০৫:৩৯ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করা, অর্থ আদায় করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো সম্পর্কে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গত রোববার (১১ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ উত্থাপন করেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হাওলাদার এবং একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন যে, আগৈলঝাড়ার মোল্লাপাড়া গ্রামে জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্য প্রায়শই সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করেন। তার দাবি, তারা এই সময় স্থানীয় নয়ন ঢালী ও গৈলা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়ার শাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের আটক করেন।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
জাফর হাওলাদার আরো অভিযোগ করেন যে, আটকের পর তাদের মাদক দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে না পারলে, কিংবা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাদের সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাফর হাওলাদার আরও বলেন, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তার ছেলে নাদিম, প্রতিবেশী বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সাব্বির এবং শহিদুল হাওলাদারের ছেলে শিক্ষার্থী সোহাগকে বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।
তার অভিযোগ, জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ কয়েকজন সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে কথিত সোর্স নয়ন ঢালী ও শাহিন সরদারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
জাফর হাওলাদার জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসলেও তার বুঝে ওঠার আগেই ডিবি সদস্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে চলে যান। তার দাবি, পরে গভীর রাতে সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে ডিবির কথিত হয়রানির প্রতিবাদ করায় তার ছেলে নাদিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি
জাফর হাওলাদারের ভাষ্য, গৌরনদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজারসংলগ্ন ছয়গ্রামগামী সড়কের মুখ দেখানো হলেও, ওই ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া মামলার এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে জাফর হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের এক মাছচাষি ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে সাদা পোশাকে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
তার দাবি, খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পাওয়ার পরও কাওসারকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকেও আদায় করা হয় অর্থ। একের পর এক ঘটনার পর কাওসারের মত অনেকেই ভয়ের কারণে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন জাফর হাওলাদার।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট
তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও এলাকায় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সরকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাফর হাওলাদার বলেন, তিনি তার ছেলে নাদিমকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এসে বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে সাব্বির ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটকের পর ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লালমিয়া হাওলাদার নিজেকে ডিবি পুলিশের করা মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ওই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। কীভাবে তাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নয়েন বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে উপস্থিত হন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পালের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচিত নয়ন ঢালী। তিনি দাবি করেন, ১১ আগস্ট রাতের ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটে।
নয়ন ঢালীর দাবি, ওই রাতে আটক নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই আবজাল হোসাইনের সঙ্গে যখন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সংবাদকর্মীর পরিচয় জানার পর তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন