মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৫ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের মিষ্টি, দুধ ও পানির বোতল দিয়ে আপ্যায়ন করা হলেও অভিযান শেষে কী ধরনের অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভৈরব বাজারের জে আই ইমপ্রেক্স প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুনের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সাংবাদিকরা অভিযান পরিচালনার কারণ এবং প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন বলেন, অভিযান শেষে এ বিষয়ে জানানো হবে।
তবে অভিযান চলাকালে জে আই ইমপ্রেক্সের পক্ষ থেকে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের মিষ্টি, দুধ ও পানির বোতল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম চলার পর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নথিপত্র এবং কিছু মালামাল জব্দ করেন। পরে জব্দকৃত নথি ও মালামাল কাস্টমস বিভাগের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
অভিযান শেষে সাংবাদিকরা আবারও কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, কী কী নথি ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
তবে এসব প্রশ্নের বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্বে থাকা যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। পরে কাস্টমসের পুরো দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সরকারি রাজস্ব আদায়কারী একটি সংস্থার অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন এবং অভিযান শেষে নথিপত্র ও মালামাল জব্দ করে কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে আপ্যায়নের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা বা জব্দ কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে কাস্টমস কর্মকর্তারা আসলে কী পেয়েছেন?
কোন নথিতে অসংগতি পাওয়া গেছে, কী ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি বা শুল্ক-ভ্যাট সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য রয়েছে কি না এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযান সম্পর্কে জে আই ইমপ্রেক্সের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি শুভ জয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কাস্টমস ও এক্সাইজ বিভাগের কর্মকর্তারা যেভাবে অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন, অভিযানের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি কোনো সংস্থার অভিযানের ক্ষেত্রে কী কারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কী পাওয়া গেছে, কী জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের জানার আগ্রহ ও অধিকার রয়েছে।
জে আই ইমপ্রেক্সে কাস্টমসের এ অভিযানেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযানের শুরুতে ফলাফল জানানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? কী কী নথি ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে? প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে? এবং অভিযানের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে কি না?
এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া গেলে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ফলাফল নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম.এজি. ওসমানীর জীবন, কর্ম, গৌরবগাঁথা, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০২-এর আওতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি অত্যন্ত হতাশ ও লজ্জিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রবীণ কিছু মানুষ, যাদের বয়স ৭০-৮০ বছর, তারা বক্তা ও শ্রোতা ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় এ ধরনের আয়োজন যথাযথভাবে হচ্ছে না। এমনকি স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে একটি লাইনও আছে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের মূল প্রবেশদ্বারের নাম ‘এম.এ.জি. ওসমানী গেট’ করার মাধ্যমে তার প্রতি জাতীয় ঋণ পরিশোধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে পাঠ্যবইয়ে জেনারেল ওসমানীর জীবনসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব, গৌরবগাঁথা, কীর্তি, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উষালগ্নে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। অবসর জীবনে দূরে সরে থাকার বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে ইতিহাসে বিরল নজির স্থাপন করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর সরকারে মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেও তিনি জাতির সামনে আরেকটি নজির স্থাপন করেন।
তিনি জেনারেল ওসমানীর বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ওসমানী সিলেটে পড়াশোনা শেষে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রনেতার দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি কর্মকর্তা না হয়ে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। ব্রিটিশ সরকারের জেন্টেলম্যান ক্যাডেট কোরে যোগ দিয়ে ১৯৩৯-৪০ সালে সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যের শিকার হয়ে ওসমানী দীর্ঘদিন একই কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেনারেল ওসমানীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ তাকে নির্বাচনে প্রার্থী করে এবং তিনি বিজয়ী হন। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্যান্টনমেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও প্রাথমিক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন।
নোটিশের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদ সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন, যাতে জাতির একজন বীর সন্তানের কাহিনি সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
স্পিকার নোটিশটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সরাসরি মনিরুল হক চৌধুরীকে জবাব দেওয়ার এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে দালাল চক্রের ১৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দিনভর কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩২ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।
ওই তালিকার ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে দুই হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩২ জনকে আটক করার পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন তারা। এরপর ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র কথা বলে তাদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন।
পুলিশের ভাষ্য, দালালদের এমন প্রলোভনে পড়ে অনেক রোগী ও স্বজন হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতেন। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় ও সাধারণ রোগীরাই এসব দালালের প্রধান টার্গেট ছিলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি হাসপাতাল এলাকায় কোনো ধরনের দালালচক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. তৈমোর হোসেন খান।
মঙ্গলবার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, তৈমোর হোসেন খানকে অন্য যেকোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব পদে যোগদানের তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল বা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ওই মার্কিন সাবমার্সিবলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আটক করা যানটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির মানববিহীন সাবমার্সিবল, যাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যানটির মডেল, আকার, পরিচালন পদ্ধতি কিংবা এটি কী ধরনের নজরদারি বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটির ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি বাহিনী।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান যে মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল আটক করেছে বলে দাবি করেছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনও সামরিক তৎপরতা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এই জলপথের প্রবেশমুখে মার্কিন কোনও মানববিহীন সামুদ্রিক যান আটক করার ইরানি দাবি সত্য হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মানববিহীন সাবমার্সিবল সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক বা প্রযুক্তিগত মিশনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইরান যে যানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটির নির্দিষ্ট সক্ষমতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বক্তব্য প্রচারিত হলেও ঘটনাটির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আটক করা যানটির ছবি বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিটির বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এমন দাবি এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ