ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙ্গামাটিতে সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা


রাঙ্গামাটিতে সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

রাঙ্গামাটি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অনিবার্য কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাঙ্গামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিটে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এটি বন্ধ রাখা হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা

এছাড়া, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটককে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে।

সাজেক জীপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত আজ সকালে বাসস’কে জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। সেখানে আনুমানিক ২-৩ হাজার পর্যটক অবস্থান করছিল। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্কর্টে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা থাকায় গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ, প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষজ্ঞদের জোর তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ, প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষজ্ঞদের জোর তাগিদ

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকায়, রোগটির বিস্তার রোধে সরকার ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল ওষুধ ছিটানো কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রকৃত প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস, কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ২৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকতে পারে। নভেম্বর মাসে প্রকোপ কিছুটা কমলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রথম কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা। কোথায় মশা বংশবিস্তার করছে, কোন ধরনের স্থানে লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে এবং মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রজননস্থল শনাক্ত না করে নির্বিচারে কীটনাশক প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

অধ্যাপক কবিরুল বাশার উল্লেখ করেন, এডিস মশা শুধু নর্দমা বা রাস্তার পাশে জন্মায় না। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ভবনের বেজমেন্ট ও পার্কিং এলাকা, ছাদ-বারান্দায় পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, পানির ট্যাংক এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ভবনের আড়ালে কিংবা দুই ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে জমে থাকা পানিও প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। এসব স্থান অনেক সময় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে রাস্তা ও নালা পরিষ্কার করলেও ভবনের ভেতরে থাকা প্রজননস্থল থেকে নতুন করে মশার বিস্তার ঘটতে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন মাসের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় শয্যা, পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, ফগিং, লার্ভা ধ্বংস এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ও হটস্পট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক র‌্যালি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ, মশকনিধনসংক্রান্ত তথ্য ও লার্ভা পরীক্ষার প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ডিএনসিসি কয়েকটি মোবাইল নম্বর চালু করেছে। নম্বরগুলো হলো—০১৭১৬-০৬৩৪২৫, ০১৭৭৩-৩৯৩২৭৬ ও ০১৭১৫-২৩৮৭৫৪।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের যুক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। মসজিদ-মাদরাসার ইমাম ও খতিব এবং স্কুল-কলেজের প্রধান ও অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ ও বারান্দায় কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। দক্ষিণ সিটির বর্ষা-পূর্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; এজন্য জনগণকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছড়ানো কিংবা মৌসুমি পরিদর্শন করে জরিমানা আদায় যথেষ্ট নয়। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত গাড়ি, ছাদে জমে থাকা পানি, খোলা ড্রাম, ফুলের টব ও ভাঙা পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেন। এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ লার্ভানাশক বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা জরুরি। বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে ২২ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা অঞ্চলে চলতি বছরে প্রায় ১৬ লাখ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিল ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশে সংক্রমণের চাপ থাকলেও অঞ্চলটিতে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের উদ্ধৃত তথ্যে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯০টির বেশি দেশে প্রায় ১৫ লাখ সংক্রমণ এবং ৫০০-এর বেশি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।

ড. মুশতাক হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গুরুতর রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

ড. কবিরুল বাশার বলেন, মশকনিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত জরিপের পাশাপাশি কীটনাশকের মান, প্রয়োগপদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল যাচাই করতে হবে। একই ধরনের ওষুধ বারবার প্রয়োগের আগে সেটি মশা নিধনে কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পানির পাত্র পরিষ্কার করা এবং বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিজ্ঞানভিত্তিক মশকনিধন, কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা ও জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর জন্য ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর জন্য ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কাছে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে। এটি প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে কার্যকর হবে।

এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সমন্বয়ের পরিকল্পনা আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার দীর্ঘদিনের প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অর্থবছরের মেয়াদ ১২ মাসের পরিবর্তে নয় মাস নির্ধারণ করে জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন অর্থবছর কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর আগেই, অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ফলে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতীয় উৎপাদন ও পরিসংখ্যানগত কাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সমন্বয় করতে হবে। আইবাস++, ভ্যাট ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থাগুলো নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং পরিসংখ্যানগত ও তথ্যপ্রযুক্তিগত কাঠামো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

পর্যালোচনার ভিত্তিতে কোথায় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন অর্থবছর ব্যবস্থায় সরকারি কার্যক্রমের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ নির্দেশনার আওতায় রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে এ নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন, আইন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অডিট, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং আইসিটি শাখাসহ বিভিন্ন শাখাকেও এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর মাধ্যমে নতুন অর্থবছর কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়াই এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাদু ভাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন: কেসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


দাদু ভাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন: কেসিসি প্রশাসক

খুলনা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু উল্লেখ করেছেন যে ভাষাসংগ্রামী এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই গণতন্ত্র ও জনগণের মুক্তির সকল আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন।

বুধবার, নগরীর পিটিআই জামে মসজিদে বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ দোয়া মাহফিলটি খুলনা মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য দাদু ভাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দাদু ভাইয়ের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি এই বর্ষীয়ান নেতার সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার আজীবন অবদানের কথা স্মরণ করেন।

এর আগে, বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে গিয়ে দাদু ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

দোয়া মাহফিল শেষে দলের নেতারা দাদু ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩১ অক্টোবর ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


৩১ অক্টোবর ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি

জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চের মূল দাবি হলো ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লংমার্চের সফলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লংমার্চের প্রথম পথসভার স্থান শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। পরিদর্শনের পর তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

পরিদর্শনের সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, এই প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ফরিদপুর অঞ্চল টিমের সদস্য ও ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরুদ্দীন, শরীয়তপুর জেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব হাশেমী, মাদারীপুর জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিকসহ আঞ্চলিক ও স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের পর নেতারা জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ এবং শরীয়তপুরের নাওডোবায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম পথসভাকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এতে সাধারণ জনগণের ব্যাপক সমাগম ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%