ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে আগৈলঝাড়ায় ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের দাবি


বরিশালে আগৈলঝাড়ায় ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের দাবি

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করা, অর্থ আদায় করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো সম্পর্কে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গত রোববার (১১ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ উত্থাপন করেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হাওলাদার এবং একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন যে, আগৈলঝাড়ার মোল্লাপাড়া গ্রামে জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্য প্রায়শই সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করেন। তার দাবি, তারা এই সময় স্থানীয় নয়ন ঢালী ও গৈলা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়ার শাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের আটক করেন।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

জাফর হাওলাদার আরো অভিযোগ করেন যে, আটকের পর তাদের মাদক দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে না পারলে, কিংবা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাদের সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাফর হাওলাদার আরও বলেন, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তার ছেলে নাদিম, প্রতিবেশী বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সাব্বির এবং শহিদুল হাওলাদারের ছেলে শিক্ষার্থী সোহাগকে বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।

তার অভিযোগ, জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ কয়েকজন সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে কথিত সোর্স নয়ন ঢালী ও শাহিন সরদারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

জাফর হাওলাদার জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসলেও তার বুঝে ওঠার আগেই ডিবি সদস্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে চলে যান। তার দাবি, পরে গভীর রাতে সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে ডিবির কথিত হয়রানির প্রতিবাদ করায় তার ছেলে নাদিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি

জাফর হাওলাদারের ভাষ্য, গৌরনদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজারসংলগ্ন ছয়গ্রামগামী সড়কের মুখ দেখানো হলেও, ওই ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া মামলার এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লালমিয়া হাওলাদার।

সংবাদ সম্মেলনে জাফর হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের এক মাছচাষি ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে সাদা পোশাকে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

তার দাবি, খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পাওয়ার পরও কাওসারকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকেও আদায় করা হয় অর্থ। একের পর এক ঘটনার পর কাওসারের মত অনেকেই ভয়ের কারণে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন জাফর হাওলাদার।

আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট

তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও এলাকায় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সরকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাফর হাওলাদার বলেন, তিনি তার ছেলে নাদিমকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে সাব্বির ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটকের পর ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লালমিয়া হাওলাদার নিজেকে ডিবি পুলিশের করা মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ওই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। কীভাবে তাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নয়েন বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে উপস্থিত হন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পালের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচিত নয়ন ঢালী। তিনি দাবি করেন, ১১ আগস্ট রাতের ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটে।

নয়ন ঢালীর দাবি, ওই রাতে আটক নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই আবজাল হোসাইনের সঙ্গে যখন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সংবাদকর্মীর পরিচয় জানার পর তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের উৎপাদনে ফিরছে সুদিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


রাজবাড়ীতে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের উৎপাদনে ফিরছে সুদিন

রাজবাড়ী, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম কারণ চায়না দুয়ারী জাল। চায়না কারেন্ট দুয়ারী জাল শুধুমাত্র দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সর্বনাশই করেনি, বরং দেশের নদ-নদী, খাল ও বিলে দেশি মাছ পাওয়ার ধারণা পাল্টে দিয়েছে।

জেলায় এমন এক সময় ছিল, যখন রাজবাড়ী জেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় ছিল সুস্বাদু ও দেশি মাছের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে নদ-নদী ও জলাশয়ের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। তবে কালের বিবর্তনে, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব, জলাশয় ভরাট হওয়া এবং প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার ফলে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

তবে গত কিছু বছরের মধ্যে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রচেষ্টার ফলে মাঠপর্যায়ে মৎস্য চাষীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরী হয়েছে। ফলে, বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলায় নদী, বিল, প্লাবনভূমি, পুকুর ও হাওর-বাওর মিলিয়ে মোট মৎস্য প্রজনন উৎপাদনের ক্ষেত্রের আয়তন ৪৪ হাজার ৮৮১ হেক্টর। ২০২৪-২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বছর জেলায় ৩৩ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এই জেলায় মোট মাছের চাহিদা ২২ হাজার ২৩৯.৮৬ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় ১১০১২ মেট্রিক টন বেশি উৎপাদন হওয়ায় উদ্বৃত্ত মাছ চাষিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে থাকেন।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পুনরায় চাষাবাদের জন্য ৬টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় ১টি, কালুখালী উপজেলায় ২টি, পাংশা উপজেলায় ১টি এবং বালিয়াকান্দিতে ২টি রয়েছে।

মৎস্য সংশ্লিষ্ট ও চাষিরা জানান, আমাদের এলাকায় গত কিছু বছর আগে দেশি কই, শিং, মাগুর, টেংরা ও পাবদার মতো মাছের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বর্তমানে আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে বদ্ধ পুকুরেও এসব মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বাসসকে জানিয়েছেন, অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় সরকারিভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় কেউ মাছ ধরার সাহস পায় না। এর ফলে ‘মা’ মাছ ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা অভয় আশ্রম প্রতিষ্ঠার আগে সম্ভব ছিল না। এর ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও এখানকার সুফোলভোগী মৎস্য চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দেশি কই, শিং, মাগুর, বাইন, গুতুম, চান্দা, টেংরা, পাবদা, ঢেলা ও মলা জাতের মাছের চাষ ও উৎপাদন বাড়ার ফলে বাজারে আবারও এই মাছগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তানভিরুল ইসলাম জানান, দেশি প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপন, পোনা অবমুক্তকরণ, চাষিদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ যদি চলতে থাকে, তবে আগামীতে দেশি মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা অনেক প্রজাতি আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ আমিষের চাহিদা যেমন পূরণ করবে, তেমনি মাংসের ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে আনবে। শুধু মাছের চাহিদা পূরণ করেই নয়, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল হক বাসসকে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণের পাশাপাশি বদ্ধ জলাশয় ও পুকুরে দেশি প্রজাতির মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও মৎস্য চাষিদের আয় বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে ৯০০ কেজি দুর্গন্ধযুক্ত ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


জামালপুরে ৯০০ কেজি দুর্গন্ধযুক্ত ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড

জামালপুরের নরুন্দি বাজার এলাকার বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় প্রায় ৯০০ কেজি (২২ দশমিক ৫ মণ) দুর্গন্ধযুক্ত ঘোড়ার মাংস ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দ করেছে। এই ঘটনায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপ ভ্যানের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নরুন্দি বাজারের মিরাপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার হানচারপাড় গ্রামের জুয়েল (৪০), টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার ডোবাকান্দি গ্রামের শহীদ মিয়া (৪০), চরদোবাকান্দি গ্রামের আলফাজ মিয়া (৪৫), মধুপুর থানার শোলাকুড়ি গ্রামের হুমায়ুন (৪৭) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বাটকুল গ্রামের রাসেল মিয়া (৩০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানায়, ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে জব্দ করা প্রায় ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী তুলশীরচর ইউনিয়ন থেকে মাংসের বস্তাগুলো নিয়ে একটি পিকআপ মিরাপুর ঘাট এলাকায় আসে। গাড়ি থেকে বস্তাগুলো নামানোর সময় মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা পিকআপটি আটক করে নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করে। এ সময় গাড়িতে থাকা ১৩ বস্তা মাংস উদ্ধার এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, জব্দ করা মাংসগুলো পিকআপে করে ঢাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ইরান হামলার পর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবছে অনেক দেশ: তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


ট্রাম্পের ইরান হামলার পর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবছে অনেক দেশ: তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান হামলার পর বিশ্বের অনেক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে, বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’। এই হামলায় বিরোধিতা করার মত কিছু নেই, তবে এটি বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও উসকে দিয়ে চলেছে।

শনিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য প্রকাশ করে। রেজাই জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্যপদ কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলা—কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো দেশ আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ও কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিও ওয়াশিংটন লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানকে নিজেদের সামরিক এবং কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও কূটনীতির ক্ষেত্রেও তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

তিনি আরো যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা থেকে সরে যাওয়া এবং ইরানের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক নীতি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে সাকিব হত্যা, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮; উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


চট্টগ্রামে সাকিব হত্যা, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮; উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় মোহাম্মদ সাকিব (২২) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. ইমনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। মামলার বিভিন্ন আসামিদের গ্রেপ্তারের এই অভিযানটি হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চায়নিজ কুড়াল ও একটি সুইচগিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন প্রধান আসামি মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) এবং মো. ফয়সাল (২৩)।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় র‌্যাব-৭-এর চান্দগাঁও মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৭-এর কম্পানি কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত সাকিব চান্দগাঁও বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলে চাকরি করতেন। ঘটনার ৮ থেকে ১০ দিন আগে ইমন আদনান নামের এলাকার এক যুবকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়েছেন। সাকিব এর প্রতিবাদ করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ফোনটি আদনানকে ফিরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন ও তাঁর সহযোগীরা সাকিবের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন।

গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সাকিব প্রতিবেশী নাবিল হাসান জিসানকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন।

অটোরিকশাটি চান্দগাঁও থানার মোহরা কামাল বাজার এলাকার লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান নেওয়া ইমন ও তাঁর সহযোগীরা রিকশাটির গতিরোধ করেন।

এ সময় ইমন সাকিবের শার্টের কলার ধরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এরপর তাঁর সহযোগীরাও সাকিবের শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাকিবকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাকিবের বাবা মো. নজুম উদ্দিন বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর র‌্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%