ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভোরে দর্শকদের সঙ্গে খেলা উপভোগ করলেন এমপি সাঈদ আল নোমান


ভোরে দর্শকদের সঙ্গে খেলা উপভোগ করলেন এমপি সাঈদ আল নোমান

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে একই সারিতে বসে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান তুর্য্য। তিনি খেলা দেখতে এসে মন্তব্য করেন, "রাজনীতি নয়, খেলার আনন্দই মানুষকে একত্রিত করেছে। এমন মিলনমেলা বারবার হওয়া উচিত।"

আজ শনিবার ভোররাতে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও কেপ ভারডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ দেখতে গিয়ে তিনি হাজারো ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে বসে খেলা উপভোগের পাশাপাশি কুশল বিনিময়ও করেন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, "চট্টগ্রাম শহরের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী আজ একত্রে আনন্দ উপভোগ করতে এসেছে। এই আনন্দময় পরিবেশে আমাদের শক্তিটা বারবার উপলব্ধি করা প্রয়োজন। আজ এখানে কোনো রাজনীতি নেই, কোনো স্বার্থের চিন্তা নেই। শুধুমাত্র খেলা উপভোগ করার জন্য চট্টগ্রামবাসী এক জায়গায় হয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের ভাবায়-আমরা কেন বারবার এভাবে এক হতে পারি না।"

আরও পড়ুন: মহেশপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাই আব্দুর রহমান হত্যার অভিযোগ

তিনি জানান, "যখনই সুযোগ পাব, আমরা যেন এক হয়ে যেতে পারি। এটি কোনো রাজনৈতিক ময়দান নয়, এখানে কোনো দুরভিসন্ধি নেই। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের তরুণ সমাজের জন্য ভোর চারটায় খেলা দেখার একটি জায়গা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আমি সামান্য অবদান রাখতে পেরেছি, এটাই আমার আনন্দ। বরং তাদের সঙ্গে বসে খেলা দেখতে পেয়ে আমি গর্বিত, আনন্দিত ও পুলকিত।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং

মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে প্রাথমিকভাবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ সজিব।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ওইদিন রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ফোন করে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রায় ৪০ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়, পরে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

ভুক্তভোগী মো. এহসানুল হক বলেন, ‘আমাদের মা-বাবাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ফরমাল পরিচয়ের নামে আমাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক এবং প্রক্টরিয়াল টিম আমাদের উদ্ধার করেন।’

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, ‘রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে আমি ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাখালীতে পরিবহন কাউন্টার বন্ধের প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


মহাখালীতে পরিবহন কাউন্টার বন্ধের প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ

প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকার মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে বগুড়া মহানগরের ঠনথমিয়া বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ করেন ওই পরিবহনে কর্মরত শ্রমিক, হেলপার ও ড্রাইভাররা।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে একতা পরিবহনের ঢাকা-বগুড়া-নওগাঁ রুটের ঠনথমিয়া বাস টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

এর আগে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় ১ জুলাই বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারীরা। সংবাদ সম্মেলনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালীর কাউন্টার খুলে না দিলে বগুড়া-নওগাঁ সড়কে চলাচলকারী সকল কোচ পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন বেলা ১১টা থেকে ঠনথমিয়া বাস টার্মিনালে জড়ো হতে থাকেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রথমে তারা একতা পরিবহনের কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মহাখালীতে কাউন্টারটি বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর সাথে জড়িত শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার কর্মসংস্থান হারিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছে। প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ঈদ-উল-আজহার ১৫ দিনের মধ্যে কাউন্টার খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, আগে বন্ধ থাকা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার খুলে দিতে হবে। এরপর বগুড়া একতা পরিবহনের কাউন্টার খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে একতা পরিবহন কর্তৃৃপক্ষের অভিযোগ ঢাকা-বগুড়া রুটের মহাখালী বাস টার্মিনালে বগুড়া থেকে একাধিক কোম্পানির বাস চলে। তাই বন্ধ করে যেকোনো একটি কোম্পানি চলতে হবে। বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের অনেক এলাকা থেকে একতা পরিবহনের টিকিট কেটে রাখা অনেক যাত্রীরা এসে কাউন্টার বন্ধ দেখে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ময়মনসিংহে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’ অনুষ্ঠিত

দেশব্যাপী শিশু কন্যা ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’ এই স্লোগানে ময়মনসিংহে গান-কবিতা ও ফুটবল খেলার মাধ্যমে একটি প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। পরম্পরা নামে একটি সংস্কৃতিক সংগঠন নগরের চর বড়বিলা নীলের কুঠি এলাকার একটি মাঠে এই আয়োজন হাতে নেয়।

আয়োজকেরা জানাচ্ছেন, শিশু কন্যা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা থামছেই না। দেশব্যাপী এই ধর্ষণখেলার কারণে পিতা-মাতা ও সমাজের মাঝে ক্রন্দনকাল চলছে। আছিয়া থেকে রামিসা, রামিসা থেকে নিছামনি। এই গত চার মাসের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে একশোরও বেশি শিশুকন্যা। ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে খেলায় খেলায় এই আয়োজনের মাধ্যমে খেলাধুলায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একইসাথে ধর্ষণবিরোধী গান ও কবিতা সঙ্গেও আয়োজনটি পূর্ণ ছিল।

খেলাধুলায় তরুণদের লিপ্ত রাখা হলে তারা ধর্ষণ কিংবা অন্য কোনো সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে না, এ বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজনটি করা হয়েছে। চর বড়বিলা নীলের কুঠি গ্রামের কিশোর, তরুণ ও যুবকদের নিয়ে দুটি টিম গঠন করে ফুটবল খেলা আয়োজন করা হয়।

খোলা মাঠে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার তিন শিশুর ছবি প্রদর্শন করা হয়, যার পাশে লেখা ছিল ‘হয়তো ওরাও মাঠে থাকতো খেলা দেখতো। ওরা এখন কবরে’ এবং ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’। শুক্রবার দুপুরে ধর্ষণবিরোধী গানের মাধ্যমে আয়োজনটি শুরু হয়। ‘এ মানুষ মরলে পরে বিচার হবে কার’ গানের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মাঠে নামার প্রস্তুতি চলতে থাকে। ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী কাজটি করেছেন সাত বছরের এক শিশুকন্যা। একদিকে খেলা চলতে থাকে, অন্যদিকে ধর্ষণবিরোধী গান-কবিতা পরিবেশন চলতে থাকে। এতে শিশু-কিশোর ও বয়স্ক লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।

চরবড়বিলা গ্রামের বাসিন্দা আসকর আলী মন্তব্য করেছেন, “চারদিকে যেভাবে ধর্ষণের খবর পাই, কন্যা শিশুদের নিয়ে আমাদের সবসময় ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশ চাই।”

আয়োজনে গান পরিবেশনকারী স্থানীয় সংগীতশিল্পী খায়রুল ইসলাম (হীরক) জানান, “চারদিকে শিশু ও নারী ধর্ষণের খবর। টিভি, পত্রিকার পাতা ও ফেসবুক স্ক্রল করলে ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসে। সমাজটা এরকম চলতে পারে না। সমাজের বিকৃত মানুষের শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “শাস্তির পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। কোনো তরুণ-বক্তি খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির সঙ্গে থাকলে ধর্ষণ কিংবা মাদক গ্রহণ করতে পারে না। আমরা আমাদের গানে গানে আহ্বান জানাই, সমাজ থেকে ধর্ষক নাম মুছেযাক।”

আয়োজক সংগঠন পরম্পরার সভাপতি শামীম আশরাফ বলেন, “আমরা চাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের গর্জে উঠুক। বিশ্বকাপ ফুটবলের মৌসুম চলছে, ফুটবল মাঠ থেকেও প্রতিবাদ হোক। আমাদের শিশুরা সকল জায়গায় নিরাপদ থাকুক। শুধু আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচার নয়, সকল ধর্ষণ ও হত্যার বিচারও দ্রুততার সঙ্গে হওয়া উচিত।”

ধর্ষণবিরোধী ফুটবল খেলা শেষে দুই দলের মাঝে দুটি নিমগাছের চারা বিতরণ করেন কবি আলিমুল কারিগর। তিনি উল্লেখ করেন, “নিম গাছ প্রকৃতিতে অত্যন্ত নির্মল ও বিশুদ্ধ বায়ু দেয়। নিম গাছের বায়ুর মতো আমাদের সমাজও বিশুদ্ধ হোক, ধর্ষণ বন্ধ হোক এই কামনা।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচারের নামে অবিচার নয়, আইন মেনে জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


বিচারের নামে অবিচার নয়, আইন মেনে জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিচারের নামে অবিচার নয়, আইন মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহিদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন।

‘জুলাই ২৪ শহিদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন, যারা অন্যায় করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। তবে আমরা চাই, বিচারের নামে যেন আরেকটি অবিচার না ঘটে। বিচার হতে হবে ন্যায়সঙ্গত ও আইনের ভিত্তিতে।

তারেক রহমান বলেন, যাদের হারানো হয়েছে তারা আর কখনো ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে-এই পরিবর্তনের পেছনে শহিদদের আত্মত্যাগ রয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু জুলাই আন্দোলনে শহিদ হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহিদ হয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বড় করেছে। মানুষ চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র।

তারেক রহমান বলেন, একজন মা তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা হতে দেখেছেন, কেউ দেখেছেন সন্তানকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কেউ ভাইকে হারিয়েছেন। এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, আপনাদের কষ্ট অনুভব করতে পারি। শারীরিক যন্ত্রণা হোক কিংবা মানসিক কষ্ট আমি অন্তত উপলব্ধি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমরা দেশকে কী দিতে পারি। রাষ্ট্র যদি সব দাবি পূরণও করে, তবুও হারানো আপনজন ফিরে আসবে না, হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না, শারীরিক ক্ষতও পুরোপুরি মুছে যাবে না।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্ব করে বলতে পারবেন—আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

প্রতিশোধ চান না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যদি আজ আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গত ১৭ বছরে তার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তিনি কি তার প্রতিশোধ চান? আমি নিশ্চিত, তিনি বলতেন—প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাও।

একইভাবে নিজের ভাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিশোধ নিতে হবে কি না, আমি নিশ্চিত, সেও একই কথা বলত। দেশকে এগিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় জবাব।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন, তখন আপনাদের লক্ষ্য ছিল এই দেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচবে, অধিকার পাবে এবং নিরাপদে চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আজ যখন একটি পরিবর্তন এসেছে, তখন আমাদের ভাবতে হবে যে উদ্দেশ্যে মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কতদূর এগোতে পারলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী এবং শান্তিপ্রিয় সব মানুষের সম্মিলিত অর্জন।

এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ত্যাগ সে-ই করতে পারে যার ত্যাগ করার সাহস ও শক্তি আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তির কর্মীদের সেই সাহস আছে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আমি না, আমাদের মূল লক্ষ্য আমরা। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ, দেশের মানুষ এবং দেশের মাটি। জুলাই শহিদ, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের আন্দোলনের সব যোদ্ধার প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখাতে হলে তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সম্মেলন থেকে আমাদের শপথ হোক কোনো বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যাব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্মরণসভায় জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%