুজবে সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

এমতাবস্থায় আবার প্রশ্ন উঠেছে, রাশিয়া কি তবে আরেকটি ‘ব্ল্যাক আগস্টের’ মুখোমুখি? নির্বাসিত রুশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইলিয়া ভার্লামোভ সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় লিখেছেন যে, ইতিহাসজুড়ে  আগস্টের এই বিপর্যয়গুলোকে অনেকে কাকতালীয় মনে করতেই পারেন। কিন্তু সাধারণ রাশিয়ানরা সবসময়ই এই মাসটিকে এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে অপেক্ষা করে, বিশেষ করে যখন দেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। জ্বালানি সংকট, জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি, রুবেলের অব্যাহত অবমূল্যায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনের চাপ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে। এমনকি শীর্ষস্থানীয় এক রুশ অর্থনীতিবিদও সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, মস্কো এখন এক গভীর ‘সামাজিক সংকটের’ মুখোমুখি এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট ইউক্রেনকে হারিয়ে জয়ী হওয়া রাশিয়ার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে পরিচিত পত্রিকা ‘মোস্কোভস্কি কমসোমোলেৎস’ পর্যন্ত এই আগস্টের আতঙ্ক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যদিও তারা এর ব্যাখ্যায় জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্য নিয়েছে। পত্রিকায় লেখা হয়েছে, চন্দ্রগ্রহণ এবং প্লাুটো গ্রহের অবস্থানের প্রভাবে সমাজে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চারপাশের এমন গুঞ্জন ও ডামাডোলের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরের মতো সব শান্ত ও স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশীয় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের এক বৈঠকে তিনি ই-কমার্স জায়ান্ট ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর গুদামে ইউক্রেনীয় হামলার ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও কোম্পানির নাম উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকেন। পরিস্থিতি হাল্কা করে পুতিন দাবি করেন, এসব হামলায় দীর্ঘমেয়াদে দেশের কোনো সংকটজনক ক্ষতি হবে না বা হতে পারে না। ক্ষতিগ্রস্ত লজিস্টিক সেন্টারগুলো সরকারি সহায়তায় দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তবে সাধারণ রাশিয়ানদের কাছে এটি এখন স্পষ্ট যে, যুদ্ধের আঁচ সরাসরি তাদের পকেটে এসে লাগতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে উঠতে লড়াই করছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের অপসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবি তুলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। এর মাধ্যমে পুতিনের হাতে নতুন একটি রাজনৈতিক কার্ড তুলে দেওয়া হলো, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট পদের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশ্ন তুলে আসছেন।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য গোপন রেখে মস্কোয় হঠাৎ মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


তথ্য গোপন রেখে মস্কোয় হঠাৎ মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান

মস্কোর একটি বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান হঠাৎ করেই অবতরণ করেছে, আগাম কোনো তথ্য ছাড়াই। তবে বিমানটি কী ধরনের মালামাল বহন করছিল এবং এর মস্কো সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ক্রেমলিন।

 

এর তথ্য অনুযায়ী, ‘আরসিএইচ৪৫৫৫’ কলসাইন এবং ‘০৭-৭১৮১’ নিবন্ধন নম্বরের বিমানটি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় ১০টা ৪ মিনিটে এটি ভনুকোভো বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার থ্রি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান, যা দীর্ঘ দূরত্বে সেনাসদস্য, সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল বহনে ব্যবহৃত হয়।

 

বিমানটির সাম্প্রতিক ফ্লাইট ইতিহাস অনুযায়ী, এটি গত ২৩ আগস্ট রিগায় পৌঁছেছিল। এর আগে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প স্প্রিংস থেকে উড্ডয়ন করেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। এই ঘাঁটি প্রেসিডেন্টের বিমান পরিবহনসহ এয়ার ফোর্স ওয়ানের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

তবে, প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য থেকে বিমানটির মস্কো সফরের কারণ এবং এটি কী ধরনের মালামাল বা ব্যক্তিদের বহন করছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

 

ক্রেমলিনের এই অবস্থানের কারণে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানটির মস্কোয় অবতরণের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা আরো বেড়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসের কাছে ৭ বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক বানাবে ফ্রান্স-সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


প্যারিসের কাছে ৭ বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক বানাবে ফ্রান্স-সৌদি আরব

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ইউরো বা ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বিনোদনকেন্দ্র বা থিম পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।

সোমবার প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকের পর জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিমান চলাচল, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারিসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেরজি-পন্তোয়াজ এলাকায় তিনটি থিম পার্ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি পার্ক মাঙ্গা বা জাপানি কমিকভিত্তিক হতে পারে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবে সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগ শাখা কিদ্দিয়া।

প্রকল্পটি প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ প্রকল্পটিকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি ডিজনিল্যান্ড প্যারিসের মতো বৈশ্বিক পর্যায়ের একটি নতুন পর্যটন গন্তব্য তৈরি করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তার ‘চুজ ফ্রান্স’ উদ্যোগের সাফল্য হিসেবেও তিনি প্রকল্পটিকে তুলে ধরেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বিশ্বের সামনে চমক দেখানো এখনও শেষ হয়নি। সৌদি আরব ও কিদ্দিয়া ফরাসি দক্ষতার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মাঙ্গা ও ‘ড্রাগন বল জেড’ থেকে প্রকল্পের ভাবনা
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রিয়াদে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক থেকেই প্রকল্পটির ধারণার সূত্রপাত। ওই বৈঠকে দু’জনের মাঙ্গা এবং বিশেষ করে জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে সিরিজ ‘ড্রাগন বল জেড’-এর প্রতি আগ্রহের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

এরপর সেই আগ্রহ থেকেই প্যারিসের কাছে মাঙ্গাভিত্তিক একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের ধারণা সামনে আসে।

তবে শুধু বিনোদন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না দুই দেশের সহযোগিতা। সোমবারের অনুষ্ঠানে জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিমান চলাচলে অর্থায়ন, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায়ও জোর
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের জন্য একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা অভিপ্রায়পত্রও সই হয়েছে। এর আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রশিক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথা রয়েছে।

ফ্রান্সের জন্য সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবও ঐতিহ্যগত অংশীদারদের বাইরে নতুন কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে। ফলে রিয়াদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে প্যারিস।

সৌদি যুবরাজের সফরকালে ফরাসি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও দুটি বড় চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ফরাসি সামুদ্রিক লজিস্টিকস কোম্পানি সিএমএ সিজিএম সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের জেদ্দা ইসলামিক বন্দর উন্নয়নে সহায়তার জন্য ৪৩৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

এছাড়া রেল পরিবহন কোম্পানি আলস্টম রিয়াদ মেট্রোর জন্য ট্রেন সরবরাহ করতে ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

সৌদি যুবরাজের তৃতীয় ফ্রান্স সফর
মোহাম্মদ বিন সালমানের এবারের সফর ফ্রান্সে তার তৃতীয় সরকারি সফর। ঐতিহ্যগত অংশীদারদের পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সৌদি প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।

চলতি মাসের শুরুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটি ছিল সৌদি যুবরাজের প্রথম বিদেশ সফর।

অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট নিয়েও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও হরমুজ নিয়ে আহ্বান
যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে অবসানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

দুই দেশ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিকেও স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ফ্রান্স ও সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরব ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথিদের হামলারও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে তারা।

সব মিলিয়ে, প্যারিসের কাছে বিলিয়ন ডলারের থিম পার্ক নির্মাণের চুক্তির পাশাপাশি ফ্রান্স-সৌদি সম্পর্ককে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষার বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। এই আসামি বর্তমানে পলাতক ছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন নেকবর আলী প্রামাণিক, বয়স ৫৮ বছর। তিনি উপজেলার পৌর করিমপুর এলাকার হাজী ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির লোকমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তার গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয় পৌর করিমপুর এলাকা থেকে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত সালাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। সাজা ঘোষণার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে র‍্যাব। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পৌর করিমপুর এলাকায় হাজী ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির সামনের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%