১১:১৪ এম
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি তীব্র বাকবিতণ্ডা সংঘটিত হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানাচ্ছে।
ফোনালাপে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' আখ্যা দেন এবং বলেন, বর্তমানে সবাই তাকে ঘৃণা করে। তার কর্মকাণ্ডের কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও বিপদগ্রস্ত করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: মঞ্জু: ৫ আগস্টও এনে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি
ফোনালাপের সময় ট্রাম্প বলেন, “তুমি উন্মাদ হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি কারাগারে থাকতে। আমি তোমাকে রক্ষা করছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। তোমার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।”
এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চান, “তুমি আসলে কী করছ?”
সূত্রগুলো জানাচ্ছে ট্রাম্প জানতেন যে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছিল এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উসকে দিচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।
নেতানিয়াহুর কাছে ট্রাম্প এক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, যদি বৈরুতে একটি বড় আক্রমণ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েল আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ট্রাম্প একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আক্রমণের পরিকল্পনাতেও অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ভ্রমণেচ্ছুদের জন্য নতুন পর্যটন ভিসার সুখবর
ফোনালাপের পর এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েল আপাতত সরে এসেছে।
পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি নেতানিয়াহু থেকে বৈরুতে বড় আক্রমণ না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন এবং নেতানিয়াহু সেনাদের পিছু হটার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানান।
ট্রাম্প একই বার্তায় বলেন, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন এবং তারা इসরায়েল ও ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। পরিবর্তে ইসরায়েলও হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। তবে এই সমঝোতা চলতি থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন কিন্তু ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল বৈরুতে আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান চলতে থাকবে বলেও জানান। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে যে কোন প্রেক্ষিত থেকে কিছু প্রাপ্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: এমপি রানু
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে থাকলেও পরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন উত্তেজনা ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ তেহরান চাইছে যে, যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত হোক।
এদিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ সম্মতি দিয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন: সবার আগে বাংলাদেশ, দিল্লি বা পিন্ডি নয়: প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন