১২:১৯ এম
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে কফির অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেকেই দিনের শুরুতে এক কাপ কফি পান করে ঘুমের ভাব দূর করে সতেজতা অর্জন করেন এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করেন। কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে না, বরং নিয়মিত ও পরিমিত কফি পানের মাধ্যমে বেশ কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। আসুন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি—
১. শরীরে শক্তি জোগায়
ক্যাফেইন কফির প্রধান উপাদান, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে ক্লান্তি কমানোর পাশাপাশি শরীর ও মনের কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টরকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ডোপামিনসহ কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন গ্রহণের পর সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়ামের সময় অংশগ্রহণকারীদের ক্লান্তি অনুভব করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লেগেছে এবং তারা কম ক্লান্তিও অনুভব করেছেন।
২. টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে
নিয়মিত কফি পান এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর মধ্যে সম্পর্কের কথা বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক কাপ কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৬ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষকদের মতে, কফি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই কোষগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করে।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
৩. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে
কফি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ফলাফল একেবারে একমুখী নয়। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ আলঝেইমার ও পারকিনসনসহ কয়েকটি নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
১৩টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণকারীদের মধ্যে পারকিনসন রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু গবেষণায় আবার দেখা গেছে, ক্যাফেইন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে রোগটির অগ্রগতিও তুলনামূলক ধীর হতে পারে।
এ ছাড়া পরিমিত কফি পানের সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য কিছু মস্তিষ্কসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমার সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
কিছু গবেষণা বলছে, কফি শরীরে চর্বি জমার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। এসব কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে কফির কিছু ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
১২টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় বেশি কফি পান এবং শরীরের চর্বির পরিমাণ কম থাকার মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। অন্য একটি গবেষণায় নারীদের মধ্যে কফি পানের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে শরীরের চর্বি কমার সম্পর্ক দেখা গেছে।
এ ছাড়া প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ কফি পানকারীদের শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও এক কাপের কম কফি পানকারীদের তুলনায় বেশি বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে কফিই সরাসরি কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
৫. বিষণ্ণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে
কফি পানের সঙ্গে বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমানোর সম্পর্কও কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন অন্তত চার কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্ণতার হার প্রতিদিন মাত্র এক কাপ কফি পানকারীদের তুলনায় কম ছিল।
তবে কফি সরাসরি বিষণ্ণতা কমায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাই কফিকে কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন