বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ সরকারকে রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে তিনি এ বিষয়ে একটি স্টাটাস দেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এই দেশে পাথর ছুড়ে অন্ধ করে দেওয়াও কিছু মানুষের কাছে বিনোদন! কী অমানবিক এবং ভয়ানক অসুস্থ সমাজে আমরা বসবাস করছি। চলন্ত ট্রেনে প্রায়ই পাথর নিক্ষেপ এবং অন্ধ হওয়ার মতো নির্মম ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। যারা এই অমানবিক অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের অধিকাংশই ঝরে পড়া কিশোর।
এই নৃশংসতা থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি বাড়ানো, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, রেললাইনের পাশের মসজিদের ইমাম, আলেম ও সচেতন নাগরিক সমাজেরও এই বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে উদ্যমী তরুণেরা মাঝে মাঝে পাহারার ব্যবস্থা করতে পারে।
তিনি বলেন, রেল তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত মাধ্যম। লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলপথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।
একই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি আরও লেখেন, পাথর ছোড়া শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর লক্ষণ। যখন একটি কিশোর অন্যের চোখ নষ্ট করে আনন্দ খুঁজে পায়; তখন বুঝতে হবে সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়—পরিবার, শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক পরিবেশেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, একই সমাজে আমরা কিশোর গ্যাং, মাদক, পর্নোগ্রাফির প্রভাব, আত্মহত্যার প্রবণতা, সহিংসতা ও নানা বিকৃত আচরণের উত্থানও দেখছি। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; একই অবক্ষয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাই শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যদি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় প্রায় ৫২ বছর ধরে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত আছে। ১৯৭৪ সাল থেকে মালয়েশিয়া মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলের সঙ্গে কোন ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশের ভেতর প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা মালয়েশিয়াকে একটি হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি কুয়ালালামপুর ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রশিক্ষণ তহবিল স্থগিত করবে।
কিন্তু এই মার্কিন হুমকির প্রতি মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘‘মালয়েশিয়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করছে’’। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একইসাথে, যারা মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ইসরায়েলি নাগরিক তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে। খবর দ্য সাউথ চায়না পোস্টের।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, মালয়েশিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের নির্বাসিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সেরেম্বানে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’’। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখানে যেকোনও ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতির বিরুদ্ধে; ইহুদিদের বিরুদ্ধে নয়’’। কারণ তিনি দাবি করেন, ‘‘ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিন ও গাজায় হত্যা, অপরাধ এবং নিপীড়ন ও উপনিবেশায়নে জড়িত’’।
এর আগে, মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি পাঠান ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্যরা, যেখানে বলা হয় যে আনোয়ার ইব্রাহিম শুধুমাত্র জাতীয়তার কারণে আমেরিকার এক ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের নাগরিকদের ‘খুঁজে বের করে বহিষ্কার’ করার অঙ্গীকার করেছেন। এই আইনপ্রণেতারা রুবিওকে জানান, আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (International Military Education and Training programme) মাধ্যমে মালয়েশিয়া মার্কিন প্রযুক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা সহায়তা লাভ করেছে।
চিঠিতে তারা মালয়েশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান। এছাড়া কুয়ালালামপুরকে ১৫ দিনের মধ্যে তার নীতি পরিবর্তন না হলে ওই কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করারও অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে মালয়েশিয়ার অস্বীকৃতি উদ্বেগজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারকে হামাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তারা বলেন, ‘‘হামাস হলো একটি ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী’’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তারা জানান, হামাসের যোদ্ধারা মালয়েশিয়ার মাটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেন। তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন আইনপ্রণেতারা হুমকি দিতে পারে, কিন্তু আমি মালয়েশিয়ার জনগণের অধিকার কঠোরভাবে রক্ষা করব’’।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘‘মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমরা আমাদের অধিকার প্রয়োগ করি’’। তিনি বলেন, ‘‘আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে মালয়েশীয়রা নারী-পুরুষের মর্যাদাকে সম্মান করে’’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরেস্ট সিটির প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নোম্যাড কমিউনিটি 'নেটওয়ার্ক স্কুল'কে কেন্দ্র করে একটি তদন্তের সূত্রে বিতর্কের সূচনা হয়। অনলাইনে অভিযোগ ওঠে যে, ইসরায়েলিরা দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সেখানে বসবাস করছে। আনোয়ার ইব্রাহিম তখন বলেন, যদি ওই প্রযুক্তি কমিউনিটিতে কোনও ইসরায়েলি নাগরিক পাওয়া যায় তাকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে।
পরে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্মকর্তারা ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশিকে তদন্ত করে প্রথমে দেখে যে, সকলের কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে ১১ জনের ক্ষেত্রে, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জোহর কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্ক স্কুলের লাইসেন্স বাতিল করে এবং কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, এই পদক্ষেপটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাধারণত ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট নিয়ে প্রয়োগ প্রক্রিয়া জটিল। এই সাম্প্রতিক বিতর্কটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উত্তেজনাকে পুনরজ্জীবিত করেছে, যখন আনোয়ার ইব্রাহিম সংসদে বলেন হমাসকে নিন্দার বিষয়ে অস্বীকৃতির কারণে মালয়েশিয়া তিনটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র পেয়েছে। ১৩ ও ৩০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবাদপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল এবং মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ওয়াশিংটনে তলব করা হয়েছিল।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, এই বিতর্ক কুয়ালালামপুরের বৃহত্তর সম্পর্ককে ক্ষতি করবে না। তিনি বলেন, ‘‘ফিলিস্তিন ও গাজায় নিরীহ মানুষ হত্যার নিন্দা জানাতে ভীত হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়’’।
এদিকে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের মতে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে মার্কিন পণ্য বাণিজ্য ৮৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি ১৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। টেলর’স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র লেকচারার জুলিয়া রকনিফার্ড বলেন, শুধুমাত্র এই বিরোধ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কে ফাটল ধরানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, এই সম্পর্কগুলো বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনার দ্বারা গঠিত হয়। তবে, রোকনিফার্ড ক্ষতিটা বলছেন, এই বিরোধ ফিলিস্তিন ও গাজাসহ আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের চেষ্টায় অংশগ্রহণের জন্য মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ৮ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই কথা বলা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, আবহওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের সব বিভাগে আগামী কয়েক দিন দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল বুধবার ভিডিওকাণ্ডে অভিযুক্ত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি পাঠিয়েছে দলটি।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দলের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে এ কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যেই এ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের সহযোগিতা বাড়ানো, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা-উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সুশাসন ও মাননিশ্চিতকরণ।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ বিষয়ে আরো বলেন, খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।
এরপর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের রূপরেখা ইউজিসির কাছ থেকেই আসা উচিত। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, বরং তাদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জাতীয় উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ