এস এম মাসুদ রানা (ত্রিশাল প্রতিনিধি)
০৩:৪৫ পি.এম
জন্মের পর থেকেই মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছে শিশু মো. নূর হোসাইন। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৫টি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় পরিবারটি। প্রতি মাসে দুই দফায় দুই ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয় তাকে। শুধু রক্তের পেছনেই প্রতি মাসে ব্যয় হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়।
সংসারের খরচ চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যেন পরিবারের কাছে এক অসম্ভব লড়াই। এমন সংকটময় সময়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত নূর হোসাইনের হাতে চিকিৎসা সহায়তার অনুদান তুলে দেন ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মিনহাজ।
জানা যায়, মোক্ষপুর গ্রামের হাফেজ মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. নূর হোসাইন। সে মোক্ষপুর হাফিজিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র। জন্মের কিছুদিন পর থেকেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত নূর হোসাইন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চিকিৎসাধীন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সে।
নূরের বাবা হাফেজ মো. রফিকুল ইসলাম মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক। সীমিত আয়ের এই মানুষটির পক্ষে সংসারের ব্যয় মেটানোর পর ছেলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতি মাসে দুইবার দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হয় নূরকে। শুধু রক্তের জন্যই মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটির ওপর জমেছে ঋণের বোঝাও।
ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে অসহায় বাবা এখন সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন। তার একমাত্র প্রত্যাশা অর্থের অভাবে যেন সন্তানের চিকিৎসা বন্ধ না হয়ে যায়।
এমন বাস্তবতায় নূর হোসাইনের পাশে দাঁড়িয়েছে ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী নূরের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অনুদান প্রদানকালে ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্য তপন চন্দ্র সাহা, এইচ এম জোবায়ের হোসাইন, মো. নাঈম, মাহবুব মুর্শেদ সোহান, খাইরুল বাশার, রুকুনুজ্জামান সরকার রাহাদ, আলহাজ মোশারফ হোসেন, গৌতম চন্দ্র দে, মাহবুব আলম উজ্জল, মনোরঞ্জন সরকার, আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মো. মুহতাসিম বিল্লাহ, এস এম মাসুদ রানা, মো. শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মিনহাজ বলেন, ‘নূর হোসাইনের চিকিৎসার বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। একটি অসহায় শিশুর চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে না যায় এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে নূরের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আরও সহজ হবে।’
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা নূর হোসাইনের চোখে এখন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে সমাজের মানবিক মানুষগুলোর একটু সহযোগিতাই হতে পারে তার পরিবারের জন্য বড় আশার আলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত রোববার (৯ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশে ডনকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা করেছেন। এই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে সালমান শাহের। তিনি সর্বদা দাবি করেছেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই চিত্রনায়কের পরিবারও একই অভিযোগে রয়েছে। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল যে, তাদের হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রোববার জানিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে একটি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আমরা জাজানে আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে সুনির্দিষ্টভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছি।’ তিনি এই হামলার উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূখণ্ডে সৌদি বাহিনীর সামরিক অভিযান এবং অনুপ্রবেশের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনেতা, সাংবাদিক, অবসরপ্রাপ্ত সেনা ক্যাপ্টেন, পরিচালক ও লেখক হাসান মাসুদ জানিয়েছেন, হজ পালনের পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতা জানান, এখন তিনি নিয়মিত অভিনয় করেন না। তিনি বলেন, কেবল বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে তাতেই যুক্ত হন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ তার বর্তমান জীবন এবং অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, "আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। আমি এখন আর অভিনয় করি না। একটা পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। এই কারণেই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। আমি একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।"
হাসান মাসুদ নিজের ধর্মীয় জীবনের পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানান, সম্প্রতি তিনি হজ পালন করেছেন। মক্কা ও মদিনায় তিনি ৪১ দিন কাটিয়েছেন। তবে তার পরিবর্তনটি হজ পালনের আগে থেকেই শুরু হয়েছে, জানান তিনি। তিনি বলেন, "আমি এবার হজ করেছি। যে কারণে ৪১ দিন ছিলাম ওখানে, মক্কা-মদিনায়। তবে আসলে আমার পরিবর্তনটা এসেছে আরও আগে থেকে। এখন পুরোপুরিই আমি পরিবর্তিত, সেটা বলতে পারেন।"
এছাড়া, অতীতে প্রচুর বই পড়লেও বর্তমানে আর বই পড়েন না হাসান মাসুদ। তিনি জানান, বেশি বই পড়ার কারণে নিজেকে অনেকটা যন্ত্রের মতো মনে হতো। তিনি বলেন, "বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি যে শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না।"
সে জন্য তিনি নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দেন। হাসান মাসুদ জানান, বইগুলো তিনি খুব কম দামে বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর বই পড়েন না।
এটি উল্লেখ্য যে, হাসান মাসুদ ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। সাত বছর পর ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন তিনি এবং এরপর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। প্রথমে দ্য নিউ নেশনে কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে দ্য ডেইলি স্টারে ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি, অভিনয়েও নিজের স্থান তৈরি করেন হাসান মাসুদ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর মেড ইন বাংলাদেশসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
তার অভিনয়ের মধ্যে হাউসফুল, ট্যাক্সি ড্রাইভার, এফডিসি, বউ, খুনসুটি, গ্র্যাজুয়েট, রঙের দুনিয়া, আমাদের সংসার, গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন ও বাতাসের ঘরসহ বিভিন্ন নাটক দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি, সংগীতের ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন হাসান মাসুদ। ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের 'আজকে না হয় ভালোবাসো' গানে তিনি কণ্ঠ দেন। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয়েছিল তার প্রথম গানের অ্যালবাম 'হৃদয়ঘটিত'।
ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় পার করার পর, হাসান মাসুদ বর্তমানে অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন। বর্তমানে ধর্মীয় জীবন ও নিজের ভিন্নভাবে সময় কাটানোতেই তার অধিকাংশ মনোযোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ করে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের একটি জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মাউন্ট ব্রোমোর কাছে অবস্থিত ব্রোমো টেংগার সেমেরু ন্যাশনাল পার্কে সোমবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭৬ হেক্টর (৪৩৫ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
সংবাদ সূত্র এএফপি জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য ওই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, এতদিন পর্যন্ত আগুনে কেউ আহত হয়নি এবং কোন স্থাপনা বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।
তিনি রোববার একটি বিবৃতিতে বলেন, খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের কারণে যেসব এলাকায় স্থলপথে দমকলকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে, সেখানে আগুন নেভাতে দুটি ওয়াটার-বোম্বিং হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘স্থলপথে যেসব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পৌঁছাতে এ অবস্থায় আকাশপথে অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ।’
২০২৩ সালে মাউন্ট ব্রোমোতে ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। এই সময়টি বিয়ের আগে ছবি তোলার সময় এক দম্পতি একটি ফ্লেয়ার জ্বালালে সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এল নিনো নামক আবহাওয়াগত ঘটনার কারণে দাবানল ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। ২০২৩ সালের দাবানলে পুড়ে যাওয়া এলাকার তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনা, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাসের গতি, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত এর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ